১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • সব ভোট যদি এমন হতো!




  • সব ভোট যদি এমন হতো!

    মোবারক হোসেন:

    যে দিকে চোখ যায়, সেদিকেই মানুষজনের জটলা। চারিদিকে উৎসবের আমেজ। এ যেন সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও নানা শ্রেলীপেশার মানুষের মিলন মেলা। গ্রামীণ আঁকাবাকা কাচা-পাকা পথ মাড়িয়ে দলে দলে ছুটছে নারী পুরুষ। সবার গন্তব্য ভোট কেন্দ্র। এই দৃশ্য মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ৮ নং ও বায়রা ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে উপ-নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রের।

    গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ৮ নং ও বায়রা ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ডের সদস্য পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটনা চলে ভোটগ্রহন। ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। উৎসব ওআনন্দঘন পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।

    জয়মন্টপ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২৩০৬। কাষ্ট হয়েছে(৭৪.৬৭ শতাংশ) ১৭২২ ভোট। নির্বাচনে মো: তারিকুল ইসলাম(প্রতীক তালা) ৬৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: রিপন হোসেন (ফুটবল) প্রতীকে পান ৬১২ ভোট। অপর প্রার্থী আবুল কালাম পেয়েছেন ৪৫৭ ভোট। বিভিন্ন কারণে বাতিল ১৭ হয় ভোট।

    বায়রা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১৭৬৬। কাষ্ট হয়েছে (৬৫.৯৬ শতাংশ) ১১৬৫ ভোট। রিয়াজুল হক দেওয়ান (প্রতীক টিউবওয়েল) ৪০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ফারুক হোসেন দেওয়ান ( প্রতীক তালা) পান ২৯১ ভোট। অপর দুই প্রার্থী যথাক্রমে আব্দুল কাদের ১৯৩ ও তোফাজ্জল হোসেন ২৫৭ ভোট পেয়েছেন। বাতিল হয় ২২ ভোট।

    অপরদিকে জার্মিত্তা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দী কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় বিজয়ী হন মো.মামুন মোল্লা। মামুন ওই ওয়ার্ডের প্রয়াত ইউপি সদস্য মতিউর রহমানের ছেলে।

    ভোট দিতে আসা এক বৃদ্ধা বলেন, কত দিন হয় সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে ভোট দিইনা। মরার আগে সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পারবো কখনো ভাবিনি। সব ভোট যদি এমন হতো, তাহলে দেশের মানুষ অধিকার বঞ্চিত হতো না। শান্তিতে থাকতো। পছন্দের প্রার্থীকে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পেরে বেজায় খুশি এই বৃদ্ধা।

    রিটার্ণিং কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুব রোমান বলেন, তিনজন ইউপি সদস্যের মৃত্যুজনিত কারণে উপজেলার তিনটি ওয়ার্ড শুন্য হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনটি ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখোর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অনিয়ম ও কারচুপি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় তৎপড় ছিল। একারণে কোনো অনিয়ম হয়নি। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করেন।

    থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম জানান, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

    আরও পড়ুন