২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • লালমোহন ধলীগৌরনগরে সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্বে সম্পত্তি জবর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ




  • লালমোহন ধলীগৌরনগরে সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্বে সম্পত্তি জবর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ

    এম. মাহাবুবুর রহমান নাজমুল, জেলা প্রতিনিধি, ভোলা ।।

    অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ভুয়া-ভাক্ত ভাবে অছিয়ত নামার দোহাই দিয়ে এলাকার চেয়ারম্যানের ছত্র-ছায়ায় থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাসী ক্যাডার অপরাধ জগতের গডফাদার আলমগীরের নেতৃত্বে কু-খ্যাত ভূমিদস্যু আঃ ছাত্তার গংদের কর্তৃক জনৈক মোখলেছুর রহমানের পৈত্রিক ও খরিদা সম্পত্তি জবর দখলের অপচেষ্টায় বাড়ী-ঘরে হামলা, মারপিট, গোয়াল ঘর ভাংচুর, নারিকেল সুপারী লুটপাটের একাধিক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটিয়ে খুন-খারাপী অব্যাহত রেখে অসহায় পরিবারটিকে আতংকগ্রস্থ করে ফেলেছে। ফলে মোখলেছুর রহমান গংরা দিশেহারা অবস্থায় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় স্থানীয় সাংসদের বরাবরে একটি অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার না পেয়ে ভূমি মালিকের পক্ষে সৃষ্ট ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবীতে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায় সংস্থায় একটি লিখিত আবেদন দাখিলের মাধ্যমে আইনী সহায়তার প্রার্থনা করেছে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে আবেদনে বর্ণিত ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের অন্তর্গত ৯নং ওয়ার্ডে মৃত হাজী আঃ রহমানের পূত্র মোঃ মোখলেছুর রহমানের বাড়ীতে চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এসব ঘটনা ঘটে।
    স্থানীয় সূত্রে এবং অভিযোগের বিবরণে প্রকাশ, লালমোহন উপজেলাধীন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত কাজিমদ্দিনের পূত্র মৃত হাজী আঃ রহমান তার জীবদ্দশায় বিগত ২৯/০৩/১৯৯৬ইং তারিখে তার নাতী আঃ ছাত্তারের বরাবরে এস.এ ১৮৭ নং খতিয়ানের ২.৯৭ শতাংশ এবং এস.এ ১৭০ নং খতিয়ানে ৫৫ শতাংশ একুনে ৩.৫২ শতাংশ জমির একখানা অছিয়তনামা রেজিষ্ট্রি করেন। অতঃপর অছিয়ত গ্রহিতার পিতা অজিউল্যা মারা যান। তবে, অছিয়ত দাতা মারা গেলে তার নাতী আঃ ছাত্তার ত্যাজ্যবিত্তের ওয়ারিশ হইবে না ভাবিয়া উক্ত অছিয়তনামাটি রেজিষ্ট্রি করে যান বলে অছিয়তনামায় উল্লেখ করে থাকেন।
    এদিকে অছিয়ত প্রদানকারী আঃ রহমান মারা গেলে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৪ ধারার বিধানমতে নাতি আঃ ছাত্তার তার দাদার ত্যাজ্যবিত্তের ওয়ারিশ হন।

    অপরদিকে অছিয়তদাতা হাজী আঃ রহমান তার জীবদ্দশায় অছিয়তভুক্ত কতেক সম্পত্তি নিজেই বিক্রি করে ফেলেন। তাহাতে দেখা যায়, বিগত ০৮/০৯/১৯৬৬ইং তারিখে ও তৎপূর্বে ১৩/০২/১৯৬৫ইং তারিখে পৃথক কবলামূলে অছিয়ত দাতা অছিয়ত ভূক্ত সম্পত্তি বিক্রি করেন। ইহাতে অছিয়ত দাতা নিজেই তার জীবদ্দশায় তার প্রদত্ত অছিয়ত ভঙ্গ করেন। তাহাতে অছিয়ত দাতা হাজী আঃ রহমানের লোকান্তরে একপুত্র মৌলভী মোখলেচুর রহমান ও এক কন্যা হালিমা খাতুন এবং এক নাতি মোঃ আঃ ছাত্তার মৃত আঃ রহমানের স্থায়-অস্থার অর্থাৎ তাঁর ত্যাজ্য বিত্তের ওয়ারিশ মালিক নিযুক্ত হন।
    মুসলিম আইনে বলা আছে। ১১৫ ধারার বিধান মতে অবোপিতম সীমবদ্ধতা সপেক্ষে সাবালক (নাবালক নহে) এবং সুস্থ্য মস্তিষ্কের প্রত্যেক মুসলমানই অছিয়েতের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করিতে পারেন। তবে, উহা অছিয়ত দাতার লোকান্তরে কার্যকর হয় বটে। মুসলিম আইনের ১১৮ ধারা মতে যেকোন মুসলিম আইনের ১১৭ ধারা অনুসারে কোন একজন উত্তরাধিকারীকে অছিয়তের মাধ্যমে সম্পত্তি প্রদান করিলে উইলকাবীর মৃত্যুর পর অন্যান্য উত্তরাধিকারীগন উহাতে সম্মতি প্রদান না করলে উক্ত উইল বৈধ হইবে না। স্বীয় অংশটিকে সংযুত করে রাখার উদ্দেশ্যে যেকোন একজন উত্তরাধিকারী সম্মত প্রদান করিতে পারে। তবে, বর্তমান অর্থাৎ মৃত স্বামী আঃ রহমানের ওয়ারিশগন তাঁর প্রদত্ত অছিয়ত খানার প্রদত্ত কোন সম্পত্তি প্রদান করিতেছে না। আবার অছিয়ত দাতা আঃ রহমান নিজেই উক্ত অছিয়ত নামা ভঙ্গ করিয়াছে, উহা আইনগত কার্যকরি নহে। তাবে, অছিয়তে উল্লেখিত ৩.৫২ শতাংশ সম্পত্তি ওয়ারিশগনের মধ্যে হিস্যা অনুযায়ী সম্পত্তির মালিকানা দাবী করিতে পারেন। কিন্তু অছিয়ত গ্রহিতা আইনের কোন বিধি বিধান না মেনে বে-আইনী ক্ষমতায় দাপটে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাড়াটিয়ে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে জোর পূর্বক ভাবে বাড়ী ঘরে হামলা, মারপিট, গোয়াল ঘর ভাংচুর বাগানের বিভিন্ন প্রজাতিয় গাছ গাছালী ও নারিকেল-সুপারী-লুটপাঠ করে নেন। এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সংসদের বরাবরে এক খানা অভিযোগ দেন। তাহাতে কাগজপত্র বযাচাই বাছাই করে ন্যায় বিচারের সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ পূর্বক লালমোহন থানার ওসরি কাছে পাঠান। তবে, ওসি লালমোহন আইনী জটিলতা দেখিয়ে এম.পির নির্দেশটি এরিয়ে যান এবং পুলিশী নাটকীয়তায় বিহঃপ্রকাশ ঘটান। কালে, দরখাস্তকারী ভূমি মালিক ও তাঁর পরিবারটি অযথা হয়রানীর মিকার হন এবং আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থসহ তাঁদের বাগানের কয়েক লক্ষ টাকার নারিকেল সুপারী হারান।
    এরি মধ্যে ভূমি মালিক বর্ণিত অছিয়ত খানা অকার্যকর ও বে-আইনি মর্মে ডিগ্রী দাবীতে গত ২২/০৫/২০১৯ইং তারিখে লালমোহন উপজেলায় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা ১৪৮/২০১৯ রুজু করেন। কিন্তু আইনের প্রতি অশ্রাদ্ধাশীল কুখ্যাত ভূমি দস্যু পরবিত্ত লোভী সভাবের ও টাউট প্রকৃতির আঃ ছাত্তার গংরা ভাড়াটিয়ে ভয়ংকর সন্ত্রাসী ক্যাডার আলমগীর বাহিনী দ্বারা বাড়ী ঘরে হামলা মারপিট ভাংচুর ও নাটিরকেল সুপারী লুটপাট অভ্যাহত রাখেন এবং খুন-খারাপীর জন্য অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। ইহাতে ভূমি মালিক মোখলেচুর রহমানের পরিবারটি আতংক গ্রস্থ হয়ে পড়েন এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
    ইহাতে নিরুপায় হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনাবলী তদন্তের দাবীতে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সস্থার কাছে আইনী সহায়তা চেয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। তাহাতে সংস্থার কাছে আইনী সহায়তা চেয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। তাহাতে সংস্থা প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি দতন্তটিম আবেদনে বর্ণিত ঘটনাবলীর সত্যতা পান।
    এমতাবস্থায় সংস্তাটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উভয় পক্ষের মাধ্যকার সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এবং লালমোহন থানার ওসি এবং পক্ষীদয় সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি পূর্বের সাইত।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন