২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
পৌর নির্বাচন ও দলীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সিঙ্গাইর উপজেলা আ.লীগের বর্ধিত সভা গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর সাততলা থেকে ফেলে দেওয়া হয় ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঢাকা মহানগর উত্তর আ.লীগের অর্থ সম্পাদক হলেন শিল্পপতি সালাম চৌধুরী টিউশন ফি ছাড়া অন্য খাতে অর্থ নিতে পারবে না স্কুল-কলেজ লেবানন কেন্দ্রীয় আ’লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন সত্যি হলো আসিফ নজরুলের ভবিষ্যত বানী, বাইডেন ৩০৬ ও ট্রাম্প ২৩২ সিঙ্গাইরে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে নারী উন্নয়ন সংস্থার সংবাদ সম্মেলন ফ্রান্সে মহানবীর (সা) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন: প্রতিবাদে তারাকান্দায় মিছিল সমাবেশ বাসে আগুন, বিএনপির ৪৪৬ নেতাকর্মীর নামে ৯ মামলা,আটক ২০
  • প্রচ্ছদ
  • ভোলায় আটকাপাট সুলিজগেট এলাকা পাউবোর ইজারা প্রাপ্ত ৩টি অসহায় পরিবারকে উৎখাতের চেষ্টা




  • ভোলায় আটকাপাট সুলিজগেট এলাকা পাউবোর ইজারা প্রাপ্ত ৩টি অসহায় পরিবারকে উৎখাতের চেষ্টা

    এম. মাহাবুবুর রহমান নাজমুল, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা ।।

    ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন আটকাপাট সুলিজগেট এলাকা পাউবোর ইজারা প্রাপ্ত ৩টি অসহায় পরিবারকে উৎখাতের চেষ্টায় জাহানপুর ইউনিয়নের দুই প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে বে-আইনী ক্ষমতা বলে ভূমি দস্যু করিম মাঝি গংরা তাদের ক্যাডার বাহিনী দ্বারা পাউবোর ইজারা প্রাপ্ত সম্পত্তির ভিতরে জোরপূর্বক ভাবে অবৈধ স্থাপনার নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ঐ চক্রটির দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে হতদরিদ্র অসহায় ভূমিহীন পরিবার ৩টিকে হামলা-মামলার শিকারে ফেলে মারপিটসহ অত্যাচার ও উৎপীড়নের মাধ্যমে ইজারা প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে উৎখাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার জাহানপুর মৌজার আট কপাট সুলিজগেট বাজার সংলগ্ন বেড়ীবাঁধ নামক স্থানে চাঞ্চল্যকর এসব ঘটনা সংঘটিত হয়ে আসছে।
    স্থানীয় সূত্রে এবং ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, উক্ত ভোলা জেলার শশীভূষণ থানাধীন জাহানপুর ৭নং ওয়ার্ড সাকিনের জনৈক ১। মোঃ রুহুল আমিন, পিং- মৃত মোজাম্মেল হক খাঁ, ২। জিন্নাত মাঝি- পিং- আইয়ুব আলী, ৩। মোসাম্মত জান্নাত বেগম, জজে মোঃ কামাল, নামীয় ভূমিহীন পরিবার ৩টি বাংলাদেশ পানিউন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহনকৃত ০.৪০ শতাংশ জমি গত ১৫ অক্টোবর ২০১৮ইং তারিখে মানবাধিকার আইন সহায়তায় ইজারা প্রাপ্ত হয়। তবে, বহু পূর্বে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যাক্ত এ সম্পত্তি টুকুতেই কোন রকম মাথা গুজার ঠাঁই করে নেয়। জায়গা টুকু ইজারা পাইতে বহু চেষ্টা তদবীরে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা চরফ্যাশন উপজেলা শাখার সভাপতি বরাবরে একখানা দরখাস্ত দিয়ে আইনী সহায়তার প্রার্থনা জানায়। ইহাতে সংস্থা প্রাপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে অসহায় পরিবার ৩টির নামে সম্পত্তি টুকু ইজারা পাইতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক বরাবরে দরখাস্ত দেয়। তাহাতে অসহায় পরিবার ৩টি উক্ত ০.৪০ শতাংশ জমি ইজারা প্রাপ্ত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ইজারা প্রদানের খবর পেয়ে উক্ত ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদ্বয় পরিবার ৩টির কাছে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ)টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবীকৃত চাঁদা না দিলে ইজারা প্রাপ্ত জমির দখলে থাকতে পারবে না বলে হুমকি দেয়। তখন নিরুপায় হয়ে পরিবার ৩টি বহু কষ্টে ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা তাদের দলীয় করিম মাঝির হাতে দেয়। অতঃপর বাকী থাকা ১,০০,০০০(এক লক্ষ) টাকা পরিশোধ করার জন্য বার বার তলব তাগাদা করতে থাকায় অসহায় পরিবার ৩টি অতিষ্ট হয়ে অক্ষমতার কথা জানায়। ইহাতে ঐ চেয়ারম্যানদ্বয় এবং দলীয় চক্রটি রাগান্বিত হয়ে যায় এবং উৎখাতের জন্য অপচেষ্টা চালায়। তবে মানবাধিকার সংস্থাটি অসহায় পরিবার ৩টির পাশে থেকে আইনী সহায়তা দেয়ার দূর্নীতিবাজ সন্ত্রসী এ চক্রটি কিছুটা হীমসীম খায়। অসহায় পরিবার ৩টির মতে মানবাধিকার চরফ্যাশন শাখার সভাপতি বিশিষ্ট্য মানবাধিকার ব্যক্তির একাধিকবার গুনীজন সম্মাননায় ভূষিত চরফ্যাশন উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের আহŸায়ক প্রধান সাংবাদিক এম. মনিরুজ্জামান শীদের অনুরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইজারা প্রদত্ত সম্পত্তিটা পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারন করে বুঝিয়ে দেয় এবং বে-আইনী ক্ষমতাবলে উঠানো ইটের গাঁথুনী করা ওয়ালটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য উপস্থিত থাকা সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর ফরাজীকে বলা হয়।


    পক্ষান্তরে তার পারেই সাবেক ও বর্তমান চেয়রম্যানদ্বয় (সম্পর্কে বেয়াই) এর হুকুমে কুখ্যাত ভূমিদস্যু জনৈক করিম মাঝি গংদের সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী দিয়ে অসহায় পরিবার ৩টির ইজারা প্রাপ্ত সম্পত্তির মধ্যেই পূর্বের নির্মিত ওয়ালের উপর তড়িঘরির মাধ্যমে নির্মানকাজ আবারো শুরু করে দেয়। ইহাতে ইজারা প্রাপ্ত অসহায় পরিবার ৩টির লোকজন বাঁধা নিষেধ করতে গেলে ভূমিদস্যু এ সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের উপর পৈশাচিক ও অমানুসিক নির্যাতন চালায়। তাহাতে হতদরিদ্র অসহায় পরিবার ৩টি ৫/৬জন নিরীহ লোক আহত হয়। তম্মধ্যে জান্নাত, রুহুল আমিন, জিন্নত, মারফুজি গংদের আশংকাজনক অবস্থায় দেখা দেয়। এরিমধ্যে চেয়ারম্যানদয়ের যোসা-যোসতে সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিচারের নামে ডেকে নিয়ে অলিখিত ষ্ট্যাম্প রেফ ও সাদা কাগজে জোর পুর্বক টিপ সই নেয়া হয়। অতঃপর বিচারের নামে উল্টো প্রহসনের মাধ্যমে অসহায় পরিবার ৩টিকে জমি থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়। তখন অসহায় পরিবার ৩টির পক্ষে জোর পুর্বক টিপসহি নেয় ষ্ট্যাম্প ও রেফ কাগজ উদ্ধারের জন্য রুহুল আমিন গংরা উকিল নোটিশ দেয়। এছাড়া ইজারা প্রাপ্ত সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ না করার জন্য ইপজেলা নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট আদালতে দঃ বিঃ আইনের ১৪৪/১৪৫ ধারায় জনৈক রুহুল আমিন কর্তৃক-প্রতিপক্ষ করিম মাঝি গংদের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা করিলে আদালত সংশ্লিষ্ট থানায় ওসির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পাঠায়। কিন্তু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু করিম মাঝি গংরা আদালতের স্থগিতাদেশ-অমান্য করে আবারো অবৈধ স্থাপনার নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
    ইজারাপ্রাপ্ত পরিবার ৩টির মতে শশীভূষন থানায় অফিসাার ইনচার্জ রহস্যবৃত্ত কারনে পক্ষাশ্রীত ভাবে প্রতিপক্ষ করিম মাঝি গংদেরকে উস্কানি দিচ্ছে এবং মাঝে মধ্যে প্রয়োজনীয় সময়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন হতদরিদ্র অসহায় পরিবার ৩টির প্রতি নেক নজর রাখছেন বলে ইজারা প্রাপ্তরা প্রকাশ করেন।
    এ ব্যাপারে সংশিরষ্ট সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে ঐ ইউনিয়নের তহশিলদারকে নির্দেশ দিলে তিনি ঘুষ বানিজ্যের বিনিময়ে উল্টো একটি মিথ্যা প্রতিবেদন দেন।
    উল্লেখ্য, ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী এ চক্রটি হতদরিদ্র এ পরিবার গুলোর মধ্যে জান্নাত, রুহুল আমিন ও জিন্নাত মাঝিকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।
    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি কোন লিজ দিয়ে থাকে, তাহলে তাড়াই ইজারাকৃত জমি ভোগ করতে পারবে। আর যদি বর্তমান চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে আমি সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।
    বর্তমান জাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নসু মিয়া জানান, কাগজে .৪০ শতাংশ জমি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে উক্ত ৩ গ্রুপ ইজারা আনে, আমরা তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার যেভাবে সিদ্ধান্ত দিবে আমরা একমত। প্রয়োজনে আপনারা সরজমিনে এসে তদন্ত করুন।

    আরও পড়ুন