১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • প্রতারক রফিকুরের ফাঁদে বিপর্যস্ত রাজিয়া সুলতানা




  • প্রতারক রফিকুরের ফাঁদে বিপর্যস্ত রাজিয়া সুলতানা

    পুর্বের স্ত্রী আয়েশা সহ প্রতারক রফিকুর

    রফিকুর রহমান (রাসেল) নামে লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তি কর্তৃক প্রতারণার শিকার হয়ে দিশেহারা যুব মহিলা লীগ নেত্রী নাজমা পারভিনের পরিবার। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, যুব মহিলা লীগ নেত্রী নাজমা পারভিনের কন্যা কাজী রাজিয়া সুলতানা ২০১০ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে যায়, ২০১৭ সালে সেখানে রফিকুর রহমান নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয় তার, পরিচয়ের সূত্র ধরে দু-জনে মিলে শুরু করেন রেস্টুরেন্টের ব্যবসা। বিবাহিত ও স্ত্রী সন্তানের পরিচয় গোপন করে, রফিকুর রাজিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে প্ররোচনার মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। সহজ সরল রাজিয়া প্রবাসে এসে রফিকুরকে বিশ্বাস করে এবং তার প্রেমে সায় দেয়। সেই প্রেমের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ২০১৮ সালে ১৬ মার্চ দেশে এসে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে রফিকুর রহমানকে বিয়ে করেন কাজী রাজিয়া সুলতানা। রফিকুর তার সাথে যথারীতি সংসার করে আসছিলো।

    কিন্তু হঠাৎ এক রাতে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে তাদের সংসারের ভালবাসায় ভাটা পরা শুরু হয়।

    রাজিয়া বলেন, “আমার স্বামী রফিকুরের মোবাইল সব সময় লক করা থাকে। কিন্তু ওইদিন রাতে সে মোবাইল লক না করে বাথরুমে চলে যায়। এ সুযোগে আমি মোবাইলটি হাতে নিয়ে গ্যালারিতে ঢুকতেই চোখ কপালে উঠে যায়। প্রথমে যদিও একজন মেয়ের ছবি দেখি পরবর্তীতে গ্যালারির আরও ভিতরে ঢুকতেই তার মুখোশ উন্মোচন হতে থাকে। তখন তার সাথে একজন মেয়ে ও বাচ্চাদের ছবি দেখে আমি রহস্যের যোজন-বিয়োজনের বেড়াজালে পড়ে যাই।

    আমি যখন তাকে এটা নিয়ে জিজ্ঞেস করতে যাই, প্রথমাবস্থায় অনেক রাগারাগি করে। তারপর আমাকে মারধর শুরু করে। তখন থেকেই আমাদের সম্পর্কটা ভাল থাকে না। আমি পরবর্তীতে জানতে পারি তার ৩ সন্তানসহ আরও একজন স্ত্রী আছে। যেটা আমার থেকে আড়াল করা হয়েছিলো। এমনকি তার পরিবারের কারও সাথে আমাকে দেখা করায়নি রফিকুর”।

    এছাড়াও রফিকুরের পাসপোর্টে দেখা যায়, তার স্ত্রীর জায়গায় আগের স্ত্রী আয়েশা আক্তার আফরিনের নাম বিদ্যমান। অপরদিকে, আয়েশা আক্তার আফরিনের স্বামীর নামের জায়গায় রফিকুরের নামও থাকতে দেখা যায়। এমনকি বাচ্চাদের জন্ম সনদেও পিতা হিসেবে রফিকুরের নাম ও মাতা হিসেবে আয়েশা আক্তারের নাম উল্লেখ রয়েছে।

    কোনো স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিয়ে যদি আরেকটি বিয়ে করে, আমাদের সমাজে তাকে কি বিয়ে বাণিজ্য বলে? প্রশ্নের উত্তরটা হয়তো আপনাদের জানা আছে । ধোঁকাবাজি এবং একাধিক বিয়েই যার কান্ড, তার ফাঁদে পড়ে একজন মেয়ে। আর তার প্রতিবাদ করায় উল্টো তাকে পোহাতে হচ্ছে নানা রকেম বঞ্চনা।

    সমাজে সম্মানহানি করে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সংবাদ প্রচার, মোবাইল ফোনে হুমকি এবং হামলা-মামলাসহ মেয়েটিকে প্রতিনিয়তই থাকতে হচ্ছে আতঙ্কে। আবার সেই প্রতারককে টাকা না দেওয়ায় বেজায় চটেছেন রাজিয়া সুলতানা নামক ভুক্তভোগী মেয়েটি ও তার মায়ের ওপর। উঠে পড়ে লেগেছেন তার মায়ের রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষিত করতে। এমন প্রতারণার অভিযোগ করেছেন কাজী রাজীয়া সুলতানা ও তার পরিবার।

    রাজিয়া আরও জানায়, “আমার নামে একটা ব্যবসা আছে। সেই ব্যবসা থেকেও অনেক টাকা দিতে হয় রফিকুরকে। আমার কাছে সকল টাকা দেয়ার রিসিট আছে,যা কখনও ফেরত দেয়নি। আমার নামে ও আমার পিতা-মাতার নামের একটা ব্যাংক একাউন্ট থেকে লোন উত্তোলন করে একটি গাড়ি কিনে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। আমি যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি। প্রথমে গালিগালাজ করতো রফিকুর। তারপর একদুইটা চর-থাপ্পর, তারপর সে এতটা বেপরোয়া হয়ে যায় যে, কথায় কথায় গায়ে হাত তোলতো। মশার ব্যাট থেকে শুরু করে বাসায় যা-কিছু হাতের কাছে পায়, এমনকি অফিসেও সকল সহকর্মীদের সামনে মুখে পানি ছুঁড়ে মারতো। নানান রকমভাবে গালিগালাজতো করতোই।

    এত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি পরিবারের সাথে কথা বলে গত ২০১৯ এর জুন মাসের ৭ তারিখ তাকে তালাক দিতে বাধ্য হই। এমনকি তার কাছে কোনো টাকা পয়সাও ফেরৎ চাইনি। বাংলাদেশি আইন মেনে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে পর্তুগাল প্রবাসী এক ছেলেকে বিয়ে করি। বিয়েতে স্বামীর মতামতের ভিত্তিতে আমি কাবিননামায় কুমারী শব্দটি উল্লেখ করি।

    তারপর থেকে রফিকুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকগুলো ফেইক আইডি খুলে আমার ব্যক্তিগত ছবি ভাইরাল করে দেয়। ছবিগুলোতে মাথা আমার কিন্তু বডি অন্যজনের। সে প্রতিনিয়ত এমনটি করে গেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে সরাসরি আমার ফোনে একটি বার্তা পাঠায়। এতে সে লিখে, যদি আমি তার কাছে ফেরৎ না যাই তাহলে আমার জীবন নষ্ট করে ফেলবে। আর আমাকে অন্য কারও হতেও দিবে না।

    তারপর আমার এসব ছবি ছাড়ানোর অভিযোগ এনে পর্ণগ্রাফি আইনে রফিকুরের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি এবং আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কয়েকটি থানায় জিডি করি”।

    ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেছিলো, সে গত ২০১৯ সালের জুন মাসের ৭ তারিখে রফিকুরকে তালাক দিয়েছে। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাজধানীর ওয়ারি এলাকায় কাজী মাহবুবুর রহমানের অফিসে গিয়ে তালাকের সত্যতা ঠিক আছে বলে জানা যায়।

    এদিকে, রাজিয়া সুলতানার মা নাজমা পারভিন বর্তমানে যুব মহিলা লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, প্রতারণার শিকার আমার মেয়ে ও আমার পরিবার অথচ সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা বানোয়াট ও কাল্পনিক তথ্য দিয়ে আমার সম্মানহানি করতে আমার বিরুদ্ধে উঠেপরে লেগেছে প্রতারক রফিকুর।

    ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানা জানান, রফিকুর একজন ভয়ংকর প্রতারক, সে অগ্রনী ব্যাংক প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ থেকে তের কোটি টাকা লোন উত্তোলন করে ফেরত না দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, উক্ত মামলায় রফিকুর ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামী। বিজ্ঞপ্তি

    আরও পড়ুন