২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান




  • সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান

    জনশক্তি রিপোর্ট

    অর্থ আত্মসাতের দুই মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ১৩ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম মামলা আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, মামলার বাদি সাইফুল ইসলাম মাসুদ রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাসুদ এন্টার প্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। মামলার আসামি সাহেদ বাদির দোকান থেকে বিভিন্ন সময় রড ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন মালামাল নিতেন। মালামালের টাকা এক সময় দাড়ায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সাহেদ টাকা না দেয়ায় আজ এ মামলা করা হয়।

    এদিকে গত ৬ জুলাই সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে।

    পরে শনিবার সন্ধ্যায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামতসহ মামলার প্রধান আসামী ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
    অভিযানকালে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘আগে আমরা জানতাম, সাহেদের নামে ৩২টি মামলা রয়েছে। অভিযানের পর তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগীরা র‌্যাব ও থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সর্বশেষ আমরা আরও ২৩টি মামলার হদিস পেয়েছি। সবমিলিয়ে, সাহেদের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা রয়েছে। এর অধিকাংশ মামলাই প্রতারণা ও ব্যবসায়িক জালিয়াতি সংক্রান্ত’।

    সাহেদকে ধরতে সিলেট-মৌলভীবাজারে অভিযান
    সিলেট বিভাগে অবস্থান করছেন রিজেন্ট হাপাতালের মালিক মো. সাহেদ এবং সিলেট বিভাগের যেকোনো সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন, এমন সম্ভাবনায় তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিলেট নগরীর পাঠানপাড়ায় অবস্থিত সাহেদের শ্বশুরবাড়িকেও নজরদারিতে রেখেছে তারা।

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সাহেদ অবস্থান করছে এমন গুঞ্জনে তৎপর হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যেতে পারেন সন্দেহে কমলগঞ্জের শমশেরনগরে আকস্মিক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। আজ সোমবার সন্ধ্যা থেকে শমশেরনগর চৌমুহনা থেকে ভারতের ত্রিপুরাগামী সড়কের মুখে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দাঁড়িয়ে যানবাহন তল্লাশি শুরু করেন। সেইসঙ্গে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন রেস্ট হাউজে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ থেকে তাদের জানানো হয়েছে রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা কেলেঙ্কারির পলাতক প্রধান আসামি সাহেদ কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্ত পথে ভারতের ত্রিপুরা যেতে পারেন। তাই সতর্কতা হিসেবে পুলিশ সদস্যদের যানবাহন তল্লাশি চলছে।

    সোমবার বিকেল থেকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পর সন্ধ্যা থেকে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আনজির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শমশেরনগর চৌমুহনায় দাঁড়িয়ে যানবাহনগুলো তল্লাশি শুরু করেন।

    পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সাহেদের মুঠোফোন ট্র্যাক করে দেখা গেছে তিনি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থান করছেন। সর্বশেষ তাঁর অবস্থান ছিল কমলগঞ্জের শমশেরনগরে। তাই সোমবার বিকেল থেকে শমশেরনগর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়।

    শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে মো. সাহেদ চাতলাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা প্রবেশ করতে পারেন। তাই তাঁকে ধরার জন্য সতর্কতামূলক তদারকি চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার রাত পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের শমশেরনগর চৌমুহনায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

    এদিকে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। সাহেদকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন