১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • ‘আমি কী অপরাধ করলাম! যে অপরাধে আমার লাইফটাই শেষ হয়ে গেল: পাপিয়া




  • ‘আমি কী অপরাধ করলাম! যে অপরাধে আমার লাইফটাই শেষ হয়ে গেল: পাপিয়া

    যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়াকে আদালতে রিমান্ড শুনানিতে দেখা গেল কখনো বিস্মিত, কখনো বিমর্ষ চেহারায়; কখনো তার কণ্ঠে ঝরল ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কার কথা। সোমবার বিকালে ঢাকার হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি চাওয়া হলে বলেন, ‘আমি কী অপরাধ করলাম! যে অপরাধে আমার লাইফটাই শেষ হয়ে গেল।

    পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী নরসিংদী এলাকায় ‘অস্ত্র ও মাদকের কারবার, চাঁদাবাজি, চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণাসহ বিভিন্নভাবে মানুষের অর্থ আত্মসাত করে’ বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলে র‌্যাবের অভিযোগ। জাল নোট এবং অবৈধ অস্ত্র ও বিদেশি মদ রাখার তিন মামলায় তাদের দুজনকে মোট ১৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার দুজন মহানগর হাকিম। এর মাঝে বিচারক পরিবর্তনের ফাঁকে এক আইনজীবীকে তিনি বললেন, আমার লাইফটাই শেষ হয়ে গেল!

    শনিবার ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান রুপি ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব-১ কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বিমানবন্দর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

    আর ওয়েস্টিন হোটেলে পাপিয়ার নামে ভাড়া করা ‘প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট’ এবং ইন্দিরা রোডে ওই দম্পতির দুটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পিস্তল, গুলি, মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, উদ্ধারের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা হয় অন্য দুটি মামলা।

    জাল নোটের মামলায় রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে পাপিয়ার আইনজীবী আতিকুর রহমান বলেন, তাদের গ্রেফতার করার পর ৪৮ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এই ঘটনা আসলে নাটকের মহড়ামাত্র।

    আসামিপক্ষের অন্য একজন আইনজীবী বলেন, পাপিয়ার স্বামী মফিজুর ওরফে সুমন চৌধুরী ছাত্রলীগের নেতা, এলাকায় নির্বাচন করতে চাওয়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই নাটক সাজিয়েছে। মিডিয়া অলরেডি বিচার করে ফেলেছে। আর কী বিচার করবেন?

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল এর উত্তরে বলেন, তাহলে মিডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করুন।

    এ মামলার শুনানি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসামিদের আইনজীবীরা জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ড নিয়ে আপিল বিভাগের নির্দেশনার বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। পাপিয়াকে এ সময় স্বামীর কাছ থেকে সেই ব্যাখ্যা শুনতে দেখা যায়।

    একজন আইনজীবী কাঠগড়ার সামনে এসে পাপিয়া এবং তার স্বামীকে বলেন, আপনারা যদি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তাহলে পুলিশের শেখানো কোনো কিছু বলবেন না। এ সময় পাপিয়াকে হতাশা প্রকাশে করে বলতে শোনা যায়, আমি কী অপরাধ করলাম!

    আরও পড়ুন