১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

নাক থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে?

জনশক্তি ডেস্ক

করোনাভাইরাস পরীক্ষা মানুষের শরীরের ক্ষতি করে-এ নিয়ে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে করোনা পরীক্ষার পদ্ধতি আসলেই মানুষের শরীরের কোনো ক্ষতি করে কি না তা কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমেই জানা যাবে।
ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এ রকম কয়েকটি দাবি যাচাই করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বিবিসির রিয়ালিটি চেক বিভাগের জ্যাক গুডম্যান ও ফিয়োনা কারমাইকেল। করোনায় নমুনা যে নাক থেকে সংগ্রহ করা হয়, তা মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতিই করে না। নাকের ভেতর থেকে সোয়াব বা নমুনা নেওয়ার একটি ছবি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। ছবির সাথে দাবি করা হয়েছে, নমুনা নেওয়া হচ্ছে ‘ব্লডা-ব্রেন-ব্যারিয়ার’ থেকে। রক্ত থেকে কোনো রকম বিষাক্ত পদার্থ বা জীবাণু যাতে মস্তিষ্কে ঢুকতে না পারে, সেই কাজ করে এই ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার অর্থাৎ এটি মস্তিষ্কের জন্য একটি সুরক্ষা দেয়াল। নাকের ভেতর থেকে নমুনা নেওয়ার সময় ওই দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
মস্তিষ্ককে রক্ষা করার জন্য তাকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্তর। প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত সুরক্ষা স্তর হলো মাথার খুলি। এই খুলির ভেতরেও মগজ বা মস্তিষ্ককে রক্ষা করছে সুরক্ষা ঝিল্লি এবং কিছু জলীয় পদার্থের আস্তরণ। মস্তিষ্কের দেয়ালে যে রক্তনালিগুলো আছে, সেটার মধ্যে থাকা ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার হলো শক্তভাবে ঠাসা কোষের স্তর। এই সুরক্ষা স্তরের কাজ হলো রক্ত থেকে ক্ষুদ্র অণুকে মস্তিষ্কে ঢুকতে বাধা দেওয়া। কিন্তু রক্ত থেকে অক্সিজেন এবং পুষ্টি এই স্তর ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকতে পারে। নাকের ভেতর দিয়ে সোয়াব নেওয়ার জন্য কাঠি ভেতরে ঢোকানো হলে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছাতে তাকে প্রথমে অনেকগুলো কোষের স্তর ভেদ করতে হবে, তারপর খুলির হাড়ের মধ্য দিয়ে ঢুকতে হবে মস্তিষ্কের দেয়ালে রক্তনালির ভেতর। সেখানে পাহারা দিচ্ছে ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার। তাকে ডিঙিয়ে তবেই মস্তিষ্ককে জখম করার জায়গায় পৌঁছাতে পারবে সোয়াব স্টিক।
নাক থেকে নমুনা নেওয়ার পদ্ধতিতে যে সোয়াব স্টিক ঢোকানো হয়, তা ‘ব্লাড ব্রেন ব্যারিয়ার’ বা রক্তনালির সুরক্ষা দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে যথেষ্ট জোরে সেটা ঢোকাতে হবে-এতটা জোরে যাতে কয়েক স্তর কোষ, কলা ও হাড় ভেঙে সেটা ঢুকতে পারে। কোভিড সোয়াব নেওয়ার সময় এ ধরনের কোনো জটিলতার কোনো ঘটনা আমরা দেখিনি, বলছেন ব্রিটিশ নিউরোসায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের ড. লিজ কোলথার্ড। নাক ও শ্বাসনালির ভেতর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় শ্বাসনালির মধ্যে জীবাণুর উপস্থিতি পরীক্ষা করে দেখা হয়। ব্রিটেনে নাক ও গলা থেকে নমুনা নিয়ে নিয়মিতভাবে কোভিড-১৯-এর পরীক্ষা করা হচ্ছে। লিভারপুলের স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ড. টম উইংফিল্ড বলছেন, ‘আমি হাসপাতালে বহু রোগীর নমুনা নিয়েছি। আমি একটা ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছি, ফলে নিজের নমুনাও আমি প্রতি সপ্তাহে এভাবে নিচ্ছি। নাকের ভেতর দিয়ে সোয়াব নেওয়ার সময় মাথার অত কাছে পৌঁছানো অস্বাভাবিক। এভাবে নমুনা নেওয়ার সময় সুড়সুড়ি লাগার মতো বা চুলকানির মতো অনুভূতি হতে পারে, কিন্তু ব্যথা কখনোই লাগবে না।
গেল ৬ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এ অভিযোগ জানানো হয় এবং কোনো কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে এই তথ্যের সাথে টেস্টিং প্রত্যাখ্যান করারও আহ্বান জানানো হয়। করোনাভাইরাস পরীক্ষার সরঞ্জাম থেকে সংক্রমণ ঘটতে পারে এমন ধারণা দিয়ে তথ্য ছড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন