২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে বাতিল হবে তার সংসদ সদস্য পদ: প্রধানমন্ত্রী

জনশক্তি রিপোর্ট

কুয়েতে মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল হোসেন পাপুলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কুয়েতের সে নাগরিক কি-না, সে বিষয়ে কুয়েতের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। আর যদি এটা হয়, তার পদটি খালি করে দিতে হবে। সবকিছু আইন অনুযায়ী চলবে।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের বক্তব্যের জবাবে তিনি একথা বলেন।
এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে পাপুল কুয়েতের নাগরিক কিনা তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পাপুলের বিষয়ে বিএনপির হারুন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা আনুগত্য গ্রহণকারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। পাপুল কুয়েতের নাগরিক হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে এসেছে। তিনি সত্যিই যদি কুয়েতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেই থাকেন তাহলে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দরকার। তিনি নিশ্চয়ই সরকারি (বাংলাদেশ) পাসপোর্টে সে দেশে যাননি। তাহলে তিনি নিঃসন্দেহে বিদেশি নাগরিক। তিনি নির্বাচনের সময় তথ্য গোপন করেছেন। আজকে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে সংবিধান অনুযায়ী আপনার (স্পিকারের) যে দায়িত্ব আশা করবো আপনার জায়গা থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (পাপুল) কিন্তু স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। সে আমাদের নমিনেশন চেয়েছিল আমি কিন্তু তাকে নমিনেশন দেইনি। কিন্তু সে স্বতন্ত্র ইলেকশন করে এসেছে। ওই আসনটি আমরা জাতীয় পার্টিকে দিয়েছিলাম। জাতীয় পার্টির নমিনেশন পেয়েছিল, সে ইলেকশন করেনি। এর ফলে ওই লোকটি জিতে আসে। এরপর তার ওয়াইফ (সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম), সেও যেভাবেই হোক আসে। কাজেই এখানে আমাদের করার কিছু নেই। তিনি (পাপুল) কুয়েতের নাগরিক কিনা সেই বিষয়ে আমরা কুয়েতে কথা বলছি। সেটা দেখবো। আর সেটা হলে তার ওই সিট হয়তো খালি করতে হবে। কারণ যেটা আইনে আছে সেটা হবে। তার বিরুদ্ধে আমরা দেশেও তদন্ত করছি।

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ যে তথ্য দেয়া হয়েছে তা কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ থেকেই ধরেছি। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই কিন্তু সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। অপরাধীদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি। মাননীয় সংসদ সদস্য এই তথ্যটা আগেভাগে জানাতে পারলে আমরা খুশি হতাম। এই তথ্যটা অন্য কেউ কিন্তু জানায়নি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকেই এটা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিয়েছি। সেখানে র‌্যাব গিয়েছে। এসব খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

হারুন তার বক্তব্যে ৫০ লাখ পরিবারকে সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য তালিকা তৈরিতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এ বিষয়ে কে কোন দলের তা বিবেচনায় না নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

করোনাকালীন সময়ে প্রণোদনার দুর্নীতির জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অন্ততপক্ষে ৫০ লাখ পরিবারকে আমরা যে সহযোগিতা দেব, সেই তালিকা যাচাই করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের আইডি কার্ড, ভোটার লিস্টের নাম সবকিছু মিলিয়ে এই তালিকায় আমরা খুঁজে খুঁজে বের করছি। শুধু কাউন্সিলর, মেম্বার, চেয়ারম্যানদের তালিকা আসছে। তাদের তালিকা ধরে ধরে ফোন নম্বর ও ন্যাশনাল আইডি কার্ড মিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটা সিস্টেম করে দিয়েছি। ওখান থেকে যাচাই-বাছাই করে করে তাদের সাহায্য দেয়া হবে।

আরও পড়ুন