২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
মালয়েশিয়ায় বেগম খালেদা জিয়া সুস্থতার জন্য মালয়েশিয়া বিএনপির দোয়া মাহফিল বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল করেছে মালয়েশিয়া যুবদল ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন কন্ঠশিল্পী মমতাজ সিংগাইরে শয়ন কক্ষ থেকে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার মানিকগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭ জন সালথায় সহিংসতায় ৪ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ ‘শিশু বক্তা’ মাওলানা রফিকুল ইসলামকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ! সিঙ্গাইর সদর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক সেলিম ও যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাম ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদ ও থানা ঘেরাও, এসিল্যান্ড অফিসে আগুন সিঙ্গাইরে লকডাউন কার্যকরে তৎপর প্রশাসন
মোট আক্রান্ত ১১৫

সিঙ্গাইরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯১ জনের করোনা জয়, মৃত্যু ৩

মোবারক হোসেন:

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে দিনদিন করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। শ্রক্রবার (৩ জুলাই) পর্যন্ত উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১১৫ জনে। আর মারা গেছেন তিন জন। একই সময়ে করোনা জয় করে সুস্থ হয়েছেন উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভূইয়াসহ ৯১ জন। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: সেকেন্দার আলী মোল্লা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডা: মো: সেকেন্দার আলী মোল্লা জানান, উপজেলার ৮৫০ জন বাসিন্দার নমুনা সংগ্রহ করে তা পরিক্ষার জন্য সাভারের প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট ও রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাগারে(আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১১৫ জনের করোনা পজিটিভ আসে। ৩ জুলাই পর্যন্ত উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভূইয়াসহ ৯১ জন করোনা জয় করে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন। আর মারা গেছেন তিন জন। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার জয়মন্টপ গ্রামের ব্যবসায়ী বাদল সাহা, সিঙ্গাইর পৌরসভার আজিমপুর গ্রামের ইউনুছ আলী ও বলধারা ইউনিয়নের জৈল্লা গ্রামের রফিকুল ইসলাম। আক্রান্তদের মধ্যে দুই থেকে তিন জন জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন আর বাকিরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ১২ জুন জেলা সদর হাসপাতালে নমুনা দেন তিনি। ১৭ জুন তার করোনা পজেটিভ আসে। এরপর তিনি হোম আইসোলেশনে চলে যান। হোম আইসোলেশনে ১৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ্যতাবোধ করলে গত ২৯ জুন আবার নমুনা দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তার রিপোর্ট নেগিটিভ আসে।

করোনা জয়ের পর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভূইঁয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত পেজ-এ এক মর্মস্পর্শী আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হয়। এতে অনেকেই চেয়ারম্যানের সুস্বাস্থ্য ও শুভ কামনা জানিয়ে লাইক কমেন্ট করেন।

চেয়ারম্যানের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
ইতিহাসঃ কোভিড-১৯ মানুষ, মনুষ্যত্ব ও বিকৃত বিবেক সবই পৃথিবী নামক নাট্যশালার একটি অংশ, যা কিনা কোভিড- ১৯ নামের দুনিয়া কাঁপানো মহামারিতেও অবস্থানগত জায়গা থেকে কিঞ্চিত বিচ্যূত হয়নি। আল্লাহ সকলকে হেদায়েত দান করুন।

কোভিড- ১৯ আক্রান্ত মানুষগুলোর প্রতি সরকার যে সহনশীলতার বাণী প্রচার করে যাচ্ছে তা রীতিমত প্রশংসনীয়। অতঃপর ধন্যবাদ জানাতে কৃপণতা করা হবে আরো অভিশপ্ত। সর্বপরি অনেক ভালোর মধ্যেও কিছু পোকা থেকেই যায়। যেমন এক মন দুধে এক ফোঁটা গো চোনা। বাস্তবতা জীবনে অনেক কিছুর শিক্ষা দেয়। তবে আল্লাহ যা করেন সব সময় মানুষের কল্যাণের জন্যই করেন। সময়ের পরিক্রমায় মানুষ, মনুষ্যত্ব এবং বিকৃত বিবেক কোথাও কোথাও ইতিহাস হয়ে থাকবে করোনার চাইতেও ভয়ংকর রুপে এবং বিভিন্ন চরিত্রে। এর একটি চরিত্রকে পরবর্তী প্রজন্ম যুগযুগ অনুসরণ করবে জীবনের পাথেয় হিসেবে। আর অপরটিকে চরম ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে মীরজাফর ও হিটলার প্রতিচ্ছবি ভেবে।

মহান আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় করছি এজন্যই যে তিনি আমাকে সব সময় হেফাজত করেই চলছেন। আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে উঠেছি। অসুস্থকালীন সময়ের বহু স্মৃতি, বহু ঘটনা, বহু কষ্ট হৃদয়ে নাড়া দেয় প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। স্মৃতিচারণে কখনো কখনো আবেগে আপ্লুত হয়ে পরি। সবই নিয়তির নির্মম পরিহাস। আমার ৬ বছরের অবুঝ মেয়ে যখন বাবার স্পর্শ পেতে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে আঙুল দেখিয়ে বলে আর কয়দিন একা থাকবো বাবা? পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া অসুস্থ ছেলে যখন বিছানায় শুয়ে বিধাতার নিকট প্রার্থনায় মগ্ন বাবার রোগমুুক্তির জন্য, অসুস্থ মা সারাক্ষণ জায়নামাজে ছেলের জন্য প্রভুর দরবারে কান্নায় ব্যস্ত, অবসরপ্রাপ্ত বাবা দিশেহারা কি করবে ? আর স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে জীবন বাজি রেখে ভয়কে জয় করে নিজেকে শতভাগ উজাড় করে দিয়ে সেবায় ক্লান্ত স্ত্রী, সকল শুভানুধ্যায়ী, আত্মীয় স্বজন, হাজারো ভালবাসার মানুষরা যখন আল্লাহর কাছে তাদের প্রিয় মানুষটির জন্য দোয়ায় ব্যস্ত, ঠিক তখন উত্তর গগনে কাল বৈশাখী মানুষ রুপী দানবগুলো হিংস্র হয়ে উঠে। ততক্ষণে নিজে অনেকটাই জীবন্ত লাশ। কোভিড- ১৯ বাসা বেঁধেছে শরীরে।

হৃদয় থেকে রঙিণ পৃথিবী তখন সাদা কাফনের রঙ্গে মুরিয়ে দিচ্ছে, ক্লান্ত দেহ আর অস্থির মন পৃথিবীর মায়া ভুলে যাচ্ছে। তখনো ক্ষ্যান্ত হয়নি দায়িত্বশীল কিছু মানুষরূপী নরপিশাচ। আমাকে যেভাবে মানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে হুমকি দেওয়া হয়েছে তা হয়তো ভুলে যাবো কিন্তু আমার অসহায় নিরীহ সহজ সরল ছাত্র জনতার উপর যে অন্যায় করা হয়েছে তা হয়তো সাধারণ জনগণ কোনদিন ভুলবেনা। এটাই নতুন ইতিহাস।

শুনেছি বর্ষাকালে নাকি ছাগলেও বাঘের গাল চাটে। কোভিড-১৯ হয়তো একদিন থাকবেনা। আবার এ পৃথিবী ফিরে পাবে সুস্থ জীবনযাত্রা। আলোকিত হবে মানুষের মন। ফিরে পাবে বিশুদ্ধ সুবাতাস। প্রত্যাশা অবিরাম বেঁচে থাকার জন্য। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। মহান আল্লাহপাক সকলকে ভালো রাখুক। আল্লাহ হাফেজ।

আরও পড়ুন