১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

নীলফামারীতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি

বিষমুক্ত শাক সবজি চাষে সংকল্পে একজোট হয়েছেন একটি গ্রামের সব কৃষক। শীত মৌসুম থেকে সম্পুর্ণ পরিবেশ বান্ধব রাসায়নিক সার ও রাসায়নিক বালাই নাশক ছাড়াই নিবাপদ সবজি আবাদ করছেন তারা।

এতে মানুষকে বিষমুক্ত শাক সবজি খাওয়াতে পারছেন এই ভেবে গর্বিত তারা। এই কৃষকরা সবাই নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের তিলাই জয়চন্ডি গ্রামের বাসিন্দা। এই প্রচেষ্টার কারনে গ্রামটি এখন নিরাপদ সবজি গ্রাম বা অর্গানিক কৃষি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

বিষমুক্ত সবজি গ্রাম ও উৎপাদনকারী কৃষকগণের সাথে মঙ্গলবার মতবিনিময় ও সভা করেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তি যোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, উপ- পরিচালক কৃষিবিদ নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডাঃ রণজিৎ কুমার বর্মন,সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ জন কৃষক ৫ একর জমিতে করোলা, চিচিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়ার ক্ষেতে সেক্স থেরোমন ট্রাপ,হলুদ আঠলো ট্রাপ নেট হাউস, মালচিং, ড্রিপ সেচ, ভাতের মাড়, খৈলের পানি, জৈব বালাই নাশক ইত্যাদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে বিষ মুক্ত শাক সবজি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের চারদিক সবুজ সবজি। কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা মিঠুর পরামর্শে গ্রামের জমিতে চাষ হচ্ছে বিষ মুক্ত নানা রকমের সবজি। বর্তমানে জমিতে রয়েছে সিম, ভুট্টা, কলা, টমোটে, ফুলকপি, ক্ষিরা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, ধনে পাতা, বেগুন ইত্যাদি। এই কৃষক দলের একজন লিটন চন্দ্র তিনি বলেন আগে আমরা জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম। কিট নাশক স্প্রে করতাম। বিভিন্ন জাতের শাক সবজি আবাদ করেছি। তখন আমরা জানতাম এই সব ফসল বিষাক্ত করে এবং এসব খেলে মানুষের নানান রোগ ব্যাধি হয়। আমরা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে জানতে পারি, রাসায়নিক সার, কিটনাশক সার প্রয়োগে জমির ফসল বিষে পরিণত হয় এবং মাটি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর মানুষকে বিষ খাওয়াব না।

বর্তমানে আমাদের গ্রামের সবাই নিারাপদ সবজি আবাদের সংকল্প বদ্ধ হয়েছেন। তিলাই জয়চন্ডি গ্রামের কৃষক চ্যামেলী বর্মন, নিতাই, প্রফুল্ল বলেন কপি, বেগুন, করলা এবং লাল শাক সহ সবজি জাতীয় সব কিছুই আমাদের এখানে আছে। আমরা সব জাতের সবজি চাষ করি। আমরা সবাই চাই বিষমুক্ত সবজি। কারন বিষ প্রয়োগ করলে সবার ক্ষতি। বিষমুক্ত সবজি এবং নিরাপদ খাদ্য আমারা জাতে উৎপাদন করতে পারি কৃষি অফিসের সহায়তায় সে চেষ্টা করছি। আমরা চাই এ জেলার মানুষ যেন নিরাপদ সবজি ক্ষেতে পারে। সবার স্বাস্থ্য যেন ভাল থাকে। বিষমুক্ত সবজি চাষ করলে দামও বেশী পাব। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান নিরাপদ কৃষি গ্রাম হচ্ছে একটি পরীক্ষা মুলক কার্যক্রম। প্রকৃত পক্ষে কৃষিকে বিশ মুক্ত করতে এই উদ্যোগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি গ্রামকে নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে চিহ্নিত করা সহ একটি গ্রামকে নিরাপদ ফল গ্রাম হিসেবে ঘোষনা করতে বলা হয়েছে। যার মধ্যে একটি তিলাই জয়চন্ডি গ্রাম। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কৃষক গ্রুপ করে উঠান বৈঠক সহ হাতে কলমে কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। তাই কৃষকদের মাঝে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন পদ্ধতি কৃষকদের আকৃষ্ট করছে বলে জানান।

লাইটনিউজ/এসআই

আরও পড়ুন