১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • মাদক চুরির অভিযোগে সিঙ্গাইরে অপহরণের পর যুবককে পিটিয়ে হত্যা




  • মাদক চুরির অভিযোগে সিঙ্গাইরে অপহরণের পর যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে অপহরণের পর লালন দেওয়ান (৪০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা কারার অভিযোগ উঠেছে মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। নিহত লালন দেওয়ান পৌর এলাকার মধ্য সিঙ্গাইর মহল্লার মৃত দেওয়ান হারুন অর রশিদের ছেলে। সে দুই সন্তানের জনক। শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের খৈয়ামুড়ি এলাকায় একটি পাটক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশি খন্দকার আল-মামুন খসরুর ছেলে মাদকব্যবসায়ী খন্দকার উজ্জল (২৫) ও খন্দকার অনিক(১৯) এবং তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা এ  হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর তারা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

    থানা পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উজ্জল এলাকার চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী। লালন দেওয়ান ও উজ্জলের বাড়ি পাশাপাশি। সম্প্রতি  উজ্জল দুই লক্ষাধিক টাকা মুল্যমানের একটি ইয়াবা বড়ির চালান নিজ বাড়ির ছাদের কার্ণিশে লুকিয়ে রাখে। সেখান থেকে মাদকের চালানটি খোয়া যায়। এঘটনায় লালন দেওয়ান জড়িত সন্দেহে তার কাছে মাদকের চালানটি ফেরত চান উজ্জল। কিন্তু মাদক চুরির কথা অস্বীকার করে লালন।এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

    নিহত লালন দেওয়ানের স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, মিথ্যা চুরির অভিযোগ এনে মাদকের চালান ফেরত দিতে আমার স্বামীকে চাপ দেয় উজ্জল ও তার  ছোট ভাই অনিক। এক পর্যায়ে মাদকের চালান ফেরতেরবিনিময়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্থাব দেয় তারা। বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানানো হয়। এরপরও উজ্জল ও তার ভাই অনিক আমার স্বামী লালনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

    নিহতের ভাই হালিম দেওয়ান বলেন, শুক্রবার (২৬ জুন)  সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লালন দেওয়ান বাইসাইকেলে করে স্থানীয় ঘোনাপাড়া মোড়ে চা খেতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে উপজেলা হাসপাতাল রোডের কামালের বাড়ির সামনে  সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে লালনের গতিরোধ করে উজ্জলসহ ৪-৫ জন যুবক। এসময় জোড় করে লালনকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় তারা। ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে জানানো হয়। সারারাত খোঁজাখুজি করার পরও ভাইয়ের সন্ধান পায়নি। আজ সকালে উপজেলার বলধারা ইউনিয়েনের খৈয়ামুড়ি এলাকার একটি পাটক্ষেতে হাত-পা বাধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় খন্দকার উজ্জল, তার ছোট  ভাই খন্দকার অনিক, বন্ধু ফাহিম ও সোহাগসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম।

    থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, লালন দেওয়ানের খোঁজ করতে শুক্রবার থানায় এসেছিল তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন। তাদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর লালনকে উদ্ধারে নামে পুলিশ। সারারাত চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আজ শনিবার ভোরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে দুপুরের দিকে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হেচ্ছে, পুর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন লালনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এঘটনায়  থানায় মামলা  হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    আরও পড়ুন