১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
সিঙ্গাইর পৌর নির্বাচন

ধানের শীষ জয়ের, কে পাচ্ছেন নৌকা, ভাগ্য নির্ধারণ আজ

মোবারক হোসেন:

পঞ্চম ধাপে আগামী ২৮ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পৌরসভার নির্বাচন। পৌরসভার সর্বত্রই এখন চলছে নির্বাচনী আমেজ। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দলের (বিএনপি) মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত। শুধু ঘোষণা দেওয়া বাকি। তিনি হলেন, বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূঈঁয়া জয়।

এদিকে আজ ভাগ্য নির্ধারণ হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর। বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় নির্ধারণ হবে কে পাচ্ছেন নৌকা। এ নিয়ে ছয় মনোননয়ন প্রত্যাশী ও তাদের কর্মীসমর্থকরা ভুগছেন হাইপারটেনশনে। কাকে মনোনয়ন দিলে ভাল হবে? কাকে দেওয়া উচিত? কার জয়ের সম্ভাবনা বেশী? এ নিয়ে পৌরসভার সর্বত্রই চলছে সরব আলোচনা।

তফসিল অনুযাযী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি। যাচাই-বাছাই ৪ ফেব্রুয়ারি। আর প্রত্যাহার ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতীক বরাদ্ধ ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোট গ্রহণ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদ সদস্য সাবেক মেয়র মীর মোঃ শাহজাহান, আবু নাঈম মো: বাশার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিঙ্গাইর পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির চারবারের সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল বারেক খাঁন, মো: ওবায়েদুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিঙ্গাইর সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি মোঃ নজরুল ইসলাম খান রতন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন খাঁন।

তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। নৌকা বাগিয়ে আনতে সবাই দলের শীর্ষ মহলে দৌড়ঝাঁপ ও জোড় লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে মনোনয়ন দৌড়ে শীর্ষে আছেন দুই জন। তারা হলেন, সাবেক মেয়র মীর মো: শাহজাহান ও আবু নাঈম মো: বাশার। এই দুই জনের মধ্যে চলছে এখন মনোনয়ন যুদ্ধ। নির্বাচনী মাঠে ছেড়ে এখন তারা নৌকার জন্য ঘুড়ছেন স্থানীয় এমপি, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে। অবস্থা এমন যে, এবার “নৌকা যার মেয়রের চেয়ার তার” এই উক্তিকে সামনে রেখে মনোনয়নের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করছেন। শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন নৌকা, তা নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের কর্মীসমর্থকরা ভুগছেন হাইপারটেনশনে। সবাই তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের দিকে। অনেকেই যোগাযোগ করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, স্থানীয় এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের গুড বুকে যার নাম আছে, তিনিই হবেন এবারের নির্বাচনে নৌকার কাণ্ডারি।

অপরদিকে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ) থেকে অ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুর রহমান (ছায়েদ) ও জাতীয় পার্টি থেকে আবু বকর সিদ্দিক নিজ নিজ দলের ব্যানারে পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা জাহাবুল হক জাহাবুল। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।

২০০১ সালে সিঙ্গাইর পৌরসভায় উন্নতি হয়। ৯ ওয়ার্ডে বর্তমান পৌরসভার মোট ভোটার ২২ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ১২০ও নারী ভোটার ১১ হাজার ৫৬৫ জন।

২০০২ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী প্রয়াত দেওয়ান মোজহারুল হক মহরকে মাত্র ২৯ ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রাথী মীর মো: শাহজাহান। ২০১১ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে ৬ হাজার ১৭৩ ভোট পেয়ে মীর মো: শাহজাহানকে ৫৩৭ ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া (জয়)। মীর মো: শাহজাহান পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৬৩৬ ভোট। ওই নির্বাচনে দুই হাজারের মতো ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী প্রয়াত এমএম আলমগীর হোসেন।

২০১৬ সালে তৃতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া (জয়) ধানের শীষ প্রতীকে ৬ হাজার ৮৭৬ ভোট পেয়ে পুণরায় মেয়র নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে মীর মোঃ শাহজাহান ৪ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় আর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু নাঈম মোঃ বাশার নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিগত দুটি নির্বাচনে দলীয় কোন্দল ও দলের ভিতর একাধিক প্রার্থী থাকায় পৌর মেয়রের চেয়ারটি হাত ছাড়া হয় আওয়ামী লীগের। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন ও একক প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হলে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হবে। তারা এও বলেছেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও অবাধ হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, বিগত দুটি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়। এবার স্থানীয় সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যে কোনো মুল্যে একজন প্রার্থী করার চেষ্টা করছেন। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিবে, দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করবে। এবার দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই বদ্ধপরিকর। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে আওয়ামী লীগ।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও  সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মাঈনুল ইসলাম খান শান্ত’র দিকনির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয়ের নাম চুড়ান্ত করা হয়।  মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করে তার একক নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।  এ নিয়ে আমাদের দলের মধ্যে কোনো বিরোধ ও কোন্দল নেই। তাছাড়া উচ্চ শিক্ষিত ও ভদ্র হিসেবে এলাকায় খোরশেদ আলম ভূইয়া জয়ের সুনাম রয়েছে। তার দশ বছরের শাসনামলে পৌরসভার প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়। জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে আমাদের দলীয় প্রার্থীই বিজয়ী হবে। জবরদখল ছাড়া তার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা।

আরও পড়ুন