২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মিথ্যা মামলায় পুলিশ সদস্যকে হয়রানির অভিযোগ রাস্তার মুখে উঁচু দেয়াল, অবরুদ্ধ একটি মুসলিম পরিবার সিঙ্গাইরে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা সিঙ্গাইরে ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিঠু গ্রেফতার সিঙ্গাইরে ১১ ইউপিতে ৪৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল পাবজি খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সিঙ্গাইরে বন্ধুর হাতে প্রাণ গেল কিশোরের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে আ.লীগ প্রার্থীর ছেলে আটক সিঙ্গাইরে শিশু বলাৎকার মামলার প্রধান আসামী মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার লেবাননে ফের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, প্রবাসীদের উপচেপড়া ভির লেবানন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
সিঙ্গাইর পৌরসভা নির্বাচন

ধানের শীষের প্রার্থী জয়,নৌকার জন্য লড়ছেন অর্ধডজন নেতা

মোবারক হোসেন:

পঞ্চম ধাপে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পৌরসভার নির্বাচন। আসন্ন এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দলের (বিএনপি) প্রার্থী চুড়ান্ত হলেও এখনো প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনেছেন অর্ধডজন নেতা। তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। মনোনয়ন প্রত্যাশী ছয় জনের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। নৌকা নিশ্চিত করতে সবাই দলের শীর্ষ মহলে জোড় লবিং করছেন। কে পাচ্ছেন নৌকা, এ নিয়ে পৌরসভার সর্বত্রই চলছে সরব আলোচনা।

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি। যাচাই-বাছাই ৪ ফেব্রুয়ারি। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ করা হবে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে।

পৌর নির্বাচন নিয়ে আপাতত টেনশনমুক্ত বিএনপি। এবার দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাত্র একজন। তিনি হলেন, বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইঁয়া জয়। ইতিমধ্যে সুপারিশ করে তার একক নাম দলের মনোয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয় ছাত্র জীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ছিলেন উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি। বর্তমান পৌর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দুই বারের নির্বাচিত এই মেয়র।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে টেনশনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী অর্ধডজন নেতা। তারা প্রার্থী হওয়ার জন্য পৌর আওয়ামী লীগ কর্তৃক নির্ধারিত বিশ হাজার টাকা দিয়ে ফরম কিনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী ঠিক করতে ব্যার্থ হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছয় জনের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন নৌকা নিশ্চিত করতে সবাই দলের শীর্ষ মহলে দৌড়ঝাঁপ ও জোড় লবিং করছেন। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদ সদস্য মীর মোঃ শাহজাহান। তিনি পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০২ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে মীর মো: শাহজাহান বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী প্রয়াত দেওয়ান মোজহারুল হক মহরকে ২৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর দুটি নির্বাচনে দলের মধ্যে একাধিক প্রার্থী থাকায় বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়ার কাছে পরাজিত হন তিনি।

আবু নাঈম মো: বাশার। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের সাবেক স্বামী প্রয়াত বাউল সম্রাট আব্দুর রশিদ সরকারের জৈষ্ঠ ছেলে। ২০১৬ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয় হন তিনি। পারিবারিক ভাবেই আবু নাইম মো: বাশার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সম্পৃক্ত। তিনি সিঙ্গাইর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন আবু নাঈম মো: বাশার।

হাজী আব্দুল বারেক খাঁন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিঙ্গাইর পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির চারবারের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ব্যবসা ও রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। জনহিতৈষী হিসেবে এলাকায় রয়েছে তার বেশ সুনাম।

মো: ওবায়েদুল হক। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে ওবায়েদুল হক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা য্বুলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

এই চারজন ছাড়াও পৌর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিঙ্গাইর সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি মোঃ নজরুল ইসলাম খান রতন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন খাঁন দলটির মনোনয়ন চেয়ে জোড় লবিং করছেন।

অপরদিকে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ) থেকে অ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুর রহমান (ছায়েদ) ও জাতীয় পার্টি থেকে আবু বকর সিদ্দিক নিজ নিজ দলের ব্যানারে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা জাহাবুল হক জাহাবুল। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।

২০০১ সালে সিঙ্গাইর পৌরসভায় উন্নতি হয়। ৯ ওয়ার্ডে বর্তমান পৌরসভার মোট ভোটার ২২ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ১২০ও নারী ভোটার ১১ হাজার ৫৬৫ জন।

২০০২ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী প্রয়াত দেওয়ান মোজহারুল হক মহরকে মাত্র ২৯ ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রাথী মীর মো: শাহজাহান। ২০১১ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে ৬ হাজার ১৭৩ ভোট পেয়ে মীর মো: শাহজাহানকে ৫৩৭ ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া (জয়)। মীর মো: শাহজাহান পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৬৩৬ ভোট। ওই নির্বাচনে দুই হাজারের মতো ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী প্রয়াত এমএম আলমগীর হোসেন।

২০১৬ সালে তৃতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া (জয়) ধানের শীষ প্রতীকে ৬ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়ে পুণরায় মেয়র নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে মীর মোঃ শাহজাহান ৪ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় আর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু নাঈম মোঃ বাশার নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিগত দুটি নির্বাচনে দলীয় কোন্দল ও দলের ভিতর একাধিক প্রার্থী থাকায় পৌর মেয়রের চেয়ারটি হাত ছাড়া হয় আওয়ামী লীগের। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন ও একক প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হলে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হবে। তারা এও বলেছেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও অবাধ হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, বিগত দুটি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়। এবার স্থানীয় সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যে কোনো মুল্যে একজন প্রার্থী করার চেষ্টা করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী ছয় জনের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিবে, দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করবে। এবার দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে আওয়ামী লীগ।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মাঈনুল ইসলাম খান শান্ত’র দিকনির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয়ের নাম চুড়ান্ত করা হয়। মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করে তার একক নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের দলের মধ্যে কোনো বিরোধ ও কোন্দল নেই। তাছাড়া উচ্চ শিক্ষিত ও ভদ্র হিসেবে এলাকায় খোরশেদ আলম ভূইয়া জয়ের সুনাম রয়েছে। তার দশ বছরের শাসনামলে পৌরসভার প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়। জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে আমাদের দলীয় প্রার্থীই বিজয়ী হবে। জবরদখল ছাড়া তার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা।

আরও পড়ুন