১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার কমেছে, বেড়েছে সুস্থতা

জনশক্তি ডেস্ক

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ১৩৫তম দিনে পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার কমেছে এবং বেড়েছে সুস্থতা। গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ হাজার ৩৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৯২৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল ১০ হাজার ৬২৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৪৫৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার ১ দশমিক ২৩ শতাংশ কম।

দেশে এ পর্যন্ত মোট ১০ লাখ ৪১ হাজার ৬৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৭ হাজার ৪৫৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।
আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯১৪ জন। গতকালের চেয়ে আজ ১৩ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন।গতকাল ৩৭ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৬৬৮ জন।

তিনি জানান, করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ মৃত্যুর হার দশমিক ০১ শতাংশ বেশি।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। গতকালের চেয়ে আজ ৩৬৮ জন বেশি সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ৫৪৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৫৬ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৩২৯ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১০ হাজার ৯৩৫ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ২ হাজার ৩৯৪টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৮০টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬২ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১০ হাজার ৬২৫ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ২ হাজার ৭৩৭টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ৫০ জনের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ ও নারী ১৫ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে ৪২ জন ও বাড়িতে মারা গেছেন ৮ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ১০৪ জন; ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং নারী ৫৬৪ জন; ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ২০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, শূন্য থেকে ১০ বছরের ১ জন রয়েছে। এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন; দশমিক ৬৭ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৯ জন; ১ দশমিক ০৯ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮০ জন; ৩ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৮২ জন; ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৮১ জন; ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭৮৭; ২৯ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ১ হাজার ১৯১ জন; ৪৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, সিলেট বিভাগে ৩ জন, বরিশাল ও রংপুরে বিভাগে ২ জন করে ৪ জন, খুলনা বিভাগে ১০ জন। এ পর্যন্ত বিভাগওয়ারী মৃতের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৩০৫ জন; যা ৪৮ দশমিক ৯১ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৭৩ জন, যা ২৫ দশমিক ২২ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে ১৪৪ জন, যা ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ; খুলনা বিভাগে ১৭৩ জন, যা ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে ১শ’ জন, যা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ; সিলেট বিভাগে ১২৫ জন, যা ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ; রংপুর বিভাগে ৯০ জন, যা ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৮ জন, যা ২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৫টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮১ জন, ২৪ ঘন্টায় রোগী ভর্তি হয়েছে ২৭৭ জন এবং শয্যা খালি আছে ৪ হাজার ৭৯২টি। ঢাকা মহানগরীতে আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৬৭ জন এবং খালি আছে ১৩১টি শয্যা। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬৫৭টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২৯৪ জন এবং শয্যা খালি আছে ৩৬৮টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ২১ জন এবং খালি আছে ১৮টি শয্যা। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ৭০২টি, ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮২৪ জন, খালি আছে ৫ হাজার ৯০৯টি শয্যা। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১৯৩ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৯৫ জন। খালি আছে ১০৩টি আইসিইউ শয্যা। সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৬৮টি, রোগী ভর্তি আছে ৪ হাজার ৩৯৯ জন এবং খালি আছে ১১ হাজার ৬৯টি শয্যা।সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৪৬২টি, রোগী ভর্তি আছে ২৮৩ জন এবং খালি আছে ১৫২টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ২৩৩টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ২৭৫টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১১০টি।

০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৮২৩ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৮০২ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৪২ হাজার ৯৭০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৬১২ জন।

তিনি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৪৮৪ জনকে। এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ১২ হাজার ৪৮১ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৯০৬ জন এবং এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৯ জন ছাড় পেয়েছেন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৯ হাজার ৪৩২ জন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কোভিড ১৯ বিষয়ক সুরক্ষা সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির গ্লাভস ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ১১ হাজার ৫৫৯টি, মজুদ আছে ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৮২৪টি। বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও লেভেলের মাস্ক ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ১৮ হাজার ৬২৪টি, মজুদ আছে ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৭টি। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৯ হাজার ১৮৩টি, মজুদ আছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭৪টি এবং ফেইসশিল্ড ও গগলস ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৫ হাজার ৩৫০টি, ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮১৭টি মজুদ রয়েছে।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ৯৯ হাজার ৬৯৮টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৯টি ফোন কল রিসিভ করে টেলিমেডিসিন, স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৯৮ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় যুক্ত হয়েছেন ৩ জন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ৪১৭ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ১ লাখ ২ হাজার ১৩৩ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ৫৯৩ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৩ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৯ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ হাজার ৪৫৩ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৪০৭ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৩৬ জন এবং এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৫৪৩ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৯ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৫ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৪৯৬ জন এবং এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮৩ জন বলে তিনি জানান।

বুলেটিন উপস্থাপনের শুরুতে চট্টগ্রাম বিভাগে সেবা প্রদানকারী করোনা হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানগুলোয় সহযোগিতা করায় এস আলম গ্রুপ, ইস্পাহানি গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ ও ভাষাবিদ এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার ভাষাবিদ এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে চাঁদপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ প্ল্যান্ট স্থাপন হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান তিনটি হাইফ্লো নেজাল ক্যানলা অনুদান দিয়েছে। চাঁদপুরের ভাষাবিদ এম এ ওয়াদুদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং তিনি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পিতা।

গ্রুপগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাসিমা সুলতানা বলেন, এস আলম গ্রুপের অর্থায়নে চট্টগ্রামে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৫ লাখ টাকা খরচে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে শিল্প গ্রুপটি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সুরক্ষা সরঞ্জাম সামগ্রী, এয়ার কন্ডিশন ও হাইফ্লো নেজাল ক্যানলা প্রদান করে আসছে। সর্বশেষ ১৭ জুলাই শিল্প গ্রুপটি ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল, আইসোলেশন সেন্টারগুলোয় ১শ’টি হাইফ্লো নেজাল ক্যানলা এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কক্সবাজারের ২৫০ শয্যার হাসপাতালের দু’টি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছে।
তিনি জানান, ইস্পাহানি গ্রুপের অর্থায়নে চট্টগ্রামের ফৌজারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজেসের করোনা ইউনিটে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম সংযোজন করা হয়। যা ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগে নিজস্ব অক্সিজেন থেকে সরকারি করোনা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে শূন্য হয়ে যাওয়া অক্সিজেন সিলিন্ডারে নিয়মিত বিনামূল্যে পুনঃভর্তি করে দেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই শিল্প গ্রুপটি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করছে।

নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘এসব শিল্প গ্রুপ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, দানশীল ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের বেশকিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতোমধ্যেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। নিয়মিত সুরক্ষা সরঞ্জামসহ দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য খাবার প্রদান করা হচ্ছে। আমরা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকলের সমন্বিত চেষ্টায়, সবার অংশগ্রহণে এই মহামারি আমরা মোকাবিলা করছি। আমরা এই মহামারি থেকে নিশ্চয় মুক্তি পাবো।’
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।

আরও পড়ুন