২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

সঞ্চয় ব্যয় করে সংসার চালাচ্ছেন সাভারের মধ্যবিত্তরা

বিশেষ প্রতিনিধি, সাভার:

করোনা ভাইরাসের কারণে সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়ায় সংকটে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত—সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরা। বেতন কমে যাওয়া, ব্যবসা বন্ধ হওয়াসহ নানাভাবে প্রায় সবারই আয় কমে গেছে। দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার কারণে মধ্যবিত্তরা অনেকেই বিত্তশালী স্বজনদের কাছে হাত পাতছেন। কেউ কেউ সংসারের খরচ মেটাতে নিজের সঞ্চয় ব্যয় করছেন।

গেল কয়েকদিন এই তিন উপজেলার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকগুলোতে কথা বলেও জানা গেছে, অনেকেই মেয়াদ না পূরণ হলেও এফডিআর, ডিপিএসের টাকা তুলে ফেলছেন। এছাড়া নতুন করে সঞ্চয় জমা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক গ্রাহক। নতুন করে এফিডিআর করাও কমে গেছে বলে জানা গেছে।

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে দেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের বড় একটি অংশের সঞ্চয়ের শেষ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকের বাড়ি ভাড়া, ছেলে-মেয়ের স্কুল-কলেজের বেতন, গৃহশিক্ষকের বেতন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিল বকেয়া পড়ে গেছে। এতে আত্মীয়-স্বজনের কাছে হাত পাতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকী স্থানীয় পর্যায়ে চড়া সুদে ঋণদাতাদের কাছে যেতেও বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। ইতোমধ্যে এসবের অনেক ঘটনা ঘটছেও বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে মাসখানেক হলো আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে আমানত ভেঙে খাওয়া তাদের বিকল্প কোনো পথ নেই।

সাভারের ব্যবসায়ী আমিন চৌধুরী বলেন, গেল কয়েকমাস ধরে ব্যবসাপাতি সব বন্ধ। মাল যা বিক্রি হচ্ছে তাতে দিনের খরচও উঠছে না। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। ঘরের সঞ্চয় খরচ করে ফেলেছি। এক ডিপিএস আর দুইবছর পর মেয়াদ পূর্তি হতো। সেটা ভেঙে ফেলেছি। সেটা সংসারে খরচ করছি।

একই কথা বললেন ধামরাইয়ের কাঁচামালের পাইকার জাবেদ আলী। তিনি বলেন, বাজারে একটু আকটু করে জিনিসপত্র আসছে। কিন্তু লোকজন কিনছে কম। ফলে ব্যবসা হচ্ছে কম। কোনমতে দিনের ব্যয় উঠছে। ব্যাংকের সঞ্চয় তুলে খরচ করছি। এভাবে কতদিন চলতে পারবো জানি না। ধারদেনাও করতে হচ্ছে।

সাভারের একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকরা প্রচুর টাকা তুলে নিচ্ছেন। অনেকে নিজের সঞ্চয় ভেঙ্গে ফেলছেন। নতুন করে সঞ্চয় জমা দিচ্ছেন না। মধ্যবিত্তদের উপর একটা চাপ পড়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে।

সাভারের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম হাসিনা দৌলা বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আয় রোজগার নেই। সারাদেশের মতো সাভার অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে জীবন চলার জন্য তাদের জমানো ক্ষুদ্র সঞ্চয়েই একমাত্র অবলম্বন করছেন অনেকে। করোনার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের বড় একটি অংশের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যাবে। আর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কর্মক্ষেত্র নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রচেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদেরকেও কিছুটা মিতব্যয়ী হতে হবে। ভোগবিলাস কিছুটা কমিয়ে পাশের মানুষের খোঁজ রাখতে হবে।

আরও পড়ুন