১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

সিঙ্গাইর পৌরসভার মেয়র হতে চান আ.লীগ নেতা বারেক খান

মোবারক হোসেন:

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে হতে পারে পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি দেখে এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করেছে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। আসন্ন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন সি্ঙ্গাইর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্দুল বারেক খান। সম্প্রতি তিনি প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে দলটির শীর্ষ মহলে জোড় তৎপড়তা শুরু করেছেন। পাশাপাশি চেষ্টা করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও পৌর এলাকার সব শ্রেণী পেশার মানুষের মনজয় করার। মেয়র হয়ে সিঙ্গাইর পৌরসভাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করে একটি আধুনিক উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান এই আওয়ামী লীগ নেতা। সে লক্ষ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন তিনি।

হাজী আব্দুল বারেক খান ১৯৬৯ সালের ১৫ অক্টোবর উপজেলার চর আজিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা সিঙ্গাইর সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো: আলী খান ও মাতা সুফিয়া খানম। বর্তমান সিঙ্গাইর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের আঙ্গারিয়া মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। বারেক খান ব্যবসা ও রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে তিনি তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন। হয়েছেন আর্থিক ও সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত।

আব্দুল বারেক খান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সিঙ্গাইর পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির চারবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও সিঙ্গাইর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য। এর আগে তিনি ঐতিহ্যবাহি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দুই মেয়াদে অভিভাবক সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি সিঙ্গাইর তা’লিমুল ইসলাম মহিলা মাদ্রাসা, সিঙ্গাইর নামা বাজার বায়তুন নুর জামে মসজিদ এবং সামাজিক সংগঠন সিঙ্গাইর উপজেলা লোকমোর্চার (ওয়েব ফাউন্ডেশন) সভাপতি, সিঙ্গাইর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও আজিমপুর গিয়াস উদ্দিন খান কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দেশ বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ভূমিধস বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। নির্বাচনে অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি খরচ করেন ব্যক্তিগত অর্থ। সে কারণে সংসদ সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের গুডবুকে নাম রয়েছে তার।

এছাড়া চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভিইরাস ও বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পৌর এলাকার অসহায় দারিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাহায্য সহযোগীতা করে জনসাধারণের প্রশংসা কুড়িয়েছেন হাজী আব্দুল বারেক খান। সারা বছরই তিনি মসজিদ-মাদ্রাসা মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান ও অসহায় দরিদ্র মানুষকে সাহায্য সহযোগীতা করেন।

হাজী আব্দুল বারেক খানকে নিয়ে কথা হয় সিঙ্গাইর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী শহিদুল ইসলাম, পৌর সভার ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রিয়াজুল ইসলামসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, তার সহযোগী সংগঠনের একাধিক দায়িত্বশীল নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী এবং সমাজের নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে। তাঁরা বলেন, বারেক খান একজন সমাজ হিতৈশী মানুষ। ধর্মীয় কাজ ও শিক্ষা বিস্তারে রয়েছে তাঁর প্রচন্ড আগ্রহ। দক্ষ সংগঠক ও ভাল মানুষ হিসেবে সমাজের সর্বমহলে রয়েছে তার বেশ জনপ্রিয়তা। তাঁর মতো মানুষ পৌর মেয়র হলে দল ও সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের হাত শক্তিশালী হবে। আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে পৌরবাসীর।

হাজী আব্দুল বারেক খান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের হাত ধরে দীর্ঘদিন হলো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। কখনো দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হয়নি। জড়ায়নি কোন অনৈতিক কাজে। দীর্ঘদিন ধরে দল ও এলাকার মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে আসছি। বিপদ-আপদে সব সময় দলীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম। সেবার পরিধি বাড়াতে দলীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও এলাকার সচেতন মহলের অনুরোধে পৌর মেয়র হওয়ার ইচ্ছা পোষন করছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দল আমার কাজের মুল্যয়ন করবে। আমার থেকে যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দিলে আমি তার পক্ষে কাজ করবো। মনোনয়ন পেলে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আমি মেয়র হলে শাসক নয়, সেবার মানসিকতা নিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে সিঙ্গাইর পৌরসভাকে মাদকব্যবসা, চুরি-ডাকাতি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করে একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো। দলীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী এবং পৌরসভার সব শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে দোয়া ও আর্শিবাদ প্রত্যাশা করেন তিনি।

আরও পড়ুন