১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • ফিরতে নারাজ রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত
  • ফিরতে নারাজ রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত

    জনশক্তি রিপোর্ট: মিয়ানামারের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের অনুকূল না হওয়ায় আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে অস্বীকার করেছে। সে কারণে বৃহস্পতিবারের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সকালে মিয়ানমার সীমান্তে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার শুরুতেই ‘আমরা যাব না’ বলে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। কেউ কেউ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘নাগরিকত্ব ছাড়া আমরা মিয়ানমারে ফেরত যাব না’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।

    দুপুরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফের উনচিপ্রাং ক্যাম্পের তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার কথা ছিল, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে রাজি না।

    তিনি বলেন, এখন আমরা উখিয়ার জামতলী ক্যাম্পে যাব, সেখানের তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের কেউ যদি মিয়ানমারে যেতে চান, তাহলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে। পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা জানতে চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হয়নি।

    এর আগে বেলা ১১টায় তিনি বলেন, আমরা প্রস্তুত রয়েছি। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যেতে চাইলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তবে জোর করে কাউকে পাঠানো হবে না।

    গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধন অভিযানের মুখে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

    সেদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত থাকার অভিযোগ এনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বর্মি বাহিনীর অত্যাচারে পালিয়ে বাংলাদেশে এলেও থেমে থাকেনি অপরাধপ্রবণ রোহিঙ্গাদের কুকর্ম। ক্যাম্পে নিজেদের মধ্যে নিয়মিত বচসা, মারামারি, নেশাদ্রব্য বেচাকেনা, বিভিন্ন দাতা সংস্থার ত্রাণ বেআইনিভাবে বাইরে বিক্রি করা, ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত ও বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর চেষ্টা সহ ভাড়াটে খুনির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণে অনিচ্ছা এবং এইডস আক্রান্ত রোহিঙ্গা নারীরা জড়াচ্ছে দেহ ব্যবসায়। কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে বন কেটে উজাড় করছে ভয়ানক অপরাধপ্রবণ এই গোষ্ঠী।

    এসব কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশের জনগণ।

    জনশক্তি/এস

    আরও পড়ুন

    [X]