২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে

সিঙ্গাইরে ৩৯ লাখ টাকাসহ ই-ভ্যালির তিনকর্মী আটক

জনশক্তি রিপোর্ট:

পণ্য কিনলেই অর্থ ফেরতের অস্বাভাবিক ‘ক্যাশব্যাক’ অফার দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালি ইকমার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মীকে প্রায় ৩৯ লাখ টাকাসহ আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ আগষ্ট) দুপুর দুইটার দিকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল নোয়াদ্দা বাজারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় অফিস থেকে তাদের আটক করেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা। আটককৃতরা হলো-ই-ভ্যালি ইকমার্স-এর স্খানীয় অফিসের ব্যবস্থাপক বিপ্লব হোসেন (২৪), সহকারি ব্যবস্থাপক রবিদুল ইসলাম (২৭) ও অফিস সহকারি মো: জামাল হোসেন (৩৮)। তবে এঘটনার প্রেক্ষিতে ই-ভ্যালি কর্তৃপক্ষ তাদের  “Evaly.com.bd” ফেজবুক পেইজে আটককৃতরা ই-ভ্যালির কেউ নন এবং ‘মানিকগঞ্জে “ইভ্যালির কোনো শাখা’ অফিস নেই দাবি করে একটি স্টাটাস দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, সাত মাস আগে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল নোয়াদ্দা গ্রামের ফজল হকের ছেলে কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী হেনা আক্তার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি দ্বিতল ভবনে ডিজিটাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান “ই-ভ্যালি ইকমার্স” নামে একটি অফিস খোলে ব্যবসা শুরু করে। অফিস নেওয়ার পর থেকে যে কোনো পণ্য কিনলে ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক বা ১০০ টাকার পণ্য কিনলে সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি অর্থ ফেরত দেওয়ার লোভনীয় অফার দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সহজ সরল লোকজনের কাছ শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিন তারা লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি পর্যন্ত টাকা সংগ্রহ করে। কিন্তু টাকা পরিশোধ করার পরও নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ না করে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন তারা। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে সোমবার (২৪ আগষ্ট) দুপুর  দুইটার দিকে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ওই অফিসে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক হেনা আক্তার ও তার স্বামী কামাল হোসেন সটকে পড়ে। এসময় পালানোর প্রস্তুতিকালে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) বিপ্লব হোসেন, সহকারি ব্যবস্থাপক রবিদুল ইসলাম ও অফিস সহকারি মো: জামাল হোসেনকে আটক করা হয়। সেখান থেকে জব্দ করা হয় নগদ ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা, ৫টি মুঠোফোন সেট ও প্রতিষ্ঠনটির মানি রিসিট ও প্রযোজনীয় কাগজপত্র।

ইউএনও রুনা লায়লা আরো জানান আটককৃত ব্যক্তিরা তাদের কার্যক্রমের স্বপক্ষে সদোত্তর দিতে পারেনি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া একটি ট্রেড লাইসেন্স ব্যতিত বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শক্রমে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে অংশ নেওয়া সিঙ্গাইর থানার উপপরির্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিরা এখনো উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে আছে। থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। উপজেলা  প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এঘটনার প্রেক্ষিতে ই-ভ্যালি কর্তৃপক্ষ তাদের  Evaly.com.bd ফেজবুক পেইজে আটককৃতরা ই-ভ্যালির কেউ নন এবং মানিকগঞ্জ তথা সিঙ্গাইরে তাদের কোনো শাখা অফিস নেই দাবি করে একটি স্টাটাস দেন।

স্টাটাসে বলা হয়, “ইভ্যালির ‘মানিকগঞ্জ শাখা’ বলতে আমাদের ইভ্যালির কোন শাখা নেই, এধরনের কোন শাখার কার্যক্রম নেই। বাংলাদেশে ইভ্যালির একটি কার্যালয় আর সেটি হচ্ছে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ১৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত অফিস। একই সাথে উল্লেখ থাকছে যে, ইভ্যালির ‘শাখা ম্যানেজার’ পদবীয় ব্যক্তিসহ আরও যে দুই জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, তারা কেউই ইভ্যালির সাথে কোনভাবে সম্পৃক্ত না। তারা ইভ্যালির কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা নন। ইভ্যালির মতো একটি দেশিয় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করাও এধরনের অপরাধের পেছনে উদ্দেশ্য হিসেবে থাকতে পারে। আমরা এই ধরনের কাজের তীব্র নিন্দা জানাই এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি সাধুবাদ জানাই যে তারা এমন একটি অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় এনেছেন”।

আরও পড়ুন