১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিঙ্গাইর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাশার জয়ী আজ সিঙ্গাইর পৌরসভা নির্বাচন, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা নৌকার বিজয় নিশ্চিত, আ.লীগ প্রার্থী বাশার মানিকগঞ্জ বার নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ পদে বিএনপি প্রার্থী জয়ী সিঙ্গাইর পৌর নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে একাট্টা আ.লীগ মানিকগঞ্জ বার নির্বাচন: এবারও আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী লুৎফর লেবানন বিএনপির ভার্চুয়াল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে লেবানন আ’লীগের আলোচনা সভা যথাযথ মর্যাদায় লেবাননে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন অগ্নিকাণ্ডে সিঙ্গাইর সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভস্মীভুত

ইউপি নির্বাচন: দলীয় না নির্দলীয় হবে, এ নিয়ে দ্বিধায় আ.লীগ

জনশক্তি ডেস্ক:

পৌরসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না করা নিয়ে ভাবছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এখনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন থেকে সরে আসার বিষয়টি পাকা সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যায়নি।

সরকার ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ কথা জানা গেছে। আবার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলছেন, আইন যেহেতু হয়ে গেছে, একবার পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। সমস্যা হলে পরবর্তী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থেকে সরে আসা যাবে।

গত নভেম্বরে উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের আইন পাস হয়। এর আগে মন্ত্রিসভা এই তিন স্তরের সব নির্বাচনই দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বিপুল সংখ্যায় কাউন্সিলর ও সদস্য মনোনয়ন কঠিন হয়ে যাবে—এই বিবেচনায় শুধু মেয়র ও চেয়ারম্যানের পদে দলীয়ভাবে নির্বাচনের আইন করা হয়। এখন পরিবর্তন করতে হলে আবারও সংসদের মাধ্যমে আইন সংশোধন করতে হবে। ২০ জানুয়ারি সংসদের শীতকালীন অধিবেশন বসবে। আর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা মার্চ থেকে।

দলের নেতারা বলছেন, সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী বাছাই ও নিয়ন্ত্রণ করা সব রাজনৈতিক দলের জন্যই কঠিন। ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের জন্য আরও কঠিন। সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল সংখ্যায় বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দিতে হয়েছে। আর দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে তৃণমূলে সংঘাতের ঝুঁকিও থেকে যায়।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, পৌরসভা নির্বাচন তদারকে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় প্রতিদিনই দলটির ধানমন্ডি কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে বিদ্রোহীদের সামাল দিতে না পারার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে না করার পক্ষে মত দেন। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার নানা সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও অনানুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তবে আসন্ন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না করার চূড়ান্ত মনোভাব দেখাননি প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি দলের মধ্যে চলা দ্বিধাদ্বন্দ্বের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনও আঁচ করতে পেরেছে। কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে না করার জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে আভাস এসেছে। কমিশনও অপেক্ষায় রয়েছে।

সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের বেশির ভাগই সরকারি দলের। প্রত্যেকের আলাদা বলয় তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এলে যাঁর যাঁর বলয় থেকে একজন করে দাঁড়িয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তাঁর কাছে এমন কোনো পরামর্শ বা নির্দেশনা এখনো আসেনি। যদি এমন নির্দেশনা আসেও, তাহলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষেই মত দেবেন। কারণ, আইন যেহেতু হয়ে গেছে, তাহলে একবার অন্তত পরীক্ষা করে দেখা দরকার। সমস্যা থাকবেই, এরপরও সরে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

আওয়ামী লীগের দুজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন সরকারের জন্য দরকার ছিল। কারণ, ২০০৮ সালের পর নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে কোনো নির্বাচন হয়নি। বিএনপি বরাবরই বলে আসছে, তাদের জনপ্রিয়তা বেশি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট বর্জন করার কারণে এই নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক আছে। এই অবস্থায় দলীয় প্রতীকে বিএনপিকে নির্বাচনে আনা সরকারের লক্ষ্য ছিল। এ জন্য কৌশল করে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন সরকারের সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে। দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ও নিশ্চিত হয়েছে।

ওই দুই নেতা আরও বলেন, দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হলে সবচেয়ে বিপদে পড়বে আওয়ামী লীগ। কারণ, দল ক্ষমতায় থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে এখন অর্থ ও পেশিশক্তির জোরে আওয়ামী লীগের নেতারাই এগিয়ে। সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের বেশির ভাগই সরকারি দলের। প্রত্যেকের আলাদা বলয় তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এলে যাঁর যাঁর বলয় থেকে একজন করে দাঁড়িয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে। তখন দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের নামে বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনেও মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, এবার পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগেই সবচেয়ে বেশি, ১৮৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিল। চাপ দিয়ে ও ভয় দেখিয়ে বসানোর পরও শেষ পর্যন্ত ৭০ জন বিদ্রোহী থেকে যান। এর মধ্যে ১৯ জন জয়ী হয়েছেন। দলীয় পদে ছিলেন এমন ১৫৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়। এই নির্বাচনে এমনকি জেলা পর্যায় থেকে একজন সাংসদকে (গোলাম রব্বানি-চাঁপাইনবাবগঞ্জ) বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে। আজকের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিদ্রোহীদের নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ কম বলেই মনে করেন দলের নেতারা।

আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে কয়েক হাজার বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। সবাইকে বহিষ্কার করতে গেলে দল দুর্বল হয়ে পড়বে, বিভক্তি বাড়বে। আর বিপুলসংখ্যক দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াও কঠিন কাজ। এ ক্ষেত্রে ভুল প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ থাকে। তখন যোগ্য ও দলের নিবেদিত অনেকে হয়তো বিদ্রোহী হবেন। আর এসব বিদ্রোহীকে দল থেকে বের করে দিলে তৃণমূলে ভুল বার্তা যাবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রার্থী বাছাই করা কঠিন কাজ। তবে এখনো সরে আসার আভাস পাওয়া যায়নি। এখনো সময় আছে। হলে আলোচনা করেই হবে।

আরও পড়ুন