২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • চরফ্যাসনে চার সন্তানের জননী বিধবার জমি গিলে খেতে পায়তারা করছে ভাসুর ও দেবর




  • প্রশাসনের কাছে বিধবা নারির আকুতি, স্যার আমাদের বাচান

    চরফ্যাসনে চার সন্তানের জননী বিধবার জমি গিলে খেতে পায়তারা করছে ভাসুর ও দেবর

    এম. মাহাবুবুর রহমান নাজমুল, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা ।।

    স্বামী নুরনবী মারা যায় প্রায় ১০ বছর আগে । সেই থেকে অসহায়ত্ব জীবন যাপন করছে পরিবারটি। নুরনবীর মৃত্যুর পর বিধবা আছুরা বেগম(৫০) ৪ মেয়ে ১ ছেলে নিয়ে এক রকম খেয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের একমাত্র উপার্জন ক্ষম ছেলেটিও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এর পর ৪ মেয়ে নিয়ে শুরু হয় আছুরার বেচে থাকার লড়াই। ১১২ শতাংশ জমিতে বাড়ি ঘর তৈরী করেই চির বিদায় নেন স্বামী নুরনবী। মৃত্যুকালে দেখে শুনে রাখার জন্য তার আপন ২ ভাই কুদ্দুছ চৌকিদার ও জসিম চৌকিদারের হাতে পরিবারটিকে রেখে যান । কিন্তু এই দেখে শুনে রাখার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা ২ জন আশুরারা অসহাত্বের সুযোগে তাদের বসত বাড়ির জমি আত্মসাতের পায়তারা শুরু করে। এর পর থেকে পরিবারটির উপর নেমে আসে অমানষিক নির্যাতন। তাদের অত্যাচার আর নির্যাতনে হাসপাতালেও যেতে হয়েছে অসহায় পরিবারটিকে। তাদের একের পর এক নির্যাতনে অতিষ্ট পরিবারটি নিরূপায় হয়ে সংবাদকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ দাখিল করেন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আছুরা বেগমের বসবাসকৃত ঘরটি জরাজীর্ন হওয়ায় তা মেরামত করতে তার সৃজিত কিছু গাছ কেটে নিতে চাইলে ভাসুর কুদ্দুছ ও দেবর জসিম বাধা দেয়। তাদের বাধার কারনে গাছ কাটতে না পারায় ঘরটি মেরামত করা হয়নি। এছাড়া বাগানের সৃজিত সুপারিসহ অন্যান্য ফসলাদিও ভোগ করতে বাধা দেয়া হচেছ। একের পর এক বাধার সম্মুখীন হয়ে বিধবা আছুরা সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুফল পায়নি। এ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি তার তিন মেয়েকে ইতোমধ্যে বিবাহ দিয়েছেন। মেয়ে নাহিদা মায়ের কষ্টের কথা চিন্তা করে ২ শিশু সন্তানকে নিয়ে মায়ের সেবা করতে চলে আসেন মায়ের কাছে। এনিয়ে তার দুই চাচা কুদ্দুছ ও জসিম তাদের উপর চড়াও হয় । তারা তার বিধবা মা আছুরাকে বেদম মারপিট করে। এসময় মাকে উদ্ধারে গিয়ে নাহিদা ও বোন মিষ্টি হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি থানায় অভিযোগ করলে অভিযুক্ত কুদ্দুছ ও ছেলে কামরুলকে পুুলিশ থানায় নেয়। এসময় স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিচারের আশ্বাসে তাদের দুইজনকে ছাড়িয়ে নিলেও বিষয়টি আজো সুরাহা হয়নি।

    নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া বিধবা আছুরার ছোট মেয়ে মিষ্টি ওরফে রহিমা (১৪) জানান, একদিন চাচা জসিম ও তার ছেলে জাকির তাকে ঠুনকো বিষয় নিয়ে বেদম মারে। তার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয়া হয়।
    একারনে পরবর্তীতে তারা আর এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। সে আরো জানায়, চাচাত ভাই জাকির স্কুলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের খারাপ কথা বলে হুমকি ধামকি দেয়। এতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আরেক মেয়ে জানান, আরেকদিন ঝগড়ার এক পর্যায় তাদের বাড়ি থেকে উৎখাত করার জন্য রান্না ঘরের চুলা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এতে তার শিশু সন্তানকে দুগ্ধ দানে অনেক সমস্যা হয়েছে। নিরুপায় হয়ে প্রতিবেশীদের ঘরে গিয়ে রান্না-বান্না করে জীবনধারন করেছিলাম।

    প্রতিবেশী মোতালেব (৫৫) জানান, মাঝে মাঝে মারামারি হয়। চেয়ারম্যান কয়েকবার সালিশের তারিখ দিলেও সালিশ হয়নি। প্রতিবেশী অনেকেই জানান, তাদের অত্যাচারে অহায় পরিবারটি দিশেহারা। আমরা কেউ ডাক দিলে আমাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। এ ঘটনায় প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসি।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন