১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সিঙ্গাইর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাশার জয়ী আজ সিঙ্গাইর পৌরসভা নির্বাচন, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা নৌকার বিজয় নিশ্চিত, আ.লীগ প্রার্থী বাশার মানিকগঞ্জ বার নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ পদে বিএনপি প্রার্থী জয়ী সিঙ্গাইর পৌর নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে একাট্টা আ.লীগ মানিকগঞ্জ বার নির্বাচন: এবারও আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী লুৎফর লেবানন বিএনপির ভার্চুয়াল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে লেবানন আ’লীগের আলোচনা সভা যথাযথ মর্যাদায় লেবাননে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন অগ্নিকাণ্ডে সিঙ্গাইর সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভস্মীভুত

লেবাননে লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

জনশক্তি রিপোর্ট:

নতুন করে ২৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই সপ্তাহের নতুন লকডাউন ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন লেবাননের জনগণ। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) দক্ষিণ লেবানননের সাইদায় তারা প্রধান সড়ক বন্ধ করে এই বিক্ষোভ করেন।

দেশটিতে যখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু বরণ করছে, তখন উচ্চতর প্রতিরক্ষা কাউন্সিল আরো দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন দিতে বাধ্য হয়।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, সরকার জুরপূর্বক লকডাউন দিচ্ছে কিন্তু সরকার জনগণের সাহায্য সহযোগীতায় এগিয়ে আসছেনা। এভাবে লকডাউন জুরপূর্বক জেল ছাড়া আর কিছু নয়, তবে জেলখানাতেও তো খাবার মিলে।

তারা আরো বলেন, এমন একটি সময় যখন দেশটি অর্থনৈতিক সমস্যায় ভোগছে, মানুষের ঘরে খাবার নেই। একদিন কাজ না করলে এখন পেট চলেনা, সেখানে লম্বা লকডাউন দিয়ে সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে অক্ষম হয়েছে। তাহলে কেন এই লকডাউন।

বিক্ষোভকারীরা সাইদার এলিয়া মোড়ে বিপ্লব চত্বর থেকে মিছিল শুরু করে, কারফিউ এবং লকডউনের প্রতিবাদে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদের বলেন, তারা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন “যেহেতু মানুষ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ছে এবং দেশে দুর্নীতির কারণে ডলারে দাম বেড়ে আকাশচুম্বি হয়ে গেছে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, রাষ্ট্র যদি অসহায় এবং যারা দৈনন্দিন মজুরিতে কাজ করে তাদের জন্য সাহায্য প্রদান করতে না পারে, তাহলে তাদের বেঁচে থাকার জন্য কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। এভাবে লকডাউন মানুষকে মেরে ফেলবে।

অন্যদিকে একই কারণে বিক্ষোভে নামে উত্তরাঞ্চলের জনগণও, তারা ত্রিপোলি-মিনিহ মহাসড়ক এবং পালমা মহাসড়ক অবরোধ করেন। আক্কার অঞ্চলের জনগনও ত্রিপোলিতে বিক্ষোভকারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশকরে বিক্ষোভে যোগ দেন।

একটি বৃহৎ দল ত্রিপোলির অলি গলি দিয়ে মিছিল করে সরকার বিরোধী শ্লোগান দেন এবং লেবাননের সকল জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত, প্রত্যেক ব্যক্তি কষ্ট ভোগ করছে এবং তারা রাষ্ট্রের দ্বারা নিপীড়িত, সকল অধীকার থেকে বঞ্চিত।

তারা সরকার বিরোধী শ্লোগন দিয়ে সাদ হারিরির মুসতাকবাল দলের আফিসের দিকে এগিয়ে যান। অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে আল-কোবেহ এবং আল-বেদ্দাউয়ির রাস্তা অবরোধ করে রাখেন।

এছাড়াও বৈরুতের কিছু এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেও বিক্ষোভকারীরা লকডাউন চলাকালীন সরকারের কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরকার বিরুধী শ্লোগান দেন।

দেশটিতে চরম অর্থনৈতিক সংকটে মধ্যম ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা কোন রকম দৈনন্দিন কাজ করেন দিব যাপন করছেন। সেখনে দীর্ঘ লকডউনে কাজে নামতে না পেরে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে তাদের। তাদের মূল অভিযোগ সরকার শুধু লকডাউন দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অসহায় দরিদ্র জনগণের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসছেনা।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন নেতারা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা ধরে রাখতে ব্যস্ত, বিশেষ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী মনোনীত’র দন্দে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আরো কঠিন করে দিচ্ছে। তাই সরকার গঠনের ব্যর্থ হয়ে তারা একের পর এক লডকাউন দিয়ে মানুষকে ঘরে বন্দি করে রাখতে চাইছে। কিন্তু জনগণ কি খাবে, কিভাবে বাচবে সেই চিন্তা তারা করছেনা বলে মনে করেন বিক্ষোভকরীরা।

আরও পড়ুন