২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে কুবি শিক্ষার্থী আটক




  • হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে কুবি শিক্ষার্থী আটক

    জনশক্তি রিপোর্ট: হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে কুবি শিক্ষার্থী আটকহিন্দুধর্ম নিয়ে কটুক্তির দায়ে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে। ময়নুল হোসেন আবির নামের ঐ শিক্ষার্থীর নামে খোলা এক ফেসবুক আইডি থেকে হিন্দুধর্মাবলম্বী এবং হিন্দুধর্মের দেবী দুর্গাকে নিয়ে করা কটুক্তির দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এস আই (নিঃ) খালেকুজ্জামান বাদী হয়ে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ২৮(১) এবং ৩১(১) ধারায় তার নামে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা এলাকার আমির হোসেনের ছেলে ময়নুল হোসেন (২৩) গত ১৯ মে আনুমানিক রাত ১০ টা ৫২ ঘটিকায় তার আইডি “Moinul Islam Abir” থেকে “Ashiqur Rahman Rabbani” নামক একজনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে “বাংলাদেশের মালাউনগুলোকে জুতাপেটা করে ভারত্র পাঠিয়ে দেয়া হোক।

    সেখানে গিয়ে তাদের সেক্সি মা দুর্গার সাথে সেক্স না করলে এদের বুদ্ধি হবেনা। বাংলাদেশের মাটিতে মালাউনদের ঠাঁই নাই” এই মর্মে মন্তব্য করে। তারই প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে ২০ মে মামলার বাদী এসআই খালেকুজ্জামান সন্ধ্যায় ফোর্সসহ তাকে সুকৌশলে গ্রেফতার করেন বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮মে (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাকিং বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী জয়দেব চন্দ্র শীল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘ভয়েস অব আমেরিকার’ ভেরিফায়েড পেইজে ইসলাম ধর্ম এবং মহনাবী (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের পর ১৯ মে আনুমানিক রাত সাড়ে ১১ টায় এঘটনায় ১৯ মে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে ‘শ্যামল চন্দ দাস’ নামের একটি ফেসবুক একাউন্টের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো: ময়নুল হোসেন ওরফে মইনুল ইসলাম আবিরের একাউন্ট হতে একটি গ্রুপে হিন্দু ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। যদিও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে অভিযুক্ত ময়নুল, আশিকুর রহমান রাব্বানীর এক পোস্টে এই অবমাননাকর মন্তব্যটি করেন।

    এ স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। পরে ময়নুল তার আইডি থেকে অন্য একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করেন যে এই মন্তব্যটি তিনি করেননি। তার দাবি অনুযায়ী, “কেউ আমার নাম এবং ছবি ব্যবহার করে ভুয়া একাউন্ট খুলে এমন একটি মন্তব্য করে আমাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে।” তবে স্ক্রিন শট ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ‘শ্যামল চন্দ্র দাস’ নামক একাউন্টে দেখা যায় যে এই একাউন্টটির ইউজার নেইম ‘moynulislam.abir.35’ একই পোস্টে ময়নুল দাবি করেন যে, তাকে ফাঁসিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক সংর্ঘষ তৈরীর জন্যই একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তার নামে একাউন্ট খুলে তা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। ওই রাতেই ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা লোক ময়নুলের খুঁজে তার বাসায় যায় ।

    এ ঘটনার পর সোমবার (২০ মে) ময়নুল কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারন ডায়রী করতে যায়। তবে পুলিশ জানায় তার পক্ষ থেকে কোন জিডি নথিভুক্ত হয়নি। এ ব্যাপারে জিডি করতে যাওয়ার সময় তার সাথে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম হানিফ জানান, “আমিসহ কয়েকজন তাকে নিয়ে তার নিরাপত্তার জন্য জিডি করতে যাই। একজন ওসি এবং এসআই তার সব কথা শুনে এবং মোবাইলের সবকিছু দেখে তাকে বলেন এএসপি আব্দুল্লাহ আল মামুন আপনাদের জিডি কপি দেবেন। পরে জিডি কপি আর দেয়া হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অধিকতর তদন্তের জন্য তাকে একদিন আমাদের জিম্মায় থাকতে হবে।

    পরে মামলার নথি অনুযায়ী ২০ মে রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তাকে কোন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট তথ্য জানায়নি পুলিশ। এ ব্যাপারে মামলার বাদী এস আই খালেকুজ্জামান তার সিনিয়র অফিসার থানায় উপস্থিত না থাকায় কোন ধরণের মন্তব্য করতে রাজি হননি। ময়নুলের সাথে তার মেসে থাকা অন্যান্য বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কমেন্ট ভাইরাল হওয়ার পর ময়নুল আর সেই বাসায় আসেননি।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় মো: ময়নুল হোসেনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    ময়নুল হোসেন আবির এর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোঃ কামালউদ্দিন জানান, “ময়নুল এর ব্যাপারে যে অভিযোগ তা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কিছু নয়। তার ব্যাপারে আইনশৃঙখলা বাহিনী তদন্ত করছে। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে তাকে আইনের মধ্যে থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার তা বিশ্ববিদ্যালয় করবে। সে দোষী হলে বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত স্বাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”

    Print Friendly, PDF & Email

    আরও পড়ুন