১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • নির্বাচনী সহিংসতায় আ.লীগের নেতাকর্মীসহ সারাদেশে নিহত ১৭
  • নির্বাচনী সহিংসতায় আ.লীগের নেতাকর্মীসহ সারাদেশে নিহত ১৭

    জনশক্তি সাংবাদ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) দিনগত মধ্যরাত থেকে রোববার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৯টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ কমপক্ষে ১৭ জন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    এদের মধ্যে চট্টগাম বিভাগের ৬ জেলায় ৮ জন, রাজশাহীতে ২জন, বগুড়া, ও নরসিংদীতে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দশজনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

    এর আগে, রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। এই আটঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

    রাঙামাটিতে যুবলীগ নেতা, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতা ও এক কর্মী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক যুবক, নরসিংদীতে নৌকার এজেন্ট, বগুড়ায় ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি, কক্সবাজারে ছাত্রলীগের কর্মী, নোয়াখালীতে আনসার সদস্য, দিনাজপুরে বৃদ্ধ ভোটার, কুমিল্লায় ঐক্যফ্রন্টের কর্মী ও এক সমর্থক, সিলেটে ছাত্রদল নেতা, লালমনিরহাটে বিএনপি নেতা, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের নেতা এবং লক্ষ্মীপুরে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো জেলাভিত্তিক এসব ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

    চট্টগ্রাম: নির্বাচনী সহিংসতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জেলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় নিহত হয়েছেন দুইজন করে চারজন। অন্যান্য জেলার মধ্যে কক্সবাজারের পেকুয়া, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন করে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন কিশোর ও একজন আনসার সদস্য রয়েছেন।

    কেন্দ্র দখল, ভোট গ্রহণে বাধাদান ও প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে তারা নিহত হয়েছেন।

    এর মধ্যে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা ঝিরি ইউনিয়নের পশ্চিম মালিয়াপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদেক (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি আফরুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পটিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদেক নিহত হন। সংঘর্ষের কারণে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। পরে আবার শুরু হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।

    জেলার বাঁশখালী উপজেলার বড়ইতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার গভীর রাতে ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তার নাম আহমেদ কবির (৫৫)।

    জানা গেছে, রাত ২টার দিকে ভোটকেন্দ্রে বুথ সাজানোর পর কর্মকর্তারা ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় মাইক্রো, মোটরসাইকেল এবং সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ৮ থেকে ১০ জন এসে পুলিশ পরিচয়ে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। আগে থেকে এ কেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান নেওয়া বিএনপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম ও জামায়াত সমর্থিত জহিরুল ইসলামের সমর্থকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সংঘর্ষ বাধলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালায় পুলিশ। গোলাগুলির এক পর্যায়ে নিহত হয় কবির। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই বিমল, কনস্টেল আবু সুফিয়ান ও ফরহাদ আহত হয়। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    রাঙামাটি: জেলার কাউখালি উপজেলায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

    নিহত মো. বাছির উদ্দিন ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, ঘাগড়া ইউনিয়নের রাঙ্গীপাড়া এলাকায় রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিএনপি ও যুবলীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে গোলাগুলির এক পর্যায়ে নিহত হন বাছির।

    সংঘর্ষে আহত আরও ১০ জনকে কাউখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ মিয়া।

    এছাড়া এখানে পৃথক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৩ জন।

    রাজশাহী: জেলার তানোর ও মোহনপুর ইপজেলায় নির্বাচনী সংঘর্ষে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোদাচ্ছের আলী (৪০) ও মোহনপুর উপজেলার আব্দুস সাত্তারের পুত্র মিরাজুল ইসলাম মেরাজ (২৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোদাচ্ছের আলী ভোট দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় হঠাৎ করেই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠি ও হকিস্টিক নিয়ে অতির্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের এলোপাথারি পিটিয়ে জখম করে। এ সময় লাঠির আঘাতে মোদাচ্ছের আলী গুরুতর জখম হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বিএনপি-জামায়াত ভোট কেন্দ্র দখল করতে এলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোদাচ্ছেরের মাথার পেছনে আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যান। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক জানান আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

    মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোরশেদ আলী মৃধা জানান, এ ঘটনার পর ভোটগ্রহণ ২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। পরে আবারও ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

    তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশসহ বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে জানান তিনি।

    অন্যদিকে মোহনপুরে ভোট কেন্দ্র দখল করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মেরাজুল ইসলাম মেরাজ (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। মেরাজুল পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

    মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেন জানান, বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা কেন্দ্রের দখল নিতে গেলে আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় তারা ছাত্রলীগ লীগ কর্মী মেরাজুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মাথায় জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    রাজশাহী-০৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ আয়েন উদ্দিন জানান, নিহত মেরাজুল উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য। বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা ভোট কেন্দ্র দখল করতে এসে তাকে কেন্দ্রের সামনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে।

    তবে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন বলেন, মেরাজুল ছাত্রলীগ কর্মী নয়। সে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা। সাংসদ আয়েন উদ্দীন গাড়িতে থেকে নিজে গুলি করে তাকে হত্যা করেছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইসরাইল মিয়া (১৯) নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি রাজঘর গ্রামের ছাওয়াল মিয়ার ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

    বগুড়া: জেলার কাহালুতে ভোটকেন্দ্রের সামনেই আজিজুল ইসলাম (৩০) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

    রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় নাজমুল হাসান দোয়েল নামে এক ওয়ার্ড মেম্বার আহত হয়েছেন।

    নিহত আজিজুল উপজেলার বাগুইন গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে ও পাইকর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। আহত দোয়েল উপজেলার পাইকর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের মাঝে নৌকার স্লিপ বিতরণ করছিলেন আজিজুল ও দোয়েলসহ কয়েকজন। এ সময় বিএনপির ২০/২৫ জন সমর্থক কেন্দ্রের সামনে দিয়ে ধানের শীষের মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় আজিজুলরা ভোটের দিন মিছিলে করতে নিষেধ করলে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    কাহালু থানার ওসি শওকত কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষে আজিজুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার রাফাতউল্লাহ কমউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নোয়াখালী: বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের তুলাচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুপুর ১টার দিকে নুর নবী নামে এক আনসার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেন বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা।

    কক্সবাজার: পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কর্মীদের সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ আল ফারুক (২৪) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। এ দিন সকাল সাড়ে ১১টায় মাতব্বরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা।

    দিনাজপুর: বিরল উপজেলায় সকাল সাড়ে ১১টায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কেমু মোহাম্মদ (৬৫) নামে এক ভোটারের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ উভয়পক্ষের পাঁচজন আহত হন।

    কুমিল্লা: জেলার নাঙ্গলকোট ও চান্দিনা উপজেলায় ভোট চলাকালে সংঘর্ষ ও গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নাঙ্গলকোটে দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন এবং চান্দিনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে আরেকজন নিহত হন।

    কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম দুটি ঘটনারই সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকাল ১১টার দিকে নাঙ্গলকোটের দোলখাড় ইউনিয়নের মোরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বাচ্চু মিয়া (৩৫) নামে একজন নিহত হয়। স্থানীয়রা জানান, বাচ্চু মিয়া ধানের শীষের সমর্থক ছিল। তিনি ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

    এদিকে, চান্দিনা উপজেলার পশ্চিম বেলাস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে মজিবুর রহমান (৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। অতর্কিতভাবে একদল দুর্বৃত্ত ওই কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যালট বাক্স ভাঙচুর করে। এ সময় ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে একজন নিহত হন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত মজিবুর রহমানের বাবার নাম সুজাত আলী। তার বাড়ি মুরাদনগরের ইন্দ্রাচর গ্রামে। তিনি চান্দিনা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন।

    লালমনিরহাট: সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের পাগলারহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দুপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক তোজাম্মেল হক (৬৫) নিহত হন। তিনি ওই এলাকার খলাইঘাট গ্রামের বাসিন্দা।

    গাজীপুর: সিটি করপোরেশনের হারিনাল এলাকায় দুপুর ২টার দিকে লিয়াকত হোসেন (৪২) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। লিয়াকত গাজীপুর কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন।

    লক্ষ্মীপুর: সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র এলাকায় শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে অজ্ঞাতপরিচয় (৩৫) এক যুবক নিহত হন।

    ভোটগ্রহণ শেষে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনী সহিংসতায় আওয়ামী লীগের ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিলো।

    নরসিংদী: জেলার শিবপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় মিলন মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

    রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী-৩ নির্বাচনী এলাকার কোন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন মিয়া ওই এলাকার হযরত আলী মিয়ার ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিংহ প্রতীকের সিরাজুল ইসলাম মোল্লা কোন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে সেখানে তাকে নৌকার সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় কেন্দ্রের বাহিরে নৌকা ও সিংহের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সহিংসতায় মিলন মিয়া ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। মিলন মিয়া আওয়ামী লীগে সমর্থক বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। সহিংসতার খবরে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাাস্থলে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের সমর্থকরা সেখান থেকে সরে যায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

    /এসই

    আরও পড়ুন

    [X]