২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে সিঙ্গাইর উপজেলা প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করলেন মানিকগঞ্জ নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ডেল্টা প্লাস’নিয়ে কেন এত শঙ্কা গোটা বিশ্বের? রাশিয়াকে উড়িয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করলো ডেনমার্ক সিঙ্গাইরে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, নগদ এজেন্ট মালিককে অর্থদণ্ড প্রথম দিনে নাম নিবন্ধন করেছে ১৯৪জন পাসপোর্ট নাম্বার বিহীন লেবানন প্রবাসী সিঙ্গাইরে ট্রাকচাঁপায় মটরসাইকেল চালকের মৃত্যু একদিন নয়, প্রতিদিন হোক বাবা দিবস ব্র্যাকের মানবিধকার ও আইন সচেতনতা বিষয়ক মতনিময় সভা পরীমনির বাসা যেন মদের বার, প্রতিদিনই বসে আসর

আজ কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের জন্মদিন

মোবারক হোসেন:

আজ ৮ সেপ্টেম্বর জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের ৬৬তম জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এই দিনে তিনি বিক্রমপুরের লৌহজং থানার ‘মেদিনীমণ্ডল’ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার লেখা অনবদ্য উপন্যাস ‘নূরজাহান’ তাকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।যা আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়। শুধু তা-ই নয়, নূরজাহান উপন্যাসটি একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই অসাধারণ উপন্যাসের জন্য তিনি ভারতের আইআইপিএম-সুরমা চৌধুরী স্মৃতি আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা এশিয়ার সাহিত্য পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

২০০৫ সালে ইমদাদুল হক মিলন জাপান ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘তাকেশি কায়েকো মেমোরিয়াল এশিয়ান রাইটারস লেকচার সিরিজে’ বাংলা ভাষার একমাত্র লেখক হিসেবে জাপানের চারটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বাংলাদেশের সাহিত্য এবং তার নিজের লেখা নিয়ে বক্তৃতা করেন।

নব্বইয়ের দশকে সাহিত্য রচনার পাশাপাশি তিনি নাট্যকার হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার লেখা দুই শতাধিক নাটকের মধ্যে কোন কাননের ফুল, বারো রকম মানুষ, রূপনগর, যত দূরে যাই, যুবরাজ, কোথায় সে জন, আলতা, একজনা, নীলু, তোমাকেই, আঁচল, খুঁজে বেড়াই তারে, কোন গ্রামের মেয়ে, মেয়েটি এখন কোথায় যাবে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা পায়। এ ছাড়া অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, বাঁকা জল, নিরন্নের কাল, পরবাস, কালোঘোড়া, নেতা যে রাতে নিহত হলেন, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র, একাত্তর, সুতোয় বাঁধা প্রজাপতি, যাবজ্জীবন, মাটি ও মানুষের উপাখ্যান, পর, কেমন আছ সবুজপাতা, জীবনপুর প্রভৃতি তার বিখ্যাত বই। বাংলাদেশের সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তার ভূমিকা ব্যাপক।

লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। বর্তমান তিনি কালের কণ্ঠের সম্পাদক। বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনের নতুন দিকপাল বিশেষ করে উপন্যাস ও ছোটগল্পের অনন্য পুরোধা ইমদাদুল হক মিলনের শৈশব কেটেছে বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে। তিনি ঢাকার গেণ্ডারিয়া হাই স্কুল থেকে এসএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি এবং অনার্সসহ অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর হাতেখড়ি ১৯৭৩ সালে ‘বন্ধু’ নামে ছোটগল্পের মাধ্যমে। তখন তিনি উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। এরপর প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন’ বাংলা একাডেমী সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এই উপন্যাস পাঠকমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কাটিয়েছেন জার্মানিতে। সেই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা নিয়ে রচনা ‘পরাধীনতা’ তাঁকে পেঁৗছে দিয়েছে খ্যাতির শীর্ষে। অবশ্য প্রথম গ্রন্থ ‘ভালবাসার গল্প’ (১৯৭৭) থেকেই তিনি বিপুলভাবে সংবর্ধিত, পাঠকপ্রিয়। বাংলাদেশের সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ভূমিকা ব্যাপক। ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার এরই স্বীকৃতি।লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার, এসএম সুলতান পদক, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন পদক, শেরেবাংলা পদক, টেনাশিনাস পুরস্কার, জাপান বিবেক সাহিত্য পুরস্কার, কলকাতা চোখ সাহিত্য পুরস্কার, জাপান রাইটার্স অ্যাওয়ার্ড, মাদার তেরেসা পদক, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন