২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • ভোলার চরফ্যাশনে পালিত ছেলের প্রতারনার শিকার হয়ে সর্বশান্ত একটি পরিবার




  • ভোলার চরফ্যাশনে পালিত ছেলের প্রতারনার শিকার হয়ে সর্বশান্ত একটি পরিবার

    এম. মাহাবুবুর রহমান নাজমুল, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা।।

    চরফ্যাশনে সিঙ্গাপুর প্রবাসী পালিত ছেলের প্রতারনার শিকার হয়ে সর্বশান্ত একটি পরিবার। বহুবছরের কষ্টে গাঁধা মায়া মমতার স্মৃতি বিজরিত ও তার প্রতারনার ফিরিস্তি তুলে ধরে স্থানীয় সাংসদ’র কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেন ধর্ম বাবা। প্রতারনা ও তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ভূক্তভোগি ধর্ম বাবা সমাজপ্রতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুফল না পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
    স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে আব্দুল জলিল জমাদার এর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদার একই এলাকার নাছির আহাম্মদ এর ছেলে বিল্লাল হোসেন’কে গরিব অসহায়ত্বের কারনে তার ভরন-পোষন ও লেখাপড়ার দায় দায়ীত্ব নিয়ে নিজ গৃহে লালন পালন শুরু করেন। এক পর্যায়ে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ন হয়ে লেখাপড়া ছেড়ে দিলে তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্যাশ দিয়ে স্থানীয় কাশেমগঞ্জ বাজারে একটি মুদি দোকান কিনে দেন। ২ বছর দোকান পরিচালনা করার পর সম্পূর্ন ক্যাশ নষ্ট করে ফেললে সে বেকার হয়ে পড়ে বিল্লাল। ধর্ম বাবা ও মায়ের হাতে-পায়ে ধরে সিঙ্গাপুর যাওয়ার আর্জি জানায়। তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরল বিশ্বাসে জমি বিক্রয় ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সর্বমোট ৪ লক্ষ টাকা খরচ করে সর্বপ্রথম সিঙ্গাপুর পাঠায়। ২ বছর অতিক্রম হলে উপার্জিত টাকা থেকে দেনা পরিশোধের জন্য কোন টাকা ফেরৎ না দিয়ে হঠাৎ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে চলে আসে। ধর্ম বাবা আবারও তার ভবিষ্যতের চিন্তা করে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আসায় ৬৬ হাজার টাকা দিয়ে ‘ঢাকা জনশক্তি ট্রেনিং সেন্টারে’ ভর্তি করে। বছর খানেক পর পুনারায় জমি জমা বন্ধক রেখে আবারও ৪ লাখ টাকা দিয়ে সিঙ্গাপুরে পাঠায়। কথা ছিল, সিঙ্গাপুর গিয়ে ধীরে ধীরে ঋণের সম্পূর্ন টাকা পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু, কথা দিয়েও কথা না রাখায় স্থানীয় পাওনাদাররা তাকে ঋনের টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকলে ধর্ম বাবা জাহাঙ্গীর জমাদার তার বসত বাড়ির জমি হইতে ২ গন্ডা জমি বিক্রয় করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত পালিত ছেলে বিল্লাল ওই জমি ক্রয় বাবদ টাকা পাঠিয়ে দিবে বলে তার নামে দলিল রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তার কথা অনুযায়ী সরল বিশ্বাসে সে দলিল রেজিষ্ট্রি করে দেয়। কিন্তু কয়েকদিন পরে তার কাছে উক্ত জমির বিক্রয় বাবদ টাকা চাইলে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। এর পর থেকে ধর্ম বাবার পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। জমি বিক্রি বাবদ, ট্রেনিং বাবদ ও মুদি দোকান বাবদ বাকি টাকা না পাওয়া সহ এখন প্রায় মোট ঃ ১০ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা তার কাছে পাওনা। জমি বিক্রিসহ কোন টাকাই ধর্ম বাবা ফেরৎ না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে সমাজ প্রতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুবিচার না পেয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এদিকে বিল্লাল পাওয়ানা টাকা না দেওয়ার জন্য নানা রকম প্রতারনা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর অপ-প্রচার চালাচ্ছে।
    অপর দিকে বিল্লাল সিঙ্গাপুর থাকা অবস্থায় জাহাঙ্গীর জমাদারের নিজ ছেলে জুলফিকার আলীকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার প্রস্তাব দিলে নিয়ম অনুযায়ী ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকাসহ অনেক টাকাসহ খরচ করে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয় তার বাবা। কথা অনুযায়ী চাকুরী দেয়নি বিল্লাল। ফিরে আসার সময় সিঙ্গাপুরে যে টাকা উপার্জন করেছেন তাও প্রতারক বিল্লাল রেখে দিয়ে জুলফিকার আলিকে হাতে পায়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়। এই প্রতারনার বিচার চেয়ে ছেলে জুলফিকার সাংসদের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। এ ঘটনায় সরজমিনে গিয়ে প্রবাসী বিল্লালের খোজ খবর নিলে স্থানীয় সাদ্দাম, জাকির, ইউনুছ, সাখাওয়াতসহ অনেকে জানান, বিল্লাল একসময়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দরিদ্রতার চিন্তা করে জাহাঙ্গীর জমাদার তাকে লালন পালন করে বিদেশ পাঠায়। বর্তমানে সে বহু টাকার মালিক। অনেকেই জানান, সিঙ্গাপুর নেওয়ার কথা বলে প্রতারনা করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় বিল্লালের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার প্রতারনার উপযুক্ত বিচার কামনা করছেন এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগিরা।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন