১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
লেবানন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত সিঙ্গাইরে দেয়ালে অঙ্কিত বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতি কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের আজ শুভ জন্মদিন বিএনপির ৪৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মালয়েশিয়ায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত যে কারণে হত্যার শিকার শিশু আল-আমীন, রহস্য উদঘাটন সিঙ্গাইর থানার ওসির পিতার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার মাহফিল কানাডা প্রবাসী প্রয়াত জয়নুল আবেদীন স্বরণে দোয়ার মাহফিল তিনদিন পর সিঙ্গাইরে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার মজিবুর রহমান মোল্যার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সিঙ্গাইরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা

ভোলার বোরহানউদ্দিনে কোচিং বানিজ্য বন্ধের অভিযান

এম. মাহবুবুর রহমান নাজমুল, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা।।

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় কোচিং বানিজ্য বন্ধের অভিযানে নামলেন বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা।যার ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে তিনি অভিযান চালায়।এ সময় পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ২টি কোচিং সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে পরিচালনার সাথে যুক্ত শিক্ষকরা ছাত্রদের রেখে সটকে পরেন। এরপর নির্বাহী কর্মকর্তা ছাত্রদের অভিভাবকদের ডেকে এনে তাদের সাথে কাউন্সিলিং করে অভিভাবকদের কাছে শিক্ষার্থীদের তুলে দেন।অনেকের ধারণা ছিল মহিলা ইউএনও রাতে কিভাবে অভিযান চালাবে।অনেকে আবার বলতো,মহিলা অফিসার আর কি করতে পারবে? তাদের এই ভ্রান্ত ধারণা ভুল প্রমানিত করলেন নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রাইভেট বানিজ্য বন্ধের এ অভিযান কে স্বাগত জানান স্থানীয় সুধিমহল।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়,উপজেলায় বিদ্যমান বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রাইভেটের নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিম্মি করেন। প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি,পাবলিক পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল কিংবা কম নম্বর দেওয়ার নজির রয়েছে অসংখ্য।যার কারণে বাধ্য হয়েই অভিভাবকগন বছরের পর বছর তাদের ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।প্রাইভেট নামক এই অবৈধ ইদুঁর দৌড় প্রতিযোগিতার কারণে এ উপজেলায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।অনেক দরিদ্র অভিভাবক প্রাইভেট এর টাকার অভাবে তাদের আদরের সন্তানকে বিজ্ঞান বিভাগ পরিবর্তণ করে অন্য বিভাগে ভর্তি করাণ।প্রবেশপত্র আটকিয়ে রেখে প্রাইভেট এর টাকা আদায়ের দৃষ্টান্ত ও রয়েছে অসংখ্য।
অনেক শিক্ষক আবার বেশ জোড় গলায়ই বলেন,প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষার হলে কোন সুবিদা দেওয়া হবে না।পরীক্ষার হলে আমি থাকি।তাই পাশ করতে হলে আমার কাছে প্রাইভেট পড়তে হবে।জনৈক শিক্ষার্থী জানান,পরীক্ষার হলে এক শিক্ষক নকল নিয়ে প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের দিয়ে বলে ওকে কপি দিবি না।অন্য একটি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়,পরীক্ষার সময় নকল সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে মোটা অর্থের বানিজ্য হয়।একাধিক গ্রুপ -উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে এ বানিজ্যিক কার্যক্রমে তারা অংশ গ্রহণ করেন।নকল সরবরাহের জন্য তারা একাধিক গ্রুপ ভাড়া করেন।ওই গ্রুপের ভয়ে কেউ যেন মুখ খুলতে না পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক জানান,জোঁকের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ।কিন্তু কতিপয় অসাধু শিক্ষকদের প্রাইভেট বানিজ্য থেকে মুক্ত পাওয়া সম্ভব নয়।তিনি জানান,ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাওয়া যায় না ওদের প্রাইভেট বানিজ্যের কারণে।অনেকের বাসায় প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের দেখলে মনে হয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।অভিযানে নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে ছিলেন বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ ম,এনামুল হক ।
এ সব বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা বলেন,নীতিমালা লঙ্গন করে কেউ কোচিং বানিজ্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অভিযান অব্যাহতভাবে চলবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন