৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
ছাত্রলীগ নেতা মিরুর খুনীদের ফাঁসির দাবীতে শোক র‌্যালী দলীয় কোন্দলেই ছাত্রলীগ নেতা মিরু খুন: তিনজন গ্রেফতার নবনির্বাচিত মেয়রের সাথে সিঙ্গাইর পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুভেচ্ছা বিনিময় ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছাড় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ অভিবাসীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে বিডি প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার ভার্চুয়াল আলোচনা নিজ দলের সন্ত্রাসীদের হাতে সিঙ্গাইর উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক মিরু খুন মাহবুবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মালয়েশিয়া যুবদলের দোয়া মাহফিল আজ দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মোবারক হোসেনের জন্মদিন লেবাননে অনলাইন পোর্টাল “প্রবাস দর্পণ”এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ঐক্যবদ্ধ লেবানন বিএনপি
স্থানীয় এম.পি’র আদেশ কার্যকরী না হওয়া মূলত ঃ ওসি’র নাটকীয়তা !

ভোলায় ধলীগৌরনগরে মোখলেছুর রহমানের অসহায় পরিবারটি এখন দিশেহারা

এম. মাহাবুবুর রহমান নাজমুল, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা ।।

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ভুয়া অছিয়ত নামার দোহাই দিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের ছত্র-ছায়ায় থেকে গড়ে ওঠা ভয়কর সন্ত্রাসী ক্যাডার আলমগীরের নেতৃত্বে কুখ্যাত ভূমিদস্যু পরবিত্ত লোভী আঃ ছাত্তার গংদের কর্তৃক জনৈক মোঃ মোখলেছুর রহমান গংদের পৈত্রিক ও খরিদা সম্পত্তি জবর দখলের অপ-চেষ্টায় বাড়ী-ঘরে হামলা, মারপিট, গোয়াল ঘর ভাংচুর এবং নারিকেল সুপারী লুটপাট সহ খুন-খারাপীর অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির নাটকীয়তায় স্থানীয় এম.পি’র আদেশ কার্যকরী না হওয়ায় নৈরাশ্য হয়ে ভূমি মালিকের পক্ষে তার ছেলে মোঃ সিরাজ উদ্দিন সার্বিক ঘটনা তুলে ধরে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় দপ্তরে একটি আবেদন পেশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী সহ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আইনী সহায়তার প্রার্থনা করেছে। সম্প্রতি ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের অন্তর্গত ৯নং ওয়ার্ডের মোঃ মোখলেছুর রহমানের পৈত্রিক ভিটে বাড়ীতে চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এ সব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে এবং অভিযোগের বিবরণে প্রকাশ, লালমোহন উপজেলাধীন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত কাজী মদ্দিনের পূত্র মৃত হাজী আঃ রহমান তাঁর জীবদ্দশায় বিগত ২৯/০৩/১৯৬২ইং তারিখে তার নাতি তথা অভিযোগে বর্ণিত ১নং প্রতিপক্ষ আঃ ছাত্তারের বরাবরে এ.এ ১৮৭ খতিয়ানের ২.৯৭ শতাংশ এবং এসএ ১৭০ খতিয়ানে ৫৫ শতাংশ একুনে ৩.৫২ শতাংশ জমির একখানা অছিয়ত নামা রেজিষ্ট্রী করেন। তবে, অছিয়ত দাতা মারা গেলে তার নাতি উক্ত আঃ ছাত্তার ত্যাজ্যাবিত্তের হইবে না ভাবিয়া অছিয়ত নামাটি রেজিষ্ট্রী করে যান বলে অছিয়ত নামায় উল্লেখ করে থাকেন।
এদিকে অছিয়ত দাতা মৃত হাজী আঃ রহমান তার জীবদ্দশায় অছিয়ত ভুক্ত কতেক সম্পত্তি নিজেই বিক্রি করেন। তাহাতে দেখা যায়, বিগত ০৮/০৯/১৯৬৬ইং এবং তৎপূর্বে ১৩/০২/১৯৬৫ইং তারিখে পৃথক কবলা মূলে অছিয়ত দাতা মারা গেলে তার নাতি উক্ত আঃ ছাত্তার ত্যাজ্যবিত্তের হইবে না ভাবিয়া অছিয়ত নামাটি রেজিষ্ট্রী করে যান বলে অছিয়ত নামায় উল্লেখ করে থাকেন।
এদিকে অছিয়ত দাতা মৃত হাজী আঃ রহমান তাঁর জীবদ্দশায় অছিয়তভুক্ত কতেক সম্পত্তি নিজেই বিক্রি করেন। তাহাতে দেখা যায়, বিগত ০৮/০৯/১৯৬৬ই তারিখে পৃথক কবলা মূলে অছিয়ত দাতা অছিয়তভুক্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। ইহাতে অছিয়ত দাতা নিজেই তার অছিয়ত ভঙ্গ করেন। অতঃপর অছিয়ত দাতার লোকান্তরে এক পূত্র মোঃ মোখলেছুর রহমান ও তার এক কন্যা হালিমা খাতুন এবং এক নাতি মোঃ আঃ ছাত্তার তার ত্যাজ্য বিত্তের ওয়ারিশি মালিক নিযুক্ত হন।
মুসলিম আইনে বলা আছে, ১১৫ ধারার বিধান মনে আরোপিত আইনের সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে সাবালক (নাবালক নহে) এবং সুষ্ঠু মস্তিস্কের প্রত্যেক মুসলমানই অছিয়তের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করিতে পারেন। তবে, উহা অছিয়ত দাতার লোকান্তরে কার্যকর হয় বটে। মুসলিম আইনের ১১৮ ধারা মতে যে কোন মুসলমান তাহার দাফন-কাফন ও ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ অছিয়ত করতে পারেন।
এছাড়া মুসলিম আইনের ১১৭ ধারা অনুসারে কোন একজন উত্তরাধিকারীকে অছিয়তের মাধ্যমে সম্পত্তি প্রদান করিলে উইলকারীর মৃত্যুর পর অন্যান্য উত্তরাধিকারীগণ উহাতে সম্পত্তি প্রদান না করিলে উক্ত উইল বৈধ হইবে না। স্বীয় অংশ টিকে সংযত করে রাখার উদ্দেশ্যে যে কোন একজন উত্তরাধিকারী সম্পত্তি প্রদান করিতেছেন না। আবার অছিয়ত দাতা আঃ রহমান নিজেই উক্ত অছিয়ত নামা ভঙ্গ করিয়া গেছেন, বিধায় উহা এখন অকার্য্যকর অথবা কার্যকরী নহে।
তবে, অছিয়ত উল্লেখিত ৩.৫২ শতাংশ সম্পত্তি ওয়ারিশগণের মধ্যে হিস্যা অনুযায়ী সম্পত্তির মালিকানা দাবী করতে পারেন। কিন্তু অছিয়ত গ্রহিতা আইনের কোন বিধি বিধান না মেনে বে-আইনী ক্ষমতা বলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক ভাবে বাড়ী ঘরে হামলা, মারপিট, গোয়াল ঘর ভাংচুর, বাগানের নারিকেল সুপারি লুট করে নেন। এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সাংসদের বরাবরে গত ১০/০৮/২০১৯ইং তারিখে একটি অভিযোগ দেন। তিনি উহার ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসি লালমোহনকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু ওসি লালমোহন নাটকীয়ভাবে আইনী জটিলতা দেখান। ফলে ভূমি মালিক ও তা পরিবারটি সীমাহীন হয়রানীর শিকার হন এবং তাদের সৃজিত বাগানের কয়েক লক্ষ টাকার নারিকেল সুপারী হারান।
এরিমধ্যে ভূমি মালিক মোখলেছুর রহমান মৃত আঃ রহমানের প্রদত্ত অছিয়ত নামাটি ভূয়া-ভাক্ত এবং উহা অকার্য্যকর ও বে-আইনী মর্মে ডিক্রির দাবীতে গত ২২/০৫/২০১৯ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা ১৪৮/১৯ রুজু করেন। যাহা চলমান। কিন্তু আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল পরবিত্তলোভী প্রকৃতির ভূমি দস্যু আঃ ছাত্তার গংরা ভাড়াটিয়া ভয়ংকর সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী দ্বারা বাড়ী ঘরে হামলা, মারপিট, গোয়াল ঘর ভাংচুর, নারিকেল সুপারী লুটপাট করে নেন এবং জীবন নাশের হুমকি সহ খুন-খারাপীর অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। ইহাতে নিরুপায় হয়ে সন্ত্রাসী এ সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবীতে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আইনী সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় দপ্তরে একটি লিখিত অবিযোগ দায়ের করেন। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তবে, ভূমি মালিক মোখলেছুর রহমান ও তার অসহায় পরিবারটি এখন প্রতিপক্ষ আঃ ছাত্তার গংদের এবং তাদের ভাড়াটিয়ে সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনীর অত্যাচার ও লুৎপীড়ন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে তদন্ত টিম লালমোহন থানার ওসি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার বিষয়ে কিছুটা অবগত আছেন মর্মে নিশ্চিত করে বলেন, আমি পক্ষদ্বয়কে আইনগত অভিমত আনতে বলেছি। কিন্তু তাহারা গড়িমসির মাধ্যমে কালক্ষেপন করছেন। যদি ঘটনাটি মীমাংসার লক্ষ্যে কেউ এগিয়ে আসেন, আমরা তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবো বলে জানান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার পক্ষাশ্রিতভাবের বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এলাকায় বসে মীমাংসার জন্য কেউ আসলে তিনি সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন