২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • দীর্ঘদিনের বসত বাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পরিবারটি




  • দীর্ঘদিনের বসত বাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পরিবারটি

    ডেস্ক রিপোর্ট: ভোলা জেলার চরফ্যাসনে আদালতের নির্দেশে দুলারহাট থানার সদর বাজারে বসতবাড়ির ঘরভেঙ্গে দিয়ে নুর হোসেন পরিবারকে দীর্ঘদিনের দখল থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। শনিবার সকালে দুলারহাট থানা পুলিশের সহায়তায় আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইজীবীরা এই জমির দীর্ঘদিনের দখলদার পরিবারকে উচ্ছেদ করে নতুন দখলদারকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।

    চরফ্যাসন সহকারী জজ আদালতের নাজির মো.আবুল কালাম আজাদ এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। বসতঘর ভেঙ্গে উচ্ছেদের পর থেকে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। নুরহোসেনের কন্যা জরিনার আকুতি ‘আমরা এখন কই যামু,কোথায় যামু,কার কাছে যামু?’ জরিনা অভিযোগ করেন, “উচ্ছেদের সুযোগে তাদের ঘরের সব মালামাল লুটে নিয়েছে চেয়ারম্যানের লোকজন।” তবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারীদের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

    আদালতের নির্দেশে পরিচালনিত উচ্ছেদ অভিযানে বসতঘর হারা নুর হোসেন অভিযোগ করেন, বিরোধীয় ৮৯৩ দাগে জমির পরিমান ৮৭ শতাংশ। যেখানে তার সবতবাড়ি-ঘর এবং দোকান ভিটা রয়েছে। আদালত তিনটি দাগের (৫২১, ৫২৩ এবং ৮৯৩) ৪০ শতাংশ জমি থেকে উচ্ছেদের আদাদেশ দিয়েছেন। কিন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা প্রতিপক্ষ স্থানীয় চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে তাকে ( নুর হোসেন) ৮৯৩ দাগের ৪০ শতাংশ জমি থেকে বসতঘর-বাড়ি ও দোকান ঘরের দখল থেকে উচ্ছেদ করেছেন। এমন তৎপরতার মধ্যদিয়ে আদালতের আদেশের অপব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নুরহোসেন।

    চরফ্যাসন সহকারী জজ আদালতের নাজির মো.আবুল কালাম আজাদ সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, ২০০৫ সনের ২২ ফেব্রুয়ারী বাদী কলমজানের পক্ষে মামলাটির রায় হয়। ওই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদী নুর হোসেন গংরা আপিল না করায় বাদী উচ্ছেদ মামলা করেন। ওই মামলায় চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর আদালত দখল সনদ ইস্যু করেন। আদালতের রায় বাস্তবায়নে তিনি কাজ করছেন। নাজির আবুল কালাম আজাদ আরো জানান, উকিল কমিশনের আইনজীবি মো.ছিদ্দিক উল্যার নির্ধারণকৃত সীমানা অনুযায়ী নুর হোসেন পরিবারকে উচ্ছেদ করে প্রতিপক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

    নুরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নুর হোসেনের বোন রাবেয়াগংদের থেকে আমি জমি ক্রয় করি। নুর হোসেন এবং রাবেয়াগংদের মধ্যে মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান ছিল। রাবেয়াগংরা আদালতের আদেশে জমি ফিরে পাওয়ায় ক্রেতা হিসেবে আমিও জমির দখল ফিরে পেয়েছি। আদালতের আদেশে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমি কমির দখল বুঝে পেয়েছি। এখানে লুটের অভিযোগ অবান্তর।

    দুলারহাট থানার ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, অপত্তিকর ঘটনাকে এড়াতে আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ স্থানে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

    এস রহমান/জনশক্তি

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন