২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • সিঙ্গাইরে আ. লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম




  • সিঙ্গাইরে আ. লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

    মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার জয়মন্টপ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহাদৎ হোসেন ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বোরহান ফকির গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    এসময় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা-জানালা ও দুটি মটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ দুজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাদাৎ হোসেন বাদি হয়ে প্রতিক্ষ বোরহান ফকির গ্রুপের ১৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ থেকে ১০ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

    থানা পুলিশ, প্রত্যেক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (৩০ মে) উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক এসএম আলমগীর হোসেনের ফুফাত ভাই রনির (২২) সঙ্গে উপজেলার কিটিংচর গ্রামের জুয়েলের হাতাহাতি হয়। এরই জের ধরে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের বিবাদমান দুইটি গ্রুপ জয়মন্টপ ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বোরহান ফকিরের লোকজন নতুন করে বিবাদে জড়ায়।

    রবিবার চেয়ারম্যান শাহাদৎ গ্রুপের জুয়েল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বোরহান ফকিরের লোক হিসেবে পরিচিত গাড়ি চালক দুলাল হোসেনকে মারধর করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জয়মন্টপ নতুন বাসস্ট্যান্ডে স্কুল মার্কেটের ভেতরে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মঞ্জুরুল করিম, নূর মোহাম্মদ, অনিক ও জুয়েলের নেতৃত্বে চেয়ারম্যান গ্রুপের ১০-১২ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেনের উপর হামলা করে।
    এসময় আলমগীর মার্কেটের ব্যবসায়ী রিপন হোসেনের দোকানে আশ্রয় নেয়। তখন হামলাকারীরা ওই দোকান ভাঙচুর ও আলমগীর হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরই জেরে প্যানেল চেয়ারম্যান বোরহান ফকিরের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা-জানালা ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
    এসময় মারধর করা হয় চেয়ারম্যান গ্রুপের নেতা নুর মোহাম্মদকে। এরপর শুরু হয় দাওয়া পাল্টা দাওয়া। খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেনের বাবা ফজল হক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামানকে আটক করে থানা পুলিশ।

    এদিকে সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ স্থির চিত্র সংগ্রহ করার সময় মাইটিভির স্থানীয় প্রতিনিধি মো. বাদল হোসেন ও তার সহকারীকে লাঞ্ছিত এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।

    হামলায় আহত উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মঞ্জুরুল করিম, নূর মোহাম্মদ, অনিক ও জুয়েলসহ ইউপি চেয়ারম্যানের ১০-১২ জন লোক হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর ধারাল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এ সময় আমাকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। আল্লাহ অশেষ কৃপায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছি। আলমগীর আরো বলেন, আমাকে মারধর করার পর চেয়ারম্যানের লোকজনই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা-জানালা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। ঘটনার পর অভিযোগ দেওয়ার কথা বলে আমার পিতা ফজল হককে বাড়ি থেকে কৌশলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তিনিসহ অন্যদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন ছোটদের মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য বোরহান ফকিরের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদের দরজা-জানালা ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। তারা আমার লোকজনকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছি।

    থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে থানা পুলিশ। সরকারি সম্পাদ নষ্ট, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও মারধর করার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহাদৎ হোসেন বাদি হয়ে প্রতিপক্ষের ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

    আটক ফজল হক ও মনিরুজ্জামান মনির হোসেনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের আজ মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়া সাংবাদিক বাদল হোসেন ও তার সহকারীকে লাঞ্ছিত এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন