৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
লেবাননে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন ছাত্রলীগ নেতা মিরুর খুনীদের ফাঁসির দাবীতে শোক র‌্যালী দলীয় কোন্দলেই ছাত্রলীগ নেতা মিরু খুন: তিনজন গ্রেফতার নবনির্বাচিত মেয়রের সাথে সিঙ্গাইর পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুভেচ্ছা বিনিময় ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছাড় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ অভিবাসীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে বিডি প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার ভার্চুয়াল আলোচনা নিজ দলের সন্ত্রাসীদের হাতে সিঙ্গাইর উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক মিরু খুন মাহবুবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মালয়েশিয়া যুবদলের দোয়া মাহফিল আজ দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মোবারক হোসেনের জন্মদিন লেবাননে অনলাইন পোর্টাল “প্রবাস দর্পণ”এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল,একাদশ শ্রেণীতে কেমন কলেজ চাই

প্রকাশিত হলো এসএসসি পরীক্ষা ২০২০ এর ফলাফল। অনেকেই কাংখিত ফলাফল পেয়েছে, অনেকে হয়ত পায়নি। যারা কাংখিত ফলাফল পেয়েছে তাদের অভিনন্দন। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি তাদেরও অভিনন্দন, হয়তো এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলই তাদের পরবর্তী সফলতার প্রথম ধাপ হতে যাচ্ছে। ভাল ফলাফল খুবই আপেক্ষিক একটি বিষয়। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর সাথেই তাদের অভিভাবকদের কঠোর ত্যাগ স্বীকারের গল্প জড়িয়ে আছে- প্রত্যেকের আছে একটি স্বপ্নের উপাখ্যান।

সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বেশ উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা ছিল। সরকারের সদিচ্ছা ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতায় লকডাউনের মধ্যেই ফলাফল প্রস্তত ও প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য সম্মানিত সকল পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক ও শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রশংসার দাবি রাখে।

পাশ করা ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের মাথায় এবার ঢুকবে নতুন এক চিন্তা, সেটা হলো পছন্দমত ভাল কলেজে ভর্তি। প্রথমেই বলে নেই, ‘ভাল কলেজ’ বিষয়টিও অনেকটা আপেক্ষিক। অভিভাবকের সাধ্যের মধ্যে, ছাত্রছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সে কোন বিভাগে ভর্তি হচ্ছে তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কলেজ ঠিক করতে হবে। শিক্ষার্থী যখন ভাল ফল করে তখনই আসলে কলেজটিকে ‘ভাল কলেজ’ বলা যায়। ভাল ফলাফলের জন্য প্রতিষ্ঠান একমাত্র নিয়ামক না। তবে এটাও স্বীকার করছি, এটা অন্যতম একটি নিয়ামক। খুব নাম করা কলেজে চান্স পেয়ে ভর্তি হলো কিন্তু যাতায়াত, আবাসন ব্যবস্থা এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করতে না পেরে উচ্চ মাধ্যমিকে বেশ খারাপ ফলাফল অর্জন করেছে এমন নজির অনেক চোখে পড়ে। আবার যা তা একটা কলেজে ভর্তি হয়ে দুই বছর পড়াশুনা শেষে কলেজের অনুমোদন না থাকায় পরীক্ষা দিতে পারেনি এমন ঘটনাও আমরা দেখেছি।

প্রথমেই আলোচনা করা যাক সাধারণ শিক্ষার জন্য আমাদের দেশে কত ধরনের কলেজ রয়েছে। আমাদের দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত তিন ধরণের কলেজ রয়েছে। সরকারি কলেজ, বেসরকারি কলেজ এবং প্রাইভেট কলেজ।

বাংলাদেশের সরকারি কলেজ গুলোতে মাসিক বেতন ২০ টাকা এবং ভর্তির সময় এক বছরের বেতন ও পরীক্ষার ফি সহ আনুমানিক ৩০০০ টাকার কিছু বেশী পরিশোধ করতে হয়। দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবার পর পুনরায় হাজার তিনেক টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিক ফর্ম ফিলাপের সময় হাজার তিনেক টাকা অর্থাৎ দুই বছরে সাকুল্যে আট থেকে দশ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। তবে সরকারি কলেজ গুলোর মধ্যে যেগুলো ২০১৮ সাল কিংবা তার পরে সরকারিকৃত হয়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখনো এ সুবিধাটি পাওয়া শুরু করেনি। এসব প্রতিষ্ঠান এখনও বেসরকারি কলেজের মতই অর্থ আদায় করে থাকে।
বেসরকারি কলেজ গুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের মূল অংশ সরকার এমপিও আকারে প্রদান করে থাকে। এ ধরণের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি , মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি প্রভৃতি ফি সমূহ সরকারি কলেজের চেয়ে ডেঢ় বেশি হয়ে থাকে । এসকল ফি প্রতিষ্ঠান ভেদে বেশ পার্থক্য হয়ে থাকে।

প্রাইভেট কলেজ গুলোতে সরকারের কোন আর্থিক সংশ্লেষ নেই। এরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিক্রমে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এসকল প্রতিষ্ঠানের মাসিক বেতন ও অন্যান্য ফি নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা মুশকিল তবে সাধারণত বেসরকারি কলেজের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

বেসরকারি ও প্রাইভেট কলেজ পছন্দের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকগন অবশ্যই জেনে নেবেন কলেজটির পাঠদানের অনুমতি আছে কিনা এবং পছন্দের বিষয় এবং বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছে কিনা। আর সকল ক্ষেত্রেই যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে সেটি হলো শিক্ষার্থী যে বিষয়টি পড়তে আগ্রহ বোধ করে সে বিষয়টি পছন্দের কলেজে আছে কিনা। ধরুন মানবিক বিভাগের একজন শিক্ষার্থী অপশনাল বিষয় হিসেবে ভূগোল পড়তে চায়, তাহলে তাকে জেনে নিতে হবে তার পছন্দের কলেজে ভূগোল বিষয়টি পাঠদান করা হয় কিনা।

কিছু কিছু কলেজে ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে প্রায় সারা বছর ফি আদায় করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য রাজধানীতে এমন কলেজও রয়েছে যেখানে মূল বেতনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে বাধ্যতামূলক ভাবে অনেক বেশী ফি আদায় করে। এ ফি পরিশোধ করতে অনেক অভিভাবককে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়। ক’দিন আগে একজন অভিভাবক আক্ষেপ করে একটি নাম করা কলেজের কথা জানালেন যেখানে মাসিক বেতন ২০০০ টাকার কম আর অতিরিক্ত ক্লাসের ফি তার চেয়ে অনেক বেশি। কাজেই অভিভাবকগন এ তথ্য গুলো ভাল মতো জেনে সিদ্ধান্তগ্রহণ করলে পরে আর বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরপরই অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের শহরমুখী করতে চান। এটি এক অর্থে মন্দ না হলেও কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। প্রথমত যে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি করাতে চান তার খুব কাছাকাছি আবাসন ব্যবস্থা কি রয়েছে। কলেজে যাতায়াতের কী ব্যবস্থা? কত সময় লাগবে? স্থানীয় কোন গার্ডিয়ান আছে কীনা! আত্মীয়ের বাসায় রাখার ইচ্ছা থাকলে সেখানে পড়াশুনার পরিবেশ যথাযথ কীনা! আর শিক্ষার্থী যদি আপনার আদরের কন্যাটি হয় তবে এমন ইচ্ছা পোষণ করার আগে সাত বার ভাববেন। সর্বোপরি আপনি আপনার সন্তানকে এখনই চোখের আড়াল করতে চান কীনা কিংবা আপনার সন্তানটি একা থাকার মত যথেষ্ট মেচুউর্ড কীনা সেটা ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। কাজেই কলেজ পছন্দের ক্ষেত্রে নামিদামি কলেজ পছন্দের চেয়ে কলেজটি আপনার এবং আপনার সন্তানের জন্য উপযুক্ত কীনা সেটা যাচাই করা বড় বেশি প্রয়োজন।

ভর্তির পর পরই অনেক শিক্ষার্থীকে গ্রুপ পরিবর্তন করার জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। কাজেই এ সিদ্ধান্তটিও এখনই নেয়া জরুরী। শিক্ষার্থী যে গ্রুপে পড়ে আনন্দ পাবে বলে মনে করে তাকে সেখানেই পড়তে দেয়া উচিত। চাপিয়ে দেয়ার ফল অনেক ক্ষেত্রেই ভাল হয় না।

মনে রাখতে হবে, উচ্চমাধ্যমিক সময়টা খুবই সংক্ষিপ্ত–দুই বছরের কোর্স কিন্তু কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম চলে বড়জোর দেড় বছর। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভরশীল। কাজেই একটি সঠিক সিদ্ধান্তই একজন শিক্ষার্থীর সফলতার দ্বার খুলে দিতে পারে।

লেখকঃ
মোঃ গালিব হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ,
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
Email: [email protected]

আরও পড়ুন