২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • আনোয়ারায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও দুদক বরাবর চিঠি




  • আনোয়ারায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও দুদক বরাবর চিঠি

    আনোয়ারা প্রতিনিধি : সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজ শুরু করেছে সরকার। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজ চলছে। তবে এখানে জরিপ কাজে নিয়োজিত সরকারি সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জমির মালিকানা, শ্রেণী ও সীমানা পরিবর্তনের কথা বলে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগীরা।

    উপজেলার বটতলী গ্রামের পূর্ব তুলাতলী মৌজার ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে অর্থ, আর তা না পেলে জরিপ কর্মীরা জমি খাস অথবা প্রকৃত মালিক বাদ দিয়ে অন্যের নামে রেকর্ড দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। জরিপ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরে সুজন, মোহাম্মদ ইকবাল, মোহাম্মদ ইয়াছিন, মোহাম্মদ রহিম, মোহাম্মদ বেলাল ও মোহাম্মদ কাইয়ূমসহ জরিপ কাজে নিয়োজিত সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভূক্তভোগীরা।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীধাম রায়ে দত্তের এক লক্ষ, সবুজ কান্তি দেবের ৫৫ হাজার, অলক দেবের ৩৩ হাজার, সজীব দত্তের ২৫ হাজার, শ্যামল চৌধুরীর ৪০ হাজার, সাগর দেবের ২০ হাজার ও ইন্দ্রজিং দত্তের কাছ থেকে ২০ হাজারসহ আরো কয়েক শতাধিক ভূক্তভোগী ভূমি মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের ঘুষ নিয়েছেন। ডিজিটাল ভূমি জরিপ কর্মীরা ডা. অমৃত রঞ্জন দেবের ৫৬৫ নামজারী খতিয়ানে ৯৬০-১০৪৯ দাগের ভূমির পরিমাণে অসাঞ্জস্যভাবে জনৈক আবু জাফর নামক ব্যক্তির ভূমির পরিমাণ বেশী  দেখিয়ে একাধিক খসড়া খতিয়ান সৃজন করে ১ লক্ষ টাকা দাবি করলে ৫৫ হাজার টাকা আদায় করেও প্রকৃত জরিপ করে নাই। অপর আরেক জনের বিএস রেকর্ডীয় মালিক দীনেশ চন্দ্রের ২০০ নং বিএস খতিয়ানের ভূমি দুই ওয়ারিশ টবু রঞ্জন চৌধুরী ও রঘু রঞ্জন চৌধুরী স্বত্ত্বাধিকারী থাকিলেও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে খসড়া শুধু মাত্র টবু রঞ্জন চৌধুরীর নামে খসড়া খতিয়ান সৃজন করে। সংশোধনের বিনিময়ে আরো ১০ হাজার টাকা দাবি করেন তারা। এছাড়াও বিএস রেকর্ডীয় মালিক রঘু রঞ্জন চৌধুরীর নামীয় একক বিএস ২৯০ খতিয়ানের বিপরীতে নতুন সৃজিত খসড়া খতিয়ানে রঘু রঞ্জন চৌধুরীর নামে অর্ধেক সম্পত্তি দেখাইয়া মূল খতিয়ান বহির্ভূত একাধিক লোকের নামে খসড়া খতিয়ানে উল্লেখ করে।

    অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, বিএস চূড়ান্ত জরিপে ১০৯ নং খতিয়ানে ৫৮ জন অংশীদারের নাম উল্লেখ থাকিলেও যে ১০ জনের নিকট হইতে ঘুষ আদায় করেছে তাদের নাম উক্ত খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে জরিপ কার্মীরা। বারবার ভূমি জরিপ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা ভূক্তভোগীদের পাত্তাই দেয়নি। শুধু পূর্ব তুলাতলী নয়, ডিজিটাল ভূমি জরিপ কর্মীদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে ইতিমধ্যে জরিপ কাজ শেষ হওয়া প্রতিটি মৌজার চিত্র একই।
    হয়রানির শিকার সবুজ কান্তি বলেন, সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারগণ ডিজিটাল ভূমি জরিপে তুলাতলী এলাকার লোকজন থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি।

    বিষয়টি অস্কীকার করে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, জরিপ কাজে টাকা নেয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। এটি একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে আমাদেরকে নিয়ে।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমদের বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছেও একটি অভিযোগ করেছে। আগামী ২৯ জুলাই এ ওপর শুনানি করা হবে। শুনানিতে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সে গুলো প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন