২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • ভোলার চরফ্যাসনে পাঠদান না করেই সুপারের সহযোগিতায় বেতন নিচ্ছেন শরীরচর্চা শিক্ষক নুর হোসেন




  • ভোলার চরফ্যাসনে পাঠদান না করেই সুপারের সহযোগিতায় বেতন নিচ্ছেন শরীরচর্চা শিক্ষক নুর হোসেন

    এম. মাহাবুবুর রহমান নাজমুল, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা।।

    দেশব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থাকে বর্তমান সরকার যেখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন ঠিক তখনই সরকারের যাবতীয় নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্যক্তি মনগড়া আইনে পরিচালিত হচ্ছে চরফ্যাশনের আসলামিয়া হামেলা খাতুন বালিকা দাখিল মাদ্রাসা। কথায় আছে শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। সে শিক্ষা দেন শিক্ষকরাই। কিন্তু এই নুর হোসেন কি ধরনের শিক্ষক। কিভাবে সে জাতি গড়বো যে কিনা দীর্ঘ দিন শ্রেণিকক্ষে কোন পাঠদানই করান নাই। এই ঘটনা ঘটেছে ভোলা জেলার দুলারহাট থানার চরনুরুল আমিন ৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আসলামিয়া হামেলা খাতুন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক জনাব মাও: আবু ইকবাল মো: নুর হোসেন। তিনি উক্ত মাদ্রাসায় শরীরচর্চ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন। কিছু অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান টিম ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে উক্ত মাদ্রাসায় গিয়ে হাজির হন। প্রথমে দেখতে পান শিক্ষক হাজিরা খাতায় জনাব মো: নুর হোসেন সাহেবের অনুপস্থিত লালকালির দাগের উপর তাহার স্বাক্ষর করা। এই ঘটনা উক্ত মাদ্রাসার সুপার মাও: মনিরুজ্জামান সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন যে, না সে মাদ্রাসায় আসে এবং এই তাহার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর। তখন সাংবাদিক টিম দেখিয়ে দেন যে, নুর হোসেন সাহেবের অনুপস্থিতির লালকালির দাগের উপর নুর হোসেন সাহেবের স্বাক্ষর করা। তখন সুপার সাহেব বলেন যে, ভাই ব্যাপারটি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করিয়া আমি আপনাদের সাথে একটু অন্যভাবে কথা বলিব। কমিটির সকলেই এই ব্যপারে জানেন। কি আর করবেন। আবু ইকবাল মোঃ নুর হোসেন খুবই প্রভাবশালী লোক। আমি তাহাকে অনুপস্থিত দেওয়ার পরেও প্রায়ই তিনি জোর পূর্বক লালকালির উপর স্বাক্ষর করিয়া বেতন উত্তোলন করিয়া নিত। এভাবেই প্রায় দীর্ঘদিন তিনি এসব করিয়া আসিতেছেন। আপনারা তাহার কিছুই করতে পারবেন না। পরে মাদ্রাসায় অনেক খোঁজা খোজি করেও নুর হোসেনকে মাদ্রাসায় পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর এক অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানতে পারি যে, মাও: আবু ইকবাল মোঃ নুর হোসেন আবুবকরপুর ইউনিয়নে হাসানগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসায় সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন নুর হোসেন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। এই ব্যাপারে মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ তছির পাটোয়ারীর কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, আমি এই মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন যাবত এই ভাবেই চলিতেছে জেনে সুপারকে দিয়ে ০১ জুলাই ১৯ ইং তারিখ হইতে নুর হোসেন সাহেবের অনুপস্থিতিতে প্রত্যেকটা দিন লাল কালি দিয়ে এ লিখে রাখে। কখনও যদি নুর হোসেন সাহেব আসে তখন সে সুপারের সহযোগিতায় লাল কালি দিয়ে এ লিখে রাখার স্থানে নূর হোসেন সাহেব স্বাক্ষর করেন। এভাবেই প্রতিনিয়ত মাদ্রাসায় পাঠদান না করে বেতন উত্তোলন করছে। এরপর সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, মাদ্রাসায় কোন মাসিক সভা হয় কিনা। তখন তিনি বলেন আমি বাবা বুড়ো মানুষ এত কিছু বুঝিনা, মাদ্রাসায় সেক্রেটারি তো সুপার নিজেই। পরে সাংবাদিক টিম নুর হোসেন সাহেব যে মাদ্রাসার সুপার সেই হাসানগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসায় গিয়া উপস্থিত হয়। কিন্তু তাকে সেখানে গিয়ে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান সাংবাদিকদের আসার খবর পেয়ে সে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিকদের মােবাইল ফোনে বলেন, ভাই আপনারা আমার পিছনে কেন লাগলেন আমি আপনাদের কি ক্ষতি করেছি। এদেশে আমার মত অনেক শিক্ষকই মাদ্রাসা ও স্কুলে না গিযে বেতন উত্তোলন করেন কেউ কেউ দুই তিনটি প্রতিষ্ঠানেও চাকুরী করেন। তাহাদের কিছুই হয়না, কিন্তু আপনারা তাদের কিছু না বলে আমার পিছনেই লাগলেন, যা পারেন লেখেন।
    তখন চরফ্যাসন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিয়াউল হক মিলন সাহেবকে মোবাইলে ফোন করলে সে জানায় অত্র বিষয়টি আমি সরজমিনে তদন্ত করিয়া উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট পাঠাবো।  অতঃপর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং তারিখ একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ খলিলুর রহমান আছলামিয়া হামেলা খাতুন বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় পরিদর্শনে এসে শিক্ষক হাজিরা খাতা না দেখে ক্লাশ পরিদর্শন করে মাদ্রাসার সুপারসহ মাদ্রাসা থেকে চলিয়া যান।
    শিক্ষকদের চরিত্র যদি এমন হয় তাহলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলবে কে? তারাতো এখন থেকেই দুর্নীতি শিখছে। এটাই কি শিক্ষকদের কাজ? এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন