২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
পুলিশ বাহিনীকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করার পদক্ষেপ সিঙ্গাইরে সাত মামলার পলাতক আসামি ডাকাত রিয়াজুল গ্রেফতার এক দিনে ৪৭ মামলার রায়, হাসিমুখে বাড়ি ফিরলেন ৪৬ দম্পতি নোয়াখালী জেলা রোভারের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ পরশ ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের ভার্চুয়াল সভা পৌর নির্বাচন ও দলীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সিঙ্গাইর উপজেলা আ.লীগের বর্ধিত সভা গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর সাততলা থেকে ফেলে দেওয়া হয় ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঢাকা মহানগর উত্তর আ.লীগের অর্থ সম্পাদক হলেন শিল্পপতি সালাম চৌধুরী টিউশন ফি ছাড়া অন্য খাতে অর্থ নিতে পারবে না স্কুল-কলেজ
  • প্রচ্ছদ
  • যুবলীগের কবির সরকারের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ আশুলিয়াবাসী




  • যুবলীগের কবির সরকারের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ আশুলিয়াবাসী

    সরকারের নির্ধারিত ডিইপিজেড এলাকা হওয়ায় শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত সাভারের আশুলিয়া। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে ভাগ্য ফেরাতে ব্যবসা করতে আসেন মানুষেরা। তবে ব্যবসা করতে গিয়ে চাঁদাবাজি, হুমকির কারণে ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে রপ্তানি এলাকাটি। অভিযোগ আছে এসবের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এদেরই একজন আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার।

    গত বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে অস্ত্রের মহড়ার মাধ্যমে নিহান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ব্যবসায়ী মাহফুজ আহাম্মেদর ঝুট ব্যবসা দখল চেষ্টা করেন যুবলীগের এই নেতা। পরে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ দেন ওই ব্যবসায়ী।

    জানা যায় এই এলাকায় এমন ঘটনা নতুন নয়। নানা সময়ে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়েছে আশুলিয়া যুবলীগের এই আহ্বায়কের বিরুদ্ধে।

    জানা যায়, সাভারে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় ২০১৩ সালে বাসে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত একাধিক নাশকতা মামলার আসামি কবীর হোসেন সরকার। এছাড়াও হত্যাচেষ্টা, জমি ও ঝুট ব্যবসা দখল এবং চাঁদাবাজিসহ প্রায় ডজন খানেক মামলারও আসামি কবীর। তবুও প্রায় দুই বছর ধরে আসীন রয়েছেন আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে। ঘটিয়েছেন নানা বিতর্কিত কাণ্ড, পদদলিত করেছেন দলীয় ভাবমূর্তি। আগামিতেও না কি বিতর্কিত এই নেতা মামলার বোঝা মাথায় নিয়েই থানা যুবলীগের শীর্ষপদে নেতৃত্ব দেবেন বলে রটেছে গুঞ্জন। বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে তার প্রচারণামূলক ফেস্টুন ও যুবলীগ সেন্ট্রালেও চালাচ্ছেন জোড় লবিং।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে আশুলিয়া ও সীমান্তবর্তী জেলা গাজীপুরে রয়েছে নাশকতাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা। ২০১৩ সালে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি নাশকতা মামলাটি (নং-৬২) দায়ের হয়। একই বছর তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা (নং-৫২) দায়ের করা হয় এই থানায়। এছাড়া ২০০৯ সালে মামলা (নং-৫১), ২০১০ সালে মামলা (নং-১১) ও ২০১৪ সালে মামলা (নং-৩৫) সহ বেশ কয়েকটি মামলা আশুলিয়া থানায় নথিভুক্ত রয়েছে।

    আহ্বায়কের পদ পাওয়ার পর বিতর্কিত এই নেতার বিভিন্ন অপকর্মের স্বীকার ভুক্তভোগীরা গাজীপুরের কাশিমপুর ও আশুলিয়া থানায় পৃথক আরো চারটি মামলা দায়ের করেন।

    এর মধ্যে ২০১৯ সালে হত্যাচেষ্টা ও চুরির অভিযোগে আবিদ সরকার লিমন যুবলীগের এই নেতাকে প্রধান আসামি করে কাশিমপুর থানায় মামলা (নং-১৫) দায়ের করেন।

    ২০১৮ সালে স্থানীয় এমপি ডা. এনামুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় এক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় কবির সরকারের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা (নং-৫০) দায়ের করা হয়।

    এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে আশুলিয়া থানায় দখল মামলা ও গাজীপুরে ২০১৭ সালে মামলা (নং-৫৪) আরো একটি মামলা রয়েছে।

    আশুলিয়া যুবলীগের স্থানীয় নেতারা জানান, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বড় ভাই শওকত হোসেন সরকার বর্তমানে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

    আশুলিয়া থানা যুবলীগের দুই কর্মী মাসুম মুন্সী ও আমিনুল ইসলাম খান বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কবির হোসেন সরকারের মত এমন একজন অনুপ্রবেশকারী কিভাবে আশুলিয়া থানা যুবলীগের কমিটিতে আহ্বায়কের পদে আসীন রয়েছেন তা বোধগম্য নয়। এমনকি আগামিতেও তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি পদ পেতে যাচ্ছেন বলেও তৃণমূলে গুঞ্জন রয়েছে। তাই আশুলিয়া থানা যুবলীগের কমিটিতে ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মীদের নিয়ে আসার দাবী জানান তারা।

    যুবলীগ কর্মী মাসুম মুন্সি বলেন, কবির হোসেন সরকার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে প্রাননাশ ও ব্যবসা দখলের হুমকি প্রদান করে সন্ত্রাসীরা। এমন কাণ্ড ঘটতে থাকলে এখানে ব্যবসায়ীদে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। এরকম কারণে এই এলাকা ক্রমেই ব্যবসায়ীদের জন্যে অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

    এসব ব্যাপারে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার বলেন, তিনি পূর্নাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি পদের জন্য শতভাগ আশাবাদী। তবে তার বিরুদ্ধে বিএনপির নাশকতাসহ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। রাজনৈতিক কারনে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়েছে। এসময় নিজের দলের সাবেক এমপির রোষে পড়েও মামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    এবিষয়ে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা বলেন, ‘সাভার ও আশুলিয়া যুবলীগে বিতর্কিত নেতা রয়েছে। তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই নিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।’

    তবে ঢাকা জেলা যুবলীগের সভাপতি জি এস মিজান বিতর্কিত আশুলিয়া থানা যুবলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘সমাজে দুস্কৃতিকারী ও সমাজকে অস্থিরতার ঠেলে দেয় এক কথায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় যারা বিপথগামী কিংবা যারা বিপথে চলে গেছেন তারা যুবলীগের কোন কমিটিতেই থাকবেন না। এ লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের তথ্য যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো আমারা যাচাই করে দেখবো- সেখানে কোন অনুপ্রবেশকারী কিংবা দুস্কৃতিকারী আছে কি না। যদি থাকে তাহলে কিভাবে তাদের অপসারণ করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এছাড়া প্রত্যেকটি জেলা ও থানা পর্যায়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক যে কোন কমিটি গঠনেও আমাদের অবহিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

    আরও পড়ুন