২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মিথ্যা মামলায় পুলিশ সদস্যকে হয়রানির অভিযোগ রাস্তার মুখে উঁচু দেয়াল, অবরুদ্ধ একটি মুসলিম পরিবার সিঙ্গাইরে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা সিঙ্গাইরে ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিঠু গ্রেফতার সিঙ্গাইরে ১১ ইউপিতে ৪৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল পাবজি খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সিঙ্গাইরে বন্ধুর হাতে প্রাণ গেল কিশোরের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে আ.লীগ প্রার্থীর ছেলে আটক সিঙ্গাইরে শিশু বলাৎকার মামলার প্রধান আসামী মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার লেবাননে ফের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, প্রবাসীদের উপচেপড়া ভির লেবানন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

চারটি অঙ্গ আক্রান্ত হয়েছে বেগম জিয়ার

জনশক্তি রিপোর্ট:

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। করোনা পরবর্তী জটিলতায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরই মধ্যে চিকিৎসকরা বলেছেন ফুসফুস, হার্ট, লিভার ও কিডনি—শরীরের এই চারটি অঙ্গই আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে লিভার ও কিডনি প্রায় অর্ধেক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি স্বাভাবিক কার্যক্রম যথাযথভাবে করতে পারছেন না।

এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা প্রয়োজনে তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের (প্রতিস্থাপন) সুপারিশ করেছেন। এ ছাড়া তাঁরা আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, হৃদরোগের কারণে খালেদা জিয়ার শরীরের যেকোনো একটি চেম্বার বা অংশের মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড সম্প্রতি এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েক দফা সুপারিশ করেছে। এতে খালেদা জিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্যগত অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে পাঠানোরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদলের একজন সদস্য সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে কবে বাসায় ফিরবেন, সেটি মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। কারণ এখনো তিনি করোনা-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান শারীরিক অবস্থায় ম্যাডামের সুচিকিৎসা করতে হলে তাঁকে দেশের বাইরে সর্বাধুনিক সুবিধা সংবলিত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া দরকার। পরবর্তী ফলোআপ চিকিৎসাও তাঁর বিদেশেই হওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ২৮ এপ্রিল থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া। শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় ৩ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সিসিইউয়ে থাকার পর এখন তাকে কেবিনে দেওয়া হয়েছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে কবে তিনি বাসায় যেতে পারবেন, সে বিষয়ে চিকিৎসকরা এখনই কিছু বলতে পারছেন না। কারণ এখনো তিনি করোনা-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার খাদ্যনালিও সংক্রমিত হয়েছে। সিসিইউয়ে থাকার সময় ১৪ দিনে ফুসফুস থেকে প্রচুর ফ্লুইড বের করে তাঁর শ্বাসকষ্ট লাঘব করে প্রায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁর রক্ত যাতে জমাট না বাঁধে সে জন্য প্রচুর ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে চার ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।

এ ছাড়া লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে শরীরে আয়রন, প্রোটিন ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়ায় খালেদা জিয়া আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ছেন বলেও মনে করেন তাঁরা। এ জন্য চার ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর মুখে খাওয়া এবং অ্যালুমিনিয়াম ইনজেকশনের মাধ্যমে তাঁকে প্রোটিনও দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, খালেদা জিয়ার শরীর হিমোগ্লোবিন ও আয়রন তৈরি করতে পারছে না। তাঁর অদৃশ্য রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এখন এটির কারণ বা উৎস খুঁজে পেতে হলে তাঁর এন্ডোসকপি করতে হবে। আর এন্ডোসকপি করতে হলে খালেদা জিয়াকে অজ্ঞান করতে হবে। কিন্তু এটি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন রোগীকে বাংলাদেশের একজন চিকিৎসকের পক্ষে করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, ৭৫ বছরের সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বেশ কঠিন। তা ছাড়া চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের পরীক্ষার জন্য অনেক সময় অন দ্য স্পট সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এ জন্য অত্যাধুনিক ও উন্নত কোনো কেন্দ্র নেই।

পাঁচ দফা সুপারিশে যা বলা হয়েছে

১. ক্রনিক লিভার ডিজিজ (লিভার সিরোসিস) কোন পর্যায়ে রয়েছে তা পরীক্ষা করে খাদ্যনালির কোন জায়গা থেকে (ডিআই ব্লিডিং) হচ্ছে, সেটি বের করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনও লাগতে পারে।
২. কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে খালেদার শরীর প্রোটিন ধরে রাখতে পারছে না। প্রস্রাবের সঙ্গে অনেক প্রোটিন বের হয়ে যায়। এ জন্য তাঁর আধুনিক বা উচ্চতর চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ক্রনিক লিভার ডিজিজ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।

৩. হৃদরোগের জটিলতার কারণে যেকোনো সময় তাঁর হৃদরোগের বেদনায় বিশেষ একটি চেম্বার বা অংশে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাঁর হার্টের স্পন্দন মাঝেমধ্যেই অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং এটি যেকোনো সময় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

৪. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কারণে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণে অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন না। এটা ক্রনিক লিভার ডিজিজ ও ক্রনিক কিডনি ডিজিজের কারণে। এই রোগের চিকিৎসা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেছেন, এটির চিকিৎসা বিশ্বের অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিকতম হাসপাতালেই সম্ভব।

৫. খালেদা জিয়ার পারিবারিক রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করে চিকিৎসকরা তাঁর রোগের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করেন।

আরও পড়ুন