২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

চরফ্যাশনের চর নাজিমুদ্দিনের কাঁচা সড়কটির বেহাল দশা

এম. মাহাবুবুর রহমান নাজমুল, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা।।

চরফ্যাশনের গ্রামে কিছু কাঁচা রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। সড়ক না চাষের জমি চেনাই মুশকিল। অপরিচিত কেউ দেখলে আতকে উঠে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সড়কটি কাদায়মাখা পানি থই থই করছে। একেবারে কৃষি আবাদের উপযোগী হয়ে পড়েছে। এমন একটি সড়কের নাম মাদ্রাজের জামান সড়ক।
চরফ্যাশন পৌর শহরের আজম খান সড়ক দিয়ে একটু দক্ষিনে গিয়ে সোজা পূর্ব দিকে মাদ্রাজের উত্তর চর নাজিম উদ্দিন গ্রামের ৮ কিঃ মিঃ পথ অতিক্রম করে মেঘনা পাড়ের বেড়িবাধে গিয়ে মিশেছে জামান সড়ক নামের কাচা সড়কটি। ৩০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার জনগন এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পায়ে হেটে চলাচল করতে হচ্ছে চলতি মৌসুমে । কাদা পানির কারনে কোন যানবাহন তো দুরের কথা কেউ হেটে যেতেই আতকে উঠেন। অথচ ইচ্ছা না থাকা সত্বেও এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা, ছাত্র-ছাত্রীরা সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চলাচলে বাধ্য হচ্ছে। ওই এলাকায় বসবাসকারি ”মানবজমিন” পত্রিকা বিক্রেতা মোঃ কবির জানায়, এ গ্রামের মানুষ যদি কোন রোগী কিংবা দূর্ঘটনায় পড়ে তাহলে ওই সব লোক কেবল কোলে পিঠে করে বা রথ যাত্রা ছাড়া কোন স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারে না।
এ সড়ক দিয়ে মেঘনার মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য শুকনো মৌসুমে পর্যটকদের ঢল নামে। জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় মৎস্য রপ্তানী করে আসছে। বর্ষা হলেই তা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সড়কের কোল ঘেষে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছে।
মাদ্রাজের বেড়িবাধ ভেঙ্গে প্রবল ¯্রােতের কারনে ওইসব এলাকায় অন্যান্য পাকা সড়কগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে যাতায়াতের অনপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাগুলো। সড়কের পাশে বসবাস কারী নাজিমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল মালতিয়া জানান, প্রায় কয়েক যুগ পূর্বে থেকেই এ কাচা সড়কটি বেহাল দশা। কোন সরকারের নজরেই আসেনি এ সড়কটি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে মাদ্রাজ ইউনিয়নে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যাহা পূর্বে কোন সরকারের আমলে হয়নি। বেড়িবাধ ভেঙ্গে মেঘনার পানি প্রবেশ করার কারনে সড়কের ব্যপক ক্ষতি হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন পরিবেশ মন্ত্রনালয়ে সাবেক উপমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুল্যাহ আল-ইসলাম জ্যাকব এমপি’র একান্ত প্রচেষ্টায় সড়কের ব্যপক উন্নয়ন হলেও এ কাচা সড়কটি তার নজরে আসেনি। ওই এলাকার সাবেক মেম্বার জাকির আখন জানান, সড়কটি দ্রুত পাকা না করলে দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন জানান, সড়কটি পাকা করনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। সড়কটির দ্রæত পাকা করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন ওইসব এলাকার ভূক্তভোগী জনগন ।

আরও পড়ুন