২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
পুলিশ বাহিনীকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করার পদক্ষেপ সিঙ্গাইরে সাত মামলার পলাতক আসামি ডাকাত রিয়াজুল গ্রেফতার এক দিনে ৪৭ মামলার রায়, হাসিমুখে বাড়ি ফিরলেন ৪৬ দম্পতি নোয়াখালী জেলা রোভারের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ পরশ ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের ভার্চুয়াল সভা পৌর নির্বাচন ও দলীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সিঙ্গাইর উপজেলা আ.লীগের বর্ধিত সভা গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর সাততলা থেকে ফেলে দেওয়া হয় ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঢাকা মহানগর উত্তর আ.লীগের অর্থ সম্পাদক হলেন শিল্পপতি সালাম চৌধুরী টিউশন ফি ছাড়া অন্য খাতে অর্থ নিতে পারবে না স্কুল-কলেজ
  • প্রচ্ছদ
  • সরকারি চার প্রতিষ্ঠানসহ সিঙ্গাইর পৌরসভার বকেয়া কর ৮৯ লাখ টাকা




  • সরকারি চার প্রতিষ্ঠানসহ সিঙ্গাইর পৌরসভার বকেয়া কর ৮৯ লাখ টাকা

    জনশক্তি রিপোর্ট (মানিকগঞ্জ)

    মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পৌরসভার বকেয়া করের পরিমাণ ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৪১১ টাকা। খেলাপি করের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদ, পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (বিআরডিবি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ। এর মধ্যে পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (বিআরডিবি) পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর আদৌ কর পরিশোধ করেনি। বারবার তাগাদা ও নোটিশ দেওয়ার পরও এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বকেয়া কর দিচ্ছেনা। ফলে পৌরসভাটি আর্থিক সংকটে পড়েছে। এতে করে কর্মকর্তা কর্মচারী, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় মিটাতে হিমশিম খাচ্ছে পৌর প্রশাসন। এতে ব্যাহত হচ্ছে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকা- ও নাগরিক সেবা।

    পৌরসভার রাজস্ব বিভাগের কর আদায় শাখা সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি পৌর কর বকেয়া রয়েছে সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদের। সরকারি আবাসিক ভবনসহ এই প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া করের পরিমান ১১ লাখ ১৭ হাজার ২৯৯ টাকা। এর পরেই আছে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (বিআরডিবি)। ২০০১ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর আদৌ কর পরিশোধ করেনি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪৫ টাকা। বকেয়া করের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া করের পরিমান ৩ লাখ ২২ হাজার ৬১২ টাকা। চতুর্থ নম্বরে আছে সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ। উপজেলার ঐতিহ্যবাহি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নিকট কর বাবদ পাওনা ৯৩ হাজার টাকা। এছাড়া সিঙ্গাইর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ বানিজ্যিক, আবাসিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলে আরো ৭০ লাখ ২৬ হাজার ৯৬৯ টাকা পৌর কর বকেয়া রয়েছে।

    পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন জানান, পৌরসভার নাগরিক হিসেবে আমরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করি। সে জন্য পৌরসভার প্রতি আমাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার বিনিময়ে আমাদের কর দিতে হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান যদি করখেলাপি হয়, তখন সাধারণ মানুষ কর দিতে নিরুৎসাহিত হবে।

    পৌরসভার সচিব তায়েব আলী জানান, পৌরসভাটি গ শ্রেণী থেকে খ শ্রেণীতে উন্নতি হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বেতন ভাতা ও সেবা খাতে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান প্রতিমাসে বেতন ভাতা ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ১৫ লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। সেই তুলনায় পৌরসভার আয় ও রাজস্ব আদায় বাড়েনি। খরচ অনুপাতে রাজস্ব আদায় না হওয়ায় পৌরসভার ব্যয়ভার মিটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    প্যানেল মেয়র সমেজ উদ্দিন বলেন, সিঙ্গাইর পৌরসভার আয়ের অন্যতম উৎস পৌর কর। সেই কর যদি সময়মতো না পাওয়া যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই যদি সময়মতো কর না দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কেন কর দিতে উৎসাহী হবেন?। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কর দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ।

    পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইঁয়া জয় কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর খেলাপী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও পৌরসভার নাগরিকদের কর পরিশোধের জন্য দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত ভাবেও বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। এরপরও কর পরিশোধ করছেননা তারা। এ অবস্থায় পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকা- ও নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এবার কর খেলাপীদের নির্দিষ্ট সময় সীমা বেঁধে দিয়ে চিঠি দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জনশক্তিিএমএম

    আরও পড়ুন