২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মাহবুবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মালয়েশিয়া যুবদলের দোয়া মাহফিল আজ দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মোবারক হোসেনের জন্মদিন লেবাননে অনলাইন পোর্টাল “প্রবাস দর্পণ”এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ঐক্যবদ্ধ লেবানন বিএনপি সিঙ্গাইর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাশার জয়ী আজ সিঙ্গাইর পৌরসভা নির্বাচন, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা নৌকার বিজয় নিশ্চিত, আ.লীগ প্রার্থী বাশার মানিকগঞ্জ বার নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ পদে বিএনপি প্রার্থী জয়ী সিঙ্গাইর পৌর নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে একাট্টা আ.লীগ মানিকগঞ্জ বার নির্বাচন: এবারও আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী লুৎফর

বাংলা একাডেমির সভাপতি হলেন সিঙ্গাইরের কৃতি সন্তান শামসুজ্জামান খান

মোবারক হোসেন, সম্পাদক জনশক্তি নিউজ:

বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন সাহিত্যিক ও গবেষক শামসুজ্জামান খান। রবিবার (২৮ জুন) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আগে শামসুজ্জামান খান ১০ বছর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১২ সাল থেকে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সদ্য প্রয়াত ড. আনিসুজ্জামান। গত ১৪ মে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর রবিবার (২৮ জুন) সাহিত্যিক ও গবেষক শামসুজ্জামান খানকে সভাপতি হিসেবে দিয়োগ দেওয়া হয়।

শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এমআর খান কলকাতার সরকারী বাড়িতে অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাঁর দাদার দাদা এলহাদাদ খান এবং তার ভাই আদালাত খান ঐপনিবেশিক ভারতে অত্যন্ত প্রশংসিত নামী বুদ্ধিজীবী ছিলেন। শামসুজ্জামান খান মাত্র দুবছর বয়সে বাবাকে হারান। তার মা এবং দাদি তাঁকে লালন-পালন করেন।

তিনি ১৯৫৬ সালে পৈতৃক ভূমি সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রাম এস এ খান হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫৯ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীকালে তুর্কু বিশ্ববিদ্যালয়, ফিনল্যান্ড থেকে ফোকলোর প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট লাভ করেন শামসুজ্জামান খান।

এই কথা সাহিত্যিক ১৯৬৭ সালের ১০ ডিসেম্বর চারিগ্রাম খান পাড়ার মরহুম জনাব ফরহাদ খানের কণ্যা “হেলেনা বেগমের” সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

পেশাগত জীবনে শামসুজ্জামান খান ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে নিযুক্ত রয়েছেন। এছাড়া তিনি মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ, ঢাকা জগন্নাথ কলেজ ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

শামসুজ্জামান খান বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক-বলে গঠিত ‘ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশের তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির একজন বোর্ড মেম্বার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস-এর ট্রাস্টি বার্ডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। এছাড়া তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাদুঘর বিদ্যা ও ফোকলোর’ বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন।

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে শামসুজ্জামান খানের ১৯টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা পথিকৃৎধর্মী; যেমন: বঙ্গবন্ধু, মীর মশাররফ হোসেন, মওলানা মনিরুজ্জামান এছলামাবাদী, বাংলা সন ও পঞ্জিকা, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং ফোকলোর চর্চার আধুনিকতা ইত্যাদি। গবেষণার পাশাপাশি প্রবন্ধ, রম্যরচনা, ভ্রমণকাহিনি, ক্রীড়া, জীবনী, শিশুতোষ রচনা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ রয়েছে। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৭৮টি।

শামসুজ্জামান খান আপনকর্ম ও জ্ঞান-সাধনার মাধ্যমে ঋদ্ধ করেছেন উদার ও অসাম্প্রদায়িক বাঙালি চেতনা। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস মনস্কতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সম্মিলন তাঁর চিন্তাদর্শন ও কর্মসাধনায় অনন্যরূপ পেয়েছে। তাঁর কর্মের মূল্যায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ফোকলোর ইন কনটেক্সট : এসেজ ইন অনার অব শামসুজ্জামান খান’ এবং ‘শামসুজ্জামান খান ৭৫ পূর্তি সংবর্ধনা গ্রন্থ’ প্রকাশিত হয়েছে। বই দুটিতে দেশ-বিদেশের অনেক খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী, গবেষক, সমাজবিশ্লেষক ও ফোকলোরবিদ লিখেছেন।

শামসুজ্জামান খান ১৯৯৪ সালে দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০০২ সালে কলকাতা কবি সংসদ পুরস্কার, ২০০৪ সালে মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক, ২০০৯ সালে একুশে পদক, ২০০৯ সালে কলকাতা বঙ্গবন্ধু পুরস্কার. গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার ও বর্ধমানের আসানসোলের চুরুলিয়ায় কবি নজরুল একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কারসহ বহু পুরুস্কার ও সম্মাননা পদক পেয়েছেন।

শামসুজ্জামান খান বলেন, বাংলা একাডেমি আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আশা করব আমরা সকলে মিলে বাংলা একাডেমির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করব। এছাড়া তিনি সাবেক সভাপতি আনিসুজ্জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

আরও পড়ুন