১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

লেবাননে দূতাবাসের সামনে প্রবাসীদের বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ

জনশক্তি ডেস্ক:

ডলার নয়, লেবানিজ মূদ্রায় বিমান টিকেটের মূল্য নির্ধারণের দাবীতে এবং দূতাবাস কর্তৃক ৪শত মার্কিন ডলার বিমান টিকেট ঘোষণার প্রতিবাদে লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী। সে সময় বিক্ষোভকারীদের উপর অতর্কিত ভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। অন্তত ছয়জন প্রবাসী সেসময় আহত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় বৈরুত রফিক হারিরি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। গত ২১ ডিসেম্বর সোমবার এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, প্রবাসীদের দাবির মুখে অবৈধ প্রবাসীদের দেশে ফেরাতে কর্মসূচী গ্রহন করে বাংলদেশ দূতাবাস। আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ প্রবাসীদের নাম নিবন্ধনের কথা রয়েছে। এই মর্মে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এক নোটিশও জারি করা হয়। তবে বিমান টিকেট বাবদ ৪শত মার্কিন ডলার এর ঘোষণা দেয় দূতাবাস। আর এতেই ঘটে বিপত্তি।

বিক্ষোভকারীরা জানান, বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছে সরকারী খরচে লেবানন প্রবাসীদের দেশে নিবে, তাহলে দূতাবাস কেন ৪শত ডলার দাবি করছে। লেবাননে ২০০ ডলার বা তারো কম মূল্যে এবং লেবানিজ পাউন্ডে দিয়ে বিমান টিকেট পাওয়া যায়, সেখানে দূতাবাস নোটিশ জারি করে ৪শত ডলারের। তাহলে ২০০ডলার বেশী কেন নিবে। প্রথমত লেবাননে ডলার পাওয়া যায়না,দ্বিতীয়ত ২শত ডলার কম মূল্যে এবং লেবানিজ পাউন্ড দিয়ে যেখানে বিমান টিকেট পাওয়া যায়, সেখানে ৪শত ডলারের দাবি বাংলাদেশ দূতাবাসের। লেবানন যখন প্রবাসীদের প্রতিদিন নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে ৪ শত কিভাবে দিব, আর ২শত ডলার কেন দূতাবাস বেশী নিবে।

বিক্ষোভকারীরা আরো বলেন, যদি দূতাবাস প্রবাসীদের বিনামূল্যে দেশে ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যার যার আউটপাশ তার তার হাতে দিয়ে দিক, প্রবাসীরা যেন কম দামে টিকেট কিনে দেশে যেতে পারে।

এদিকে ঘটনাটি দ্রুত ফেসবুক সহ বিভিন্ন সুশাল মিডিয়া ছড়িয়ে পরে। ফেসবুকে পাওয়া ফুটেজে আন্দোলন কারীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

জানা যায়, গত ১৪ ডিসেম্বর দূতাবাস প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে অবৈধ কাগজপত্র বিহীন প্রবাসীরা। লেবাননের বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং বাংলাদেশের অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত নিউজ পরিপ্রেক্ষিতে এবং গত শুক্রবার (১৮ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস -২০২০ উপলক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানিয়েছিলেন, লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া প্রবাসীদের সম্পুর্ন সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

মন্ত্রী ইমরান আহমেদ এর এমন ঘোষণার পরদিনই বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেইজে জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে নাম নিবন্ধনের ঘোষণা প্রকাশ পায়। সেই ঘোষণা বা বিজ্ঞপ্তিতে ফিস/ জরিমানা বাবদ একলক্ষ চল্লিশ হাজার লেবানিজ লিরা এবং টিকেট বাবদ চারশত আমেরিকান ডলার জমা দিয়ে যারা দেশে ফিরতে ইচ্ছুক তাদেরকে নাম নিবন্ধন করতে বলা হয়।

লেবাননে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে অনাহারে অর্ধাহারে, কর্মহারা অনেকে বাংলাদেশ থেকে টাকা এনে জীবন রক্ষা করা অবস্থায় এই মূহুর্তে ডলার সংগ্রহ করা খুবই কঠিন হবে তাই ডলারের পরিবর্তে লেবানিজ মূদ্রায় টিকেটের মূল্য নির্ধারণে দূতাবাসের নিকট দাবী জানায় তারা। তাছাড়া ২৫ থেকে ২৮ ডিসেম্বর যেই নিদিষ্ট সময়ে বেধে দেয়া হয় এই সময়সীমা বাড়ানোর দাবীও জানায় তারা।

লেবাননে ডলার সংকট কারণে প্রত্যেক জিনিসপত্রে দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালের বাহিরে। বর্তমানে লেবাননে ডলার নামটা যেন,”সোনার হরিণ “!কোথাও ডলার পাওয়া যাচ্ছেনা। একশত ডলার যাহা আগে ছিল এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার লেবানিজ লিরা বর্তমানে তাহা ব্লেক মার্কেট থেকে ক্রয় করতে লাগে আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার লেবানিজ লিরা।

সরকার এবং বাংলাদেশ বিমান যদি আমাদের এই অসহায় পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের পাশে এসে সহযোগিতা না করেন তাহলে আমরা যারা অবৈধ কাগজপত্র বিহীন আছি তাদের জন্য দূতাবাস আউট পাসের ব্যবস্থা যেন করেন। আমরা নিজেরাই নিজেদের টিকেট করে দেশে ফেরত যাবো।

অন্যদিকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনকারী প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে দূতাবাসের প্রথম সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,পূর্বে অবৈধ কাগজপত্র বিহীন প্রবাসীদেরকে যেভাবে প্রেরণ করা হয়েছে সেই নিয়মে দূতাবাস এবারও একই পদ্ধতিতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়াও বলেন, বাংলাদেশ সরকার থেকে বিনা খরচে নেয়ার ব্যাপারে যদি দূতাবাস দিকনির্দেশনা পায় তাহলে আমাদের বা দূতাবাসের কোন আপত্তি নেই।

আরও পড়ুন