২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

চট্টগ্রামের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ

জনশক্তি রিপোর্ট:

দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আসতে শুরু করেছে ভারতীয় পেঁয়াজ।

দীর্ঘ প্রায় ৫ মাসের বেশি ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি রপ্তানি শুরু হওয়ার প্রথম ধাপেই প্রায় ৫০ মেট্রিকটন ভারতীয় পেঁয়াজ চট্টগ্রামের বাজারে এসে পৌঁছেছে রোববার (৩ জানুয়ারি)।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) আসতে পারে আরও সমপরিমাণ পেঁয়াজ। এদিকে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মজুদ থাকার পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হতে থাকায় পেঁয়াজের মূল্যে রীতিমত ধস নেমেছে। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের কেজি প্রতি মূল্য কমেছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রোববার থেকেই চট্টগ্রামের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, হঠাৎ করেই ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। রোববার এক দিনেই ৫০ মেট্রিকটনের মতো পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। এছাড়া, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুদ রয়েছে। চাহিদার তুলনায় অধিক পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের মূল্যে রীতিমত ধস নেমেছে। পক্ষান্তরে গুদামেও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা গিয়েছে।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আমদানিকারক সরওয়ার হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী জানান, বাজারে এখন পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। মৌসুম শুরু হওয়ায় দেশীয় পেঁয়াজও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

অপরদিকে, মিশর, তুরস্ক, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এই অবস্থায় স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে থাকায় চাহিদার তুলনায় শত শত টন পেঁয়াজ গুদামে মজুদ থেকে যাবে। এতে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, পেঁয়াজের বাজার মূল্য সম্পর্কে হামিদ উল্লাহ মার্কেটের ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন জানান, দুই দিন আগেও যে পেঁয়াজের কেজি ৫৫ টাকা পাইকারি বিক্রি হয়েছে সেই পেঁয়াজ একদিনের ব্যবধানে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমে এসেছে। বর্তমানে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায়। এছাড়া দেশীয় পেঁয়াজ ৩২-৩৫ টাকা, তুরস্কের পেঁয়াজ ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৭ টাকা এবং নেদারল্যান্ডের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন জানান, দেশীয় পেঁয়াজ উত্তোলন ও বিক্রির সময়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হতে থাকায় দেশের কৃষকরা উপযুক্ত মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। অনেকেই উৎপাদন খরচও তুলতে পারবে না, এতে দেশীয় কৃষকরা পেঁয়াজ উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবে।

আরও পড়ুন