২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়




  • ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

    মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

    রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ আছে। একটি দুনিয়ায়, অন্যটি আখেরাতে। দুনিয়ার আনন্দ হলো ইফতারের আনন্দ। আখেরাতের আনন্দ হলো দিদারে ইলাহি তথা প্রেমময় প্রভুর প্রেমদর্শনের আনন্দ। বুখারি। সত্যি! ইফতারের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। প্রত্যেক রোজাদারই জানেন, ইফতারের অপেক্ষা কী মধুর প্রশান্তির অপেক্ষা। কোনো রোজাদারই ইফতারের জন্য অপেক্ষা করার আনন্দ থেকে নিজেকে বাদ রাখতে চাইবেন না। কারণ, ইফতারের অপেক্ষায় থাকা ইফতারের মতোই আনন্দ প্রশান্তির পরিবেশ তৈরি করে।

    রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘ইফতার যেমন রোজাদারের জন্য আনন্দময় ও সওয়াবে ভরপুর নিয়ামত। একইভাবে ইফতারের জন্য অপেক্ষার সময়টুকুও রোজাদারের আমলনামায় অফুরন্ত সওয়াব লিখে রাখেন ফেরেশতারা।’ শুধু তাই নয়, তিনি বলেছেন, ‘ইফতারের সময় এতই মূল্যবান, এ সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যা চাইবে, আল্লাহ তা-ই কবুল করবেন।

    রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘হে আমার উম্মত! তোমরা ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া কর। ইফতার মুহূর্তের দোয়া কখনো ব্যর্থ হয় না।’ মিশকাতুল মাসাবিহ।

    ইফতার যথাসম্ভব দ্রুত করা উচিত। দেরিতে করলে গুনাহ হবে না কিন্তু হাদিসে অনেক বড় কল্যাণের কারণ বলা হয়েছে ইফতারকে। তিরমিজি ও আবু দাউদে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তত দিন পর্যন্ত কল্যাণের সঙ্গে থাকবে যত দিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি ওই উম্মতকে ভালোবাসি যে দ্রুত ইফতার করে।’ তারপর তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী সব নবীর সুন্নাত ছিল দ্রুত ইফতার করা।’ আবু দাউদ।

    সারা দিন ক্ষুধার্ত থেকে ইফতারের সময় খাবারের ওপর হামলে পড়তে দেখা যায় অনেককে। এও সুন্নাত-বিরোধী কাজ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও ইফতারে অতিভোজন স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইফতার ছিল খুবই সাদামাটা। তিনি বিজ্ঞানময় জীবন যাপন করতেন। তিনি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন, দীর্ঘ সময় পাকস্থলী খালি থাকার পরপরই খুব বেশি খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়। তা ছাড়া রুহকে তাজা করার এই মাসে দেহকে বেশি খাবার দেওয়াও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বড় বাধা। তাই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানজুড়েই বেশি বেশি ইবাদত করতেন কিন্তু খুব কম খাবার খেতেন। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতার করতেন তাজা খেজুর দিয়ে। তাজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর দিয়ে। তাও না পেলে কয়েক ঢোক দুধ পান করতেন। তার পরই মাগরিবের নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।’ আমরা যারা রমজানকে আত্মার পরিশুদ্ধির মাস হিসেবে নিয়েছি, আমাদেরও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে।

    লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
    চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাস্সির সোসাইটি।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন