৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিংগাইরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সিঙ্গাইরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা সিঙ্গাইরে মাছচাষে সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সিঙ্গাইরে মেম্বারকে চাপা দেয়া সেই অচেনা ট্রাকের হদিস মেলেনি বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নবীন আইনজীবীদের বরণ করে নিল মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতি নান্নুকে নৌকা দেওয়ায় হতাশ হামছাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মালয়েশিয়ায় বিএনপি কর্তৃক বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও বিদেশে চিকিৎসা পাঠানোর জন্য দোয়া মাহফিল সিঙ্গাইরে আত্রাইল বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির প্রশিক্ষণ কর্মশালা গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশী নারী ওলোরা
সঠিক তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন

করোনা পরীক্ষা কিটের সংকট

মতামত রিপোর্ট:

কোভিড–১৯ মহামারি মোকাবিলার সংগ্রাম ক্রমেই জটিলতর হয়ে উঠছে। সংক্রমণ যখন আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যখন আরও বেশিসংখ্যক মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা কিটের ঘাটতির খবর আসছে। বৃহস্পতিবারের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অন্তত ৯টি জেলার ১২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে কিটের সংকট রয়েছে। বাকি পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর অধিকাংশের কাছে যে পরিমাণ কিট মজুত আছে, তা দিয়ে আর মাত্র তিন–চার দিন পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে।

সারা দেশে বর্তমানে সরকারি–বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৬৬টি পরীক্ষাকেন্দ্রে করোনার নমুনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে। অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রই সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছে না মূলত পরীক্ষা কিটের ঘাটতির কারণে। প্রতিদিনই গড়ে ৫ বা ৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা বন্ধ থাকছে। যেমন নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে কিটের অভাবে পাঁচ দিন ধরে করোনা পরীক্ষা বন্ধ আছে। নোয়াখালীতে মাত্র দুটি পরীক্ষাকেন্দ্র। তার একটিতে কিটের অভাবে গত রোববার ও সোমবার কোনো পরীক্ষাই হয়নি। অন্য কেন্দ্রটিতেও কিটের ঘাটতির কারণে পরীক্ষা কম হচ্ছে।

https://www.iantfoto.com/2021/12/06/vb506zw2sh9 দেশে চলমান সংক্রমণপ্রবণতার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, প্রতিদিন ন্যূনতম ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা উচিত। কিন্তু এ পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫৫২টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তাও মাত্র এক দিন, ১৭ জুন। পরীক্ষার হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ায়ও বেশ পিছিয়ে আছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮৯ হাজার ৩৫১ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, ইতালিতে ৮৩ হাজার ৫৮৫ জনের এবং ভারতে ৫ হাজার ৩২৯ জনের। আর বাংলাদেশে পরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ২৯ জনের নমুনা। এটা খুবই কম, বিশেষত বর্তমানে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রেক্ষাপটে।

https://www.john-kirk.co.uk/?p=mno6mdzb নমুনা পরীক্ষা করাতে চান, এমন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সমান্তরালে কিটের অভাবে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন অপরীক্ষিত নমুনা জমে উঠছে এবং একসময় অকার্যকর ও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। যাঁদের নমুনা বাতিল হচ্ছে, তঁাদের দ্বিতীয়বার নমুনা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে তাঁদের নিজেদের এবং অন্যদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো পরীক্ষা কিটের এই সংকটের কারণ কী? এর দায়দায়িত্ব কার? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা শনাক্তরণ পরীক্ষার কিটের সংগ্রহ, বিতরণ ও মজুত সম্পর্কে এখন আর কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না। এপ্রিল মাসের ১১ তারিখের পর থেকে সংবাদমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সম্পর্কে কোনো তথ্য পাচ্ছে না। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার নিয়মটিও তুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশে কিটের যে মজুত আছে, তাতে ‘ঘাটতি হবে না’। কোনো কারণে সংকট হলেও তা দ্রুত মেটানোর ব্যবস্থা সরকার নিয়েছে। কিন্তু মন্ত্রীর এসব কথায় জনগণ আশ্বস্ত হবে কীভাবে? ঘাটতি যদি না–ই হবে, তাহলে কিটের অভাবে কিছু কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা বন্ধ থাকছে কেন? কেন সব পরীক্ষাকেন্দ্রের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, বর্তমানে সব দেশেই করোনা পরীক্ষা কিটের চাহিদা বলে প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুযায়ী কিট পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে জনগণের স্বাভাবিক কৌতূহল হবে, সরকার কী ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে যে আমাদের দেশে কোনো কারণে সংকট দেখা দিলে তা দ্রুত মিটে যাবে? এ মুহূর্তে কিটের মজুত কতটা আছে এবং কোথা থেকে কী উপায়ে কী মানের কিট সংগ্রহ করা হচ্ছে বা হবে, তা জানিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করা উচিত।

আরও পড়ুন