১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল করেছে মালয়েশিয়া যুবদল ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন কন্ঠশিল্পী মমতাজ সিংগাইরে শয়ন কক্ষ থেকে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার মানিকগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭ জন সালথায় সহিংসতায় ৪ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ ‘শিশু বক্তা’ মাওলানা রফিকুল ইসলামকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ! সিঙ্গাইর সদর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক সেলিম ও যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাম ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদ ও থানা ঘেরাও, এসিল্যান্ড অফিসে আগুন সিঙ্গাইরে লকডাউন কার্যকরে তৎপর প্রশাসন করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও অপরাধ নির্মূলে তৎপর সিঙ্গাইর থানা পুলিশ

সংযোগ সড়কের অভাবে পরিত্যাক্ত ব্রিজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

হাকালুকি হাওরে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক বড়দল-ছকাপন সড়কের উপর নির্মিত ব্রিজটি কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটির সংযোগ সড়কের অভাবে তা অকার্যকর হয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের হাকালুকি হাওর সংলগ্ন শ্রীকন্টি বিল থেকে সংযোগ সড়ক ধসে যাবার দীর্ঘ দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও আজও সংস্কার না হওয়ায় চলাচলে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন উপজেলার দুই ইউনিয়নের কয়েক সহ¯্রাধিক মানুষ। সংযোগ সড়ক না থাকায় কোন কাজেই আসছে না সেতুটি। এনিয়ে স্থানীয়রা নানা অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ভূকশিমইল ইউনিয়নের বড়দল ও কাড়েরা গ্রামসহ কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন গ্রামের কৃষক, জেলেসহ সাধারণ মানুষ শ্রীকন্টি বিল থেকে হাকালুকি হাওরে যাতায়াত করার জন্য একটি খালের উপর নির্মিত হয় এই সড়কটি। এই সেতু ব্যবহার করে হাওরের নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত কৃষি জমি চাষাবাদ করতো স্থানীয়রা। শুষ্ক মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে ধান, ফসল নিয়ে বাড়ি ফিরেন স্থানীয়রা। দূরবর্তি হাওর থেকে মাছ শিকার করে জেলেরা মাছ বহন করতে কোন যানবাহনের সাহায্য নিতে পারছেন না। যানবাহন চলাচল করা তো দূরের কথা এমনকি ঠেলাগাড়িও চলে না এই সড়কে। সেতুটি অকার্যকর থাকায় নানা বিরম্বনা ও দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে মাছ কিংবা ধান অথবা ফসল নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৭ সালের দিকে সরকারিভাবে এলজিইডির স্বল্পব্যয়ী সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় তৎকালীন সময় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজ ও এক কিলোমিটার মাটির রাস্তা তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে এলাকার মানুষ ৫-৬ বছর এই ব্রিজ ও রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু বিগত কয়েক দফায় বন্যার ফলে এই রাস্তাটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেলেও ব্রিজটি এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। পরবর্তী সময়ে এই রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করার জন্য আর কোনো উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি।

স্থানীয় রাহাত তাজুল,জায়েদ মিয়া,নোমান আহমদ ও সোলেমান হোসেন বলেন,সেতুর উভয়পাশে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাটের মাধ্যমে সংস্কার করা হলে দুই ইউনিয়নের ৫ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাগব হবে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের এই রাস্তাটি কৃষক ও জেলেদের জন্য হাওরে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু সারাবছরই অনেক দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে তারা এই রাস্তায় যাতায়াত করে। অবিলম্বে সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কারের দাবি জানান। তারা আরও বলেন, সেতুর সাথে বড়দল-ছকাপন সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা ভারী কৃষিজ পণ্য ও গৃহপালিত পশু নিয়ে অনেক কষ্টে হাঁটু পানি ভেঙ্গে খাল পাড়ি দিচ্ছি। বন্যায় রাস্তাটি অনেক আগে ধসে যায় যা আর কখনও পুনঃসংস্কার করা হয়নি।

স্থানীয় ভূকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, সেতু যেহেতু আছে সেখানে সড়ক সংস্কার খুব দরকার। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী জানান, বিষয়টি জেনেছি। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন খাত টিআর ও কাবিখা প্রকল্প থেকে এই রাস্তাটি নতুন করে মেরামত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন