১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

একটু ভুলের জন্য লেবাননে প্রবাসীদের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে

জসিম উদ্দীন সরকার

ইদানিং লেবাননে প্রবাসীদের দেখা যাচ্ছে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে যান না, ভয় পান যদি করোনা হয়ে থাকে! লেবাননে এ পর্যন্ত হাজারের অধীক বাংলাদেশী প্রবাসী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মারা গিয়েছে ৯জনের উপরে। খুঁজ নিয়ে দেখা যায় যারা মারা গিয়েছেন, তাদের বেশির ভাগ মারা যাবার মূল কারণ ছিল অবহেলা।

গত সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেল দুই বাংলাদেশী নারি কর্মী। একজন অসুস্থ অবস্থায় তার নিজ বাসায় মারা যায়, অন্য একজন হাসপাতালে মারা যায়। যিনি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন, তিনি শারিরিক অবস্থা আশংকা জনক হলে হাসপাতালে যান চিকিৎসা নিতে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার পিসিআর পরীক্ষা করলে করোনা পজেটিভ আসে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

দ্বিতীয়জন তার নিজ বাসায় মারা যান, মৃত্যু আগে তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু ডাক্টার চিকিৎসকের কাছে যাননি ও করোনাও পরীক্ষা করাননি। অবশেষে মারা গেলেন।

সমস্যা কোথায়, দ্বিতীয়জনের মৃত্যুর পর তাকে দেখতে যাওয়া একজন প্রবাসী করোনা পরীক্ষা করান, তা পজেটিভ এসেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে মৃত ব্যক্তির বাসার সকলকে করোনা পরিক্ষা করতে বলা হয়েছে।

প্রথম জনও একি অবস্থা, তার সাথে থাকা কেউ এখনো করোনা পরিক্ষা করাননি। কাজেই বুঝা যাচ্ছেনা অন্য কারো শরিরে ছড়াল কিনা। এখন এরা যদি করোনা পরিক্ষা করিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করেন, তাহলে তাদের থেকে অন্যত্র ছড়িয়ে পরার আশংকা কমে যায়। আর যদি তারা পালিয়ে বেড়ায়, তাদের থেকে অন্যত্র ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা শতভাগ। তাহলে উপায় কি।

লেবাননে গত ৭জানুয়ারি থেকে লকডাউন শুরু হয় এবং ১৫জানুয়ারি থেকে জরুরী অবস্থা শুরু হয়, যা এখনো বিদ্যমান। কিন্তু যদি লকডাউনের পুর্বের অবস্থা বর্ননা করি, তাহলে দেখা যাবে শতকরা ৭০ভাগ বাংলাদেশী নিয়মিত ও ঠিক ভাবে মাস্ক পরতেন না। আইনের চাপে মাস্ক পরিধান করে থাকলেও তা নাক ও মুখের নিচেই থাকত। আর ছাবরা বাজারে গেলে মনে হতনা ওখানে করোনা নামের কোন ভাইসার পৃথিবীতে এসেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের দোহায় দিয়ে অনেকে পার পেতে চান, বলেন চিকিৎসা নিতে বা করোনা পরিক্ষা করাতে অনেক টাকা খরচ হয়। যদিও বর্তমান লেবাননে দেড়লক্ষ লিরা তেমন কিছু নয়। আর সব চেয়ে বড় কথা টাকার চেয়ে জীবনের মূল্য তো কম নয়। টাকার চিন্তায় যদি চিকিৎসকের কাছে না যান, এক সময় এই টাকা কোন কাজে আসবেনা।

আমাদের সচেতন হতে হবে, কিন্তু কবে? না, দেরি হলে চলবেনা, এখনো প্রবাসী বাংলাদেশীদের করোনা ভাইরাসে সংক্রামনের অবস্থা লেবানন নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রয়েছে। বড় ধরণের কোন ক্ষতির মুখোমুখি হবার আগেই সতর্ক হউন। আসুন করোনা ভাইরাস রোধে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচন্ন থাকি। নিয়মিত হাত মুখ ধৌত করি এবং সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করি। এবং শরিরে জ্বর অনুভোত হলে এবং শর্দি, ঠান্ডা কাশি ও খুব বেশি মাথা ব্যথা হলে ডাক্টারের কাছে যাই ও ডাক্টারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেই।

মনে রাখবেন, অবহেলায় ক্ষতি আপনার একার নয় গোটা জাতির। কাজেই একটু ভুলের জন্য লেবাননে বাংলাদেশী প্রবাসীদের অনেক বড় ধরণের ক্ষতি হয় যেতে পারে।

লেখক, জসিম উদ্দীন সরকার
প্রকাশক, জনশক্তি ডটনিউজ

আরও পড়ুন