২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • করোনার টিকাকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর




  • করোনার টিকাকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    জনশক্তি ডেস্ক:

    করোনা মহামারির কারণে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো আরও প্রকট হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ মহামারি আমাদের উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে এ সংকট উত্তরণে বহুপাক্ষিকতাবাদের বিকল্প নেই। আমরা কেউই সুরক্ষিত নই, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি।’

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে শনিবার দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেন। আগে ধারণ করা এ ভাষণে তিনি সম্ভাব্য কোভিড-১৯ টিকার সময়োপযোগী ও সমান প্রাপ্তি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে বিশ্ব শিগগিরই কোভিড-১৯-এর টিকা পাবে। এই টিকাকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

    কোভিড-১৯–এর কারণে জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম নিউইয়র্কের সদর দপ্তরে সদস্যদেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অনুপস্থিতিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৭ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, আমাদের সকলের ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা। কাজেই সকল দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময়মতো এবং একই সঙ্গে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ দেশের ওষুধশিল্পের অবকাঠামোগত সক্ষমতার বিষয়টির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব প্রদান করা হলে এই ভ্যাকসিন বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।’

    সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এ নিয়ে ১৭তম বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘এই মহামারির কারণে অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। অনেককে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রণোদনা বাবদ ৩৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। তবে কোভিড-পরবর্তী সময়ে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রধানমন্ত্রী অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে ও ন্যায়সংগতভাবে বিবেচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান।

    দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি নাগরিককে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

    দেশের আর্থিক খাতের আশু সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাঁর সরকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বিশ্বে খাদ্যাভাবের আশঙ্কা থাকায় এ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা করোনাকালে খাদ্য উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সেই সঙ্গে পুষ্টি নিশ্চয়তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং কৃষি ও শিল্পপণ্য যথাযথভাবে বাজারজাতকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। যার ফলে বাংলাদেশের স্ব্যাস্থ্য ও অর্থনীতি এখনো তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো আছে।’

    জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বিদ্যমান সমস্যাগুলো প্রতিনিয়ত প্রকট হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯–এর এই সংকটকালেও আমাদের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সিভিএফ ও ভি-টোয়েন্টি গ্রুপ অব মিনিস্টার্স অব ফিন্যান্সের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু সমস্যা উত্তরণে একটি টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নে নেতৃত্ব প্রদান করবে। এ ছাড়া গ্লাসগো কপ-এ গঠনমূলক ও কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।’

    বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বছর আমরা “উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি” অ্যাজেন্ডা-এর ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করছি। এই অ্যাজেন্ডার অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তি ও নিরাপত্তায় নারীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করি।’ বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ‘বেইজিং ঘোষণা’ এবং ‘প্ল্যাটফর্ম অব অ্যাকশন’ কার্যকরে বাংলাদেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ শিশুদের উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমরা শিশুর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছি।’

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন