২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • থামছেনা সংঘর্ষ, কঠিন সময় পার করছে লেবানন




  • থামছেনা সংঘর্ষ, কঠিন সময় পার করছে লেবানন

    গত এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরে টানটান উত্তেজনা বিড়াজ করছে লেবাননে স্বর্বত্র। প্রধান সড়ক গুলোতে আগুন জ্বালিয়ে চলছে আন্দোলন। এ যেন চলছেই, সমাধানের কোন রাস্তাই দেখা যাচ্ছেনা। আইন শৃংখলা বাহীনির সাথে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। আইন শৃংখলা বাহীনিকে লক্ষকরে নিক্ষেপ করছে পাথর। মধ্য বৈরুত এর সংসদীয় এলাকায় দেখা যাচ্ছে পাথর না পেয়ে বিল্ডির এর টাইলস খুলে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে তা দিয়ে আইন শৃংখলা বাহীনির উপর হামলা চালাচ্ছে আন্দোলনরত জনগন। তাদের প্রতিহত করতে নিরুপায় আইন শৃংখলা বাহীনি, বাধ্য হয়েই ব্যবহার করছে জলকামান ও ক্বাদানি গ্যাস। তবুও থামছেনা আন্দোলনকারীরা।

    রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে পুরো ডাউন টাউন। দিনে আন্দোলনের তীব্রতা তেমন না দেখা গেলেও রাতের চিত্রটা ভিন্ন। সন্ধ্যার পর থেকে ডাউন টাউনে জড়ো হয় হাজার হাজার জনগন। গত সপ্তাহে আন্দোলনকারীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে লেবাননের জাতীয় ব্যাংক সহ ভেঙ্গেছে লেবাননের বেশ কয়েকটা ব্যাংকের শাখা, এটিএম বুথ, দোকান পাঠ ও বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

    সব কিছু মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে লেবানন।

    আন্দোলনকারীরা বলছেন, ৩০ বছরের রাজনীতি ছিল ভুল, রাজনীতিকরা লেবাননের অর্থনীতি শুণ্যের কোঠায় নিয়ে গেছে। এসবের জন্য তারা গোত্রভিত্তিক রাজনীতিকে দায়ি করছেন। তাই গোত্রভিত্তিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে তারা নতুন নির্বাচন চান। বর্তমান কোন রাজনৈতিক দলের ওপর তারা আস্থা রাখছেন না বলে জানিয়েছেন।

    লেবাননের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্ট হবেন খৃষ্টানদের মধ্য থেকে, মুসলিম সুন্নিদের মধ্যে থেকে হবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শিয়াদের মধ্য থেকে স্পীকার। এভাবে সকল ধর্ম থেকে সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দেয়ার রীতি রযেছে।

    কিন্তু এই সংবিধান থেকে বের হতে চান লেবাননের জনগন। তবে এই দাবি মানতে নারাজ রাজনীতিবীদগন।

    গত ২১শে জানুয়ারী লেবাননে নতুন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের নেতৃত্বে গঠিত হয় নতুন মন্ত্রী সভা। বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নতুনদের মন্ত্রী করা হয়েছে। নবগঠিত এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত জনগন।

    নব গঠিত নতুন সরকার সম্পর্কে জানতে চাইলে আন্দোলনকারীরা বলেন, মন্ত্রী সভার চেয়ারের লোক গুলো পরিবর্তন হলেও, যারা এসেছে তাদের সবাই ওই একি দলের লোক, যারা লেবাননের অর্থনৈতিক অচল অবস্থার জন্য দায়ি। তাদের নির্দেশেই এই সকল নতুন মন্ত্রী গঠন হয়েছে। কাজেই তাদের কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করা অর্থহীন।

    এই সরকারকে একটু সুযোগ দিয়ে দেখা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন। এদের আর কোন সুযোগ দেয়া হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সবাই সরে না যাবে, ততক্ষন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন