২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

৫ টাকার জন্য দাদিকে কুপিয়ে হত্যা

জনশক্তি ডেস্ক:

পাওনা পাঁচ টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে দাদি হেনা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে নাতি রিপন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান। গত বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সেনেরমাকুল্যা গ্রামে রান্নাঘরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন হেনা বেগম (৭০)। তিনি গ্রামের তালেব আলী মণ্ডলের স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, দুপুরে হেনা বেগম বাড়িতে একা ছিলেন। তাঁর স্বামী ও ছেলে বাড়ির বাইরে ছিলেন। বেলা দুইটার দিকে তাঁরা বাড়ি ফিরে রান্নাঘরে হেনা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে অনিক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুধবার সন্ধ্যায় একই এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রিপনকে (২৫) আটক করা হয়। রিপনের বাবা নিহত হেনা বেগমের ভাতিজা। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রিপন কুপিয়ে হেনা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাঁদের বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা জব্দ করা হয়।
ওসি বলেন, রিপন আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাঁকে আজ টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলম তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে রিপন জানিয়েছেন, তিনি হেনা বেগমের কাছ থেকে কিছুদিন আগে পাঁচ টাকা ধার নিয়েছিলেন। দুপুরে রান্না করার সময় রিপন সিগারেট ধরানোর জন্য তাঁর কাছে আগুন চাইতে যান। হেনা বেগম পাওনা টাকা চেয়ে কটূক্তি করায় রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি দা দিয়ে হেনা বেগমকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যান।

রিপন টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি। পরে গ্রামেই থাকতেন।

আরও পড়ুন