২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে সিঙ্গাইর উপজেলা প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করলেন মানিকগঞ্জ নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ডেল্টা প্লাস’নিয়ে কেন এত শঙ্কা গোটা বিশ্বের? রাশিয়াকে উড়িয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করলো ডেনমার্ক সিঙ্গাইরে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, নগদ এজেন্ট মালিককে অর্থদণ্ড প্রথম দিনে নাম নিবন্ধন করেছে ১৯৪জন পাসপোর্ট নাম্বার বিহীন লেবানন প্রবাসী সিঙ্গাইরে ট্রাকচাঁপায় মটরসাইকেল চালকের মৃত্যু একদিন নয়, প্রতিদিন হোক বাবা দিবস ব্র্যাকের মানবিধকার ও আইন সচেতনতা বিষয়ক মতনিময় সভা পরীমনির বাসা যেন মদের বার, প্রতিদিনই বসে আসর
শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন

ধর্মীয় বিধি-বিধান ও প্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখতে রাজনীতিতে শক্তিশালী ইসলামী দল দরকার

জনশক্তি রিপোর্ট:

যদি রাজনীতির ময়দানে কোনো শক্তিশালী ইসলামী দল না থাকে, তাহলে কোনো ধর্মীয় বিধি-বিধান বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিরাপদ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র কেন্দ্রী সহ-সভাপতি ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিধি-বিধান ও প্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখতে রাজনীতিতে শক্তিশালী ইসলামী দল দরকার।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে (৭ জানুয়ারী) বৃহস্পতিবার মহানগরীর ধোপাদিঘীর পাড়স্থ ইউনাইটেড কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে রাহবারে মিল্লাত আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রাহ.)এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আল্লামা ফারুক বলেন, আল্লামা নূর হোসাইন ক্বাসেমী (রাহ.)এর অন্যতম একটি ফিকির ছিলো দেশে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের পতাকাবাহী, আকাবিরের আমানত “জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম”কে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়! আল্লামা কাসেমী (রাহ.) অনুভব করেছিলেন যে, রাজনীতির ময়দানে কোনো শক্তিশালী ইসলামী দল থাকলে দেশের মসজিদ-মাদ্রাসা, ইসলামী কৃষ্টি-কালচার সবকিছুই যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা অনেকেই হয়তোবা মনে করি যে, এই তো নির্বিঘ্নে মাদ্রাসায় পড়াচ্ছি, নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম পালন করছি- সবই ঠিক আছে। কিন্তু না; বরং বাস্তবতা হলো সকল প্রকার দ্বীনি কর্মকাণ্ড নিরাপদে পালন করার জন্য ইসলামী রাজনীতির প্রয়োজন। আর দিন যতো যাচ্ছে ইসলামী রাজনীতির ততো তীব্র প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। যার কারণে এই ইসলামী রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী করা আবশ্যক। এজন্য ক্বাসেমী (রাহ.)এর আকাঙ্খা ছিলো দেশের ৬৪টি জেলাতেই যেনো পুরোদমে জমিয়তের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি জেলাতেই যেনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ব্যবস্থা হয়।

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য বেশি-বেশি ভোটার প্রয়োজন। আর ভোটারের জন্য বেশি-বেশি সদস্য প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, আমরা অনেকেই আছি যারা জমিয়তকে ভালোবাসি; কিন্তু জমিয়তী নই। জমিয়তের ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। অথচ আমাদের উচিত ছিলো জমিয়তকে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রকৃত জমিয়তী হওয়া। অর্থাৎ সবসময় জমিয়তের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনা করা, সর্বদা জমিয়তকে সামনে বাড়ানোর চেষ্টা করা।

তিনি বলেন, আমরা জমিয়তকে ভালোবাসি ঠিকই; কিন্তু জমিয়তের দাওয়াত নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়া বা কীভাবে জমিয়তকে সামনে বাড়ানো যাবে সেটা ভাবি না। অথচ সাধারণ রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীরাও নিজেদের সব পিছুটান ফেলে দলের জন্য সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদেরও এরকম দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া দরকার যে, আমরা জমিয়তকে সামনে বাড়াবো; জমিয়তের সদস্য বাড়াবো- ভোটার বাড়াবো। সদস্য ও ভোটার না বাড়ালে আপনি চাই সভাপতি হোন বা মহাসচিব- তথাপি মূল উদ্দেশ্যটাই আদায় হবে না। কেননা একাকি আপনি সমাজে কোনো পরিবর্তনই নিয়ে আসতে পারবেন না। তাই সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি আমাদেরকে সদস্য ও ভোটার বাড়ানোর বিষয়টা নিয়েও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, এমনটাই ছিলো ইসলামী রাজনীতি ও জমিয়ত নিয়ে আল্লামা ক্বাসেমী রাহ.-এর একটি বড় আকাঙ্খা। সুতরাং আমরা যদি সত্যিকার অর্থেই ক্বাসেমী রাহ.-এর আদর্শ ও ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটাতে চাই, তাহলে তাঁর এই মনোকামনাকে আমাদের বাস্তবে রূপদান করতে হবে। তাহলেই আমরা হযরত রাহ.-এর রুহানী ফয়জিয়াত থেকে বরকত লাভ করতে পারবো। মহান আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে হযরত ক্বাসেমী রাহ.-এর এই মনোবাসনা পূরণ করার; জমিয়তের কাজকে বেগবান করার; দ্বীনের হেফাজত করার ও দ্বীনের উপর অটল থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন।

জেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মুশাহিদ দয়ামিরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- দলের ঢাকা মহানগর সহ সভাপতি ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শিক্ষাসচিব মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা মজদুদ্দীন আহমদ, ছাহেবদায়ে আল্লামা কাসেমী (রাহ.) মুফতি জাবের কাসেমী।

আরো বক্তব্য রাখেন- মহনাগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা খলীলুর রহমান, জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান কোম্পানীগঞ্জী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ, সিলেট মহানগর খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, আল্লামা নূর হোসাইন (রাহ.)এর খলীফা মুফতি জামাল উদ্দিন, জমিয়তের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা ফয়েজুল হাসান খাদিমানী, জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজারের মুহাদ্দিস মাওলানা সিদ্দিক আহমদ চিশতী প্রমুখ।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল যৌথভাবে পরিচালনা করেন- মাওলানা সৈয়দ সালেম কাসেমী ও মাওলানা নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন