২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • ইউএনও ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে, কথাও বলেছেন: চিকিৎসক




  • ইউএনও ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে, কথাও বলেছেন: চিকিৎসক

    জনশক্তি ডেস্ক:

    অস্ত্রোপচারের পর দুর্বৃত্তের হামলার শিকার দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে। তিনি কথাও বলেছেন। তাঁর মাথায় কমপক্ষে ৯টি আঘাতের ক্ষত দেখা গেছে।

    আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসক জাহেদ হোসেন প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।

    হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক জাহেদ হোসেন বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় ওয়াহিদা খানমের মাথায় কমপক্ষে ৯টি আঘাতের ক্ষত দেখা গেছে। মাথার খুলির যে হাড়টি ভেঙে ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল, সেটি অস্ত্রোপচারের সময় বের করা হয়েছে। রাত দেড়টার দিকে তাঁর জ্ঞান ফেরে। তিনি কথাও বলেন। তাঁর শরীরের ডান পাশ এখনো অবশ। এটি ঠিক হতে সময় লাগতে পারে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ওয়াহিদা খানমের আড়াই ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচার হয়। এই অস্ত্রোপচারে অংশ নেন ছয়জন চিকিৎসক। সঙ্গে ছিলেন একজন অবেদনবিদ।
    নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম গতকাল দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রথম আলোকে জানান, এখন তিনি পর্যবেক্ষণে আছেন।

    গতকাল বেলা তিনটার কিছু পরে ওয়াহিদাকে নিউরোসায়েন্সেস হসপিটালে আনা হয়। তাঁর চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল টিম গঠন করেছে। হাসপাতালের পরিচালক দীন মোহাম্মদ জানান, ওয়াহিদার মাথার আঘাত অনেক জটিল ও গুরুতর।

    হামলার ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ দুজনকে আটক করার কথা জানিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ শুক্রবার ভোরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।

    আটক করা দুজন হলেন ঘোড়াঘাট উপজেলার জাহাঙ্গীর হোসেন (৪২) ও আসাদুল ইসলাম (৩৫)। জাহাঙ্গীর যুবলীগের নেতা।

    হামলার ঘটনায় ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় রাতে অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

    বুধবার গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ইউএনওর সরকারি বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীকে (৭০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। আহত বাবা-মেয়েকে গতকাল সকালে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওয়াহিদাকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়। ওয়াহিদার বাবা রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    ওয়াহিদা ৩১তম বিসিএসের কর্মকর্তা। তাঁর স্বামী মেসবাউল হোসেনও একই ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। মেসবাউল রংপুরের পীরগঞ্জের ইউএনও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ওয়াহিদার বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুরে।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন